ইলাহ্

একজন ফেল করা ছাত্রকে ধরা যাক । ধরলাম গণিত পরীক্ষায় সে ফেল করেছে । কারণ আর কি হতে পারে, সে পড়াশোনা করেনি, তাই ফেল করেছে । তবে সে কিন্তু জানত যে, সে যদি পড়াশোনা না করে তাহলে ফেল করবে । যদিও সে জানত যে পড়াশোনা করাটা দরকার, না করলে ফেল করবে এইটা তার দৃঢ় বিশ্বাস । ক্লাশে যে ফার্ষ্ট হয়েছে সে যেরকম বিশ্বাস করে যে পড়াশোনা করতে হবে, ঐ ফেল করা ছাত্রটাও কিন্তু একই কথা একইভাবে বিশ্বাস করে । তাহলে দুইজনের মাঝে তফাত্টা কোথায় ? তফাত্টা সহজ । একজন বিশ্বাস করেছে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করেছে, আরেকজন সেইটা করেনি । এখন রেজাল্ট বের হওয়ার পর সেই ফেল করা ছাত্রটা যদি শিক্ষকের কাছে গিয়ে বলে, স্যার, আমি ১০০% বিশ্বাস করতাম যে, পড়াশোনাটা করা দরকার এবং এটা সত্যি । তাহলে কি বলা যাবে যে, সেই শিক্ষক কি তাকে পাশ করিয়ে দিবে ? ইসলামের বিশ্বাসটাও আমার কাছে ঠিক সেরকমই মনে হয় । শুধু বিশ্বাস করলাম আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই, কিন্তু যে কাজগুলো করে আমরা নিয়মিতই শিরক করছি বা আল্লাহর পাশে অন্য কাউকে বসাচ্ছি বা অন্য কোন জিনিসকে বছাচ্ছি, তাহলে কি আমরা বলবো যে আমরা পাশ করব ?
ইলাহ্ যে শুধু কোন বস্তুগত জিনিস হবে এমন অবশ্যই না । ইলাহ্ হতে পারে । মানুষের চিন্তাধারা, কোন আইডিয়া, পরসমালোচনা কে ভয় করা ইত্যাদি । যদি আমরা সুদ দেই অথবা নিই, তাহলে আল্লাহর কাছে আমরা অপরাধী হব । কারণ, সুদ দিতে অথবা নিতে আল্লাহ্ কুর্আনে সরাসরি নিষেধ করেছেন । কিন্তু আমরা যদি বলতে থাকি, আরে ধুর, সুদ ছাড়া হয় নাকি । সুদ ছাড়া আধুনিক অর্থনীতি চিন্তাই করা যায় না । কিংবা ১০ বছর পর ছেলেমেয়ের বিয়ের জন্য ডিপিএস করে টাকা জমাই, মানে সুদ নিই, এবং ভাবতে থাকি, এরকম না করলে ছেলেমেয়ের বিয়ে বা পড়াশোনা হবে কিভাবে ? তাহলে আমরা আসলে সরাসরি আল্লাহ্কে চ্যালেঞ্জ করছি । আল্লাহ্, যে সব কিছু সৃষ্টি করেছেন, এই মহাবিশ্বের সবকিছুই যার, তিনি যখন আমাদেরই ভালোর জন্য সুদ নিতে বা দিতে নিষেধ করেছেন, তখন আমরা বলছি, সুদ ছাড়া ব্যাংকিং এর কথা ভাবতেই পারছি না । আমরা এত অহংকারী যে, আল্লাহ্ সরাসরি আমাদেরকে একটা জিনিস করতে না করছেন, আর আমরা বলছি ধুর, সুদ ছাড়া চলে নাকি । এইখানে আমরা এইযে সুদ ছাড়া চলে নাকি, এই আইডিয়াকে ইলাহ্ হিসেবে গ্রহণ করছি এবং শির্ক করছি । এইখানে একটু খেয়াল করো, যখন আমরা কুর্আনের শিক্ষাটাকে মেনে নিচ্ছি, কিন্তু যেই কারণেই হোক, ভুল করে সুদ নিচ্ছি বা দিচ্ছি, এবং বিশ্বাস করছি যে এটা খারাপ, তখন আমরা অপরাধ করছি, কিন্তু শির্ক করছি না । কিন্তু যখন আল্লাহর দেয়া আইডিয়াকে আমরা পাত্তাই দিচ্ছি না, সুদের ঊপর ভিত্তি করে অর্থনীতিটাকে গড়ে তুলছি, তখন আমরা শির্ক করছি ।
এই একই ধরণের চিন্তাভাবনা অনেক ক্ষেত্রেই করা যায় । আল্লাহ্ সরাসরি আমাদেরকে হিজাব করতে বলেছেন । আমরা যদি না করি, সেইটা আমাদের অপরাধ । কিন্তু আমরা যদি বলি এবং ভাবতে শুরু করি যে, আরে কিসের হিজাব, কোন দরকারীই নাই । সেইক্ষেত্রে আমরা শির্ক করছি ।

Collected & Edited

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: