শিরক কেন ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ? P-3

সে দিনের ভয় কর যেদিন কোন সত্ত্বা অন্য কোন সত্ত্বার সাহায্যে এগিয়ে আসবে না এবং তার থেকে কোন সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না এবং তার থেকে কোনো ক্ষতিপূরণও নেওয়া হবে না এবং তাদেরকে কোনই সাহায্য করা হবে না। [বাকারাহ ২:৪৮]
কোনো পীর, গুরু কিয়ামতের দিন কোনো মুরিদের সাহায্যে এগিয়ে আসবে না। সেই সুযোগই তাকে দেওয়া হবে না। সে নিজের হিসাব দিতেই ব্যস্ত থাকবেঃ
সেদিন তাদের মুখ সিল করে দেওয়া হবে, তাদের হাত আমাকে বলে দিবে, তাদের পা আমাকে সাক্ষী দিবে, তারা (দুনিয়ায়) কি করতো। [ইয়াসিন ৩৬:৬৫]
একটা ধূলিকণার সমান বা তার চেয়ে ছোট বা বড় যা কিছুই পৃথিবীতে বা আকাশে যেখানেই থাকুক না কেন, তা তোমার প্রভুর অগোচরে নেই। বরং সবকিছুই লেখা আছে এক পরিস্কার রেকর্ডে। [ইউনুস ১০:৬১]
এই সব সত্য মানুষের কাছে ফাঁস হয়ে গেলে সর্বনাশ! কোটি কোটি টাকার মূর্তি এবং মন্দিরের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে, পাদ্রীর কাছে মানুষ তদবির করা বন্ধ করে দিবে, মাজারে আর কেউ মুরিদ হবে না, শেখের বয়াত নেওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। তখন সমাজের ওই সব ‘পবিত্র’ অর্ধ শিক্ষিত, অযোগ্য, প্রতারক মানুষগুলো এবং তাদের বিশাল সাগরেদ বাহিনী না খেয়ে মারা যাবে।
শিরকের আরেকটি সমস্যা হল সৃষ্টিকর্তাকে হেয় করা। এটা দুই ভাবে করা হয় – ১) মনে করা যে সৃষ্টিকর্তার কাছে চেয়ে কোনো লাভ হচ্ছে না, তাই তাবিজ লাগাও, আংটি পড়, যাতে করে অন্য কোনো দৈব প্রক্রিয়ায় কাজটা আদায় করা যায় এবং ২) সৃষ্টিকর্তাকে কোনো কিছু ছাড়া খালি খালি ডাকলে তিনি আমাদের দিকে বেশি ‘মনোযোগ’ দেন না, তাই একটা মূর্তি ব্যবহার কর, পীর ধর, ইমাম ডেকে আনো, যাতে করে তাঁকে আরও ভালোভাবে ডাকা যায়, তাঁর মনোযোগ বেশি করে পাওয়া যায়। আপনি যদি কাউকে জিগ্যেস করেন, “ভাই কেন আপনি এই মূর্তিটার প্রতি উপাসনা করছেন?”, অথবা, “ভাই, কেন আপনি দেওয়ালে একটা কা’বার ছবি টাঙিয়ে রেখেছেন?”, অথবা, “ভাই, কেন আপনি এই ক্রসটা বুকে ধরে রেখেছেন?”, সে আপনাকে বলবে, “আসলে এটা কিছুই না, আমি এটা ব্যবহার করি আমার মনোযোগ বাড়ানোর জন্য।” তাহলে তো সেটা আপনার মনোযোগের সমস্যা! কেন আপনি সৃষ্টিকর্তাকে এমন এক রূপ দিচ্ছেন যা করার অনুমতি তিনি আপনাকে দেন নি, বরং উল্টো তিনি কঠিন ভাবে মানা করেছেন যেন তাঁকে কোনো রূপ দেওয়া না হয়, তাঁর কোনো প্রতিমা বানানো না হয়? যদি মনোযোগ বাড়াতেই হয়, তাহলে তাঁর অসাধারণ সৃষ্টি জগতের কথা ভাবুন, আকাশের দিকে তাকান, আপনার চারপাশের সৃষ্টিগুলোকে দেখুন, তিনি কতভাবে আপনার জীবনে কল্যাণ দিয়েছেন – সেগুলো কৃতজ্ঞতা নিয়ে ভাবুন। মেডিটেশন করুন, মনোযোগ বাড়াবার জন্য কত মানসিক ব্যায়াম আছে সেগুলো করুন।
দিনরাত গান শোনা, টিভি দেখা, ভিডিও গেম, ফেইসবুক, ইউটিউব, মোবাইল ফোনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফালতু আলাপ, মার্কেটে বেহুদা ঘুরে বেড়ানো, তারকাদের গসিপ, খেলার স্কোর, খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ার, খবরের কাগজে খুন, ধর্ষণ, দলাদলির খবর – এগুলো বন্ধ করুন, যাতে আপনার মগজ ভর্তি এসব অপ্রয়োজনীয় জিনিস কিলবিল না করে মনের ভিতরে শান্তি এবং মৌনতা বিরাজ করে এবং প্রার্থনার সময় মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন।

সংগৃহীত ও -চলবে

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: