শিরক কেন ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ পর্ব ২

শির্কের আরেকটি বড় সমস্যা হল, যেহেতু কিছু মানুষ অন্য কিছু মানুষকে বা জড় বস্তুকে তাদের থেকে মহান, আল্লাহর ‘কাছাকাছি’ কিছু বানিয়ে ফেলে, তখন শুরু হয় সমাজে শ্রেণিভেদ এবং স্বজনপ্রীতি। এই সুযোগে সমাজের কিছু শ্রেণীর মানুষ বিরাট ব্যবসা শুরু করে দেয় ওই পবিত্র মানুষ এবং বস্তুগুলোকে নিয়ে। প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা খরচ হয় নানা ধরণের মূর্তি বানিয়ে এবং সেই মূর্তি গুলো নদীতে ফেলে দিয়ে। কোটি কোটি টাকার জমজমাট ব্যবসা চলছে মাজারে, পীরের দরবারগুলোতে। ওইসব মন্দির, মাজারের কর্মচারীগুলোর কোনো পড়ালেখা করার দরকার পড়ে না, জীবনে আর কোনো কাজ করার দরকার হয় না। তারা ভক্তদের টাকা দিয়ে আরামে তাদের জীবন পার করে দেয়। এভাবে সমাজে এক শ্রেণীর মানুষ তৈরি হয়, যাদের কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা দরকার হয় না, চাকরি বা ব্যবসা করতে হয় না, সমাজের উন্নতিতে কোনো অবদান রাখতে হয় না। যেখানে কি না নবী (সা) নিজে ব্যবসা করতেন সংসার চালানোর জন্য এবং ধর্ম শিখিয়ে কারো কাছ থেকে একটা টাকাও নিতেন না, সেখানে এই মানুষগুলো আরাম কেদারায় বসে ঝাড়ফুঁক করে লক্ষ লক্ষ টাকার মালিক হয়ে যায়।
এই ‘পবিত্র’ মানুষগুলো তাদের এতো সহজ আয়ের ব্যবস্থা যে কোনো উপায়ে টিকিয়ে রাখার জন্য এমন কিছু নেই যেটা তারা করে না। এরা চেষ্টা করে সাধারণ মানুষ যেন কখনও আসল ধর্মীয় বই পড়ে সৃষ্টিকর্তার সঠিক সংজ্ঞা শিখে না ফেলে। কারণ সাধারণ মানুষ যদি তাদের সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত ধর্মীয় বই নিজেরা পড়ে ফেলে, তাহলে তারা শিখে যাবে যে সৃষ্টিকর্তার কোনো প্রতিমা নেই, তার সমকক্ষ কেউ নেই, কেউ তার কাছে কারো হয়ে সুপারিশ, তদবির করতে পারে না। সৃষ্টিকর্তা নিজে প্রতিটি মানুষের কথা শোনেন, নিজে কোনো উকিল ছাড়া প্রতিটি মানুষের বিচার করবেন, এবং তিনি নিজে প্রতিটি মানুষের কাজের রেকর্ড রাখছেন এক অভাবনীয় ব্যবস্থায়। তার কোনো ‘হেল্পার’ দরকার হয় না।
তোমরা যেখানেই থাকো তিনি তোমাদের সাথে আছেন। তিনি সব দেখেন তোমরা কি কর। [৫৭:৪]
আকাশ এবং পৃথিবীর সকল গোপন ব্যাপারে তাঁর জ্ঞান রয়েছে। তিনি কতই না পরিস্কার দেখেন এবং শোনেন! তিনি ছাড়া তাদের আর কোনো রক্ষাকারী নেই। তিনি তাঁর রাজত্বে আর কাউকে অংশ দেন না। [১৮:২৬]
শির্ক শুধু ইসলামেই ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ নয়, এমনকি হিন্দু এবং খ্রিস্টান ধর্মেও মহাপাপ। যেমন বাইবেলে দেখুনঃ
হিন্দু ধর্ম গ্রন্থ গুলোতে দেখুনঃ
খ্রিস্টান এবং হিন্দু ধর্মের মূল আদি গ্রন্থগুলোতে পরিস্কার করে বলা আছে যে সৃষ্টিকর্তা এক, তার কোনো প্রতিকৃতি, কোনো প্রতিমা বানানো যাবে না, কোনো জড় বা জীবের পুজা করা যাবে না, কোনো দেবদেবী নেই। কিন্তু এই মূল আদি গ্রন্থ গুলো সাধারণ মানুষের ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। বরং চার্চের পাদ্রি, মন্দিরের পণ্ডিত, আশ্রমের গুরুজি যা বলে, সেটাই সাধারণ মানুষ অন্ধ ভাবে বিশ্বাস করে যায়। একই ঘটনা ঘটে মুসলমানদের বেলায়ও। আপনি খুব বেশি হলে গড়ে দশ জন মুসলমানের মধ্যে একজন পাবেন, যে কু’রআন পুরোটা একবার হলেও বুঝে পড়েছে। বাকি সবাই হয় কিছু হাদিসের বই পড়েছে, যার মধ্যে বেশিরভাগই মান্ধাতা আমলের “আলেমদের” লেখা জাল হাদিস ভরা বই, না হলে মসজিদের অর্ধ শিক্ষিত ইমাম, গুরুজি, পীর বাবা যা বলেছে, সেটাই গভীর ভক্তি নিয়ে মেনে নিয়েছে। স্বয়ং আল্লাহর পাঠানো ‘কিভাবে মুসলমান হতে হয়’ এর একমাত্র ম্যানুয়াল – কু’রআন, খুব কম মানুষকেই বুঝে পড়তে দেখা যায়। একারণে মুসলমানরাও বড় হয় হাজারো ধরণের ভুল ধারণা নিয়ে, যার কারণে তাদেরকেও এমন অনেক কাজ করতে দেখা যায় যা শির্কের মধ্যে পড়ে। যেমন পাথরের আংটি পড়ে ভাবা এই আংটির কারণে তার ব্যবসা ভালো যাবে, ভাগ্য পরিবর্তন হয়ে যাবে; হাতে আয়াতুল কুরসি লেখা ব্রেসলেট পড়ে ভাবা সেটা তাকে বিপদ থেকে রক্ষা করবে, গলায় তাবিজ পড়ে ভাবা উদ্দেশ্য হাসিল হবে; ঘরের দেওয়ালে সূরার ফলক টাঙিয়ে, দরজায় সূরা ঝুলিয়ে ভাবা তা খারাপ জিনিস দূরে রাখবে ইত্যাদি।
কোনো মানুষ বা বস্তুকে যে সৃষ্টিকর্তার ‘কাছে’ যাবার মাধ্যম বা সুপারিশের মাধ্যম করা যাবে না, তার জন্য কু’রআনে কঠিন নির্দেশ আছেঃ

Collected and will be continued

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: