শিরক কেন ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ? Part 1

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, শিরক কেন ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ? কেন আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করেন কিন্তু শিরক ক্ষমা করেন না? শিরক করে তো আমরা আল্লাহর কোনো ক্ষতি করছি না। শিরক করে তো আমরা মানুষের কোনো ক্ষতি করছি না। আমি যদি একটা তাবিজ পড়ে ভাবি এই তাবিজের কারণে আমার পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট হবে, তাতে এমন কি দোষ হল? আমি যদি পীরের মুরিদ হয়ে ভাবি পীর বাবা আমার হয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করে আমার জীবনের সমস্যা দূর করে দিবে, কিয়ামতের দিন আমার জন্য আল্লাহর কাছে তদবির করবে, তাতে এমন কি মহাপাপ হল? কেন সুদ, ঘুষ, খুনের মতো বিরাট সব পাপ ক্ষমা করা যাবে কি না, তা আল্লাহ্ বিবেচনা করবেন, কিন্তু শিরক কখনও ক্ষমা করবেন না?
আসুন বোঝার চেষ্টা করি মানুষ কেন শিরক করে। ধরুন আপনি একটা কোম্পানিতে চাকরি করেন, যার চেয়ারম্যান খুবই ন্যায়পরায়ণ মানুষ। তিনি কাউকে কোনো ছাড় দেন না। প্রত্যেকের সাথে সমান আচরণ করেন এবং প্রত্যেকের কাজের খুঁটিনাটি হিসাব রাখেন। এখন তার অধীনে যে ডিরেকটররা আছে, তার মধ্যে একজন হচ্ছে আপনার মামা। আপনি জানেন যে আপনি যদি অফিসে একটু দেরি করে আসেন, মাঝে মধ্যে না বলে ছুটি নেন, হাজার খানেক টাকা এদিক ওদিক করে ফেলেন, তাতে কোনো সমস্যা নেই। যদি চেয়ারম্যানের কাছে একদিন ধরা পড়েও যান, আপনার মামা ঠিকই আপনাকে বাঁচিয়ে দিবে। হাজার হোক, মামা তো। সেজন্য মামাকে খুশি রাখার জন্য আপনি প্রতি মাসে তার বাসায় উপহার নিয়ে যান, অফিসে তাকে শুনিয়ে সবার কাছে তার নামে প্রশংসা করেন, তার বাসায় বাজার করে দিতে বললে আপনি অফিসের সব কাজ ফেলে রেখে ছুটে যান বাজারে। যেভাবেই হোক মামাকে হাতে রাখতেই হবে। মামা না থাকলে সর্বনাশ।
এই হচ্ছে শির্কের সমস্যা। মানুষ জানে যে আল্লাহ (বা অন্য ধর্মের সর্বোচ্চ সৃষ্টিকর্তা) হচ্ছেন Absolute Just – পরম বিচারক, পরম ন্যায়পরায়ণ। তিনি সব কিছুর পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার করবেনই। এখন মানুষ যে প্রতিদিন আল্লাহর নিয়ম ভাঙছে, এদিক ওদিকে ফাঁকি দিচ্ছে, নিজের সুবিধার জন্য একটু ঘুষ দিচ্ছে, একটু সুদ দিচ্ছে – এগুলোর প্রত্যেকটা যদি গুণে গুণে হিসাব করা হয় এবং প্রতিটা অপকর্মের বিচার করা হয়, তাহলে তো সর্বনাশ হয়ে যাবে! বেহেশত পাওয়ার কোনো আশাই থাকবে না! তাহলে কি করা যায়? দেখি আল্লাহর অধীনে কাউকে হাত করা যায় কি না। তাহলে তাকে দিয়ে কিয়ামতের দিন আল্লাহকে বলালে হয়ত আল্লাহ কিছু দোষ মাফ করে দিবেন। এই ধারণা থেকে মানুষ চেষ্টা করে কোনো কোনো এক পীর বাবার মুরিদ হবার, কোনো এক নবীর দিনরাত গুণগান করার, কোনো এক দেবতাকে সন্তুষ্ট করার, যাতে করে সেই পীর/নবী/দেবতা একদিন সৃষ্টিকর্তার কাছে তার অপকর্মের বিচার হালকা করার জন্য তদবির করতে পারে। মানুষ জানে যে সে এতো অপকর্ম করেছে যে, সে আর আল্লাহকে মুখ দেখাতে পারবে না। তাই কত ভাবে দুই নম্বরি করে পালানো যায়। সে নামায ফাঁকি দেওয়া বন্ধ করবে না, ঘুষ খাওয়া বন্ধ করবে না, অর্ধ নগ্ন হয়ে বিয়ের দাওয়াতে যাওয়া ছাড়বে না। কিন্তু ঠিকই চেষ্টা করবে কিভাবে আল্লাহর ‘কাছাকাছি’ কাউকে হাত করে বিচার থেকে পালানো যায়। কিভাবে দোষগুলো কোনোভাবে ধামাচাপা দেওয়া যায়। এভাবে মানুষ নিজেকে সংশোধন করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা না করে যতসব দুই নম্বরি উপায় নিয়ে বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তাদেরকে দেখে অন্যরাও একই কাজ করা শুরু করে। শুরু হয় সমাজের এবং দেশের পতন। মাঝখান থেকে তাদের ধর্মীয় বেশভূষায় করা অপকর্মের কারণে তাদের ধর্মের ব্যাপক বদনাম হয়ে যায় এবং মানুষ সেই ধর্মের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলে।

Collected

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: