মানুষ আত্নহত্যা কেন করে?

আমার মনে একটা প্রশ্ন খুব তীব্র ভাবে প্রায় ই উচ্চারিত হয়- মানুষ আত্নহত্যা কেন করে?
বিষয় টা নিশ্চয় এমন না যে, সন্ধ্যার দিকে মন খারাপ হল রাত্রে বেলা গলায় ফাঁস দিয়ে ফ্যানের সাথে ঝুলে পড়লাম। প্রকৃতির নিয়মেই মানুষ নিজেকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে। সেই নিজেকে স্ব ইচ্ছায় মেরে ফেলার জন্য মানসিক প্রস্তুতি দরকার। সেই প্রস্তুতি নিশ্চয় কেউ এক দু ঘণ্টা বা এক দুদিনে নিয়ে নিতে পারে না।

একজন মানুষের মধ্যে অনেক ভাবেই আত্নহত্যার প্রস্তুতি শুরু হতে পারে। তার মধ্যে যেকোন একটা কাল্পনিক কেস স্টাডি করা যাক।

ধরা যাক একজন মানুষের নাম রামিসা( কাল্পনিক নাম)। রামিসার জন্ম হয়েছে নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে।

সমাজ খুব শৈশবেই রামিসা কে বলে দিয়েছে- রামিসা তুমি একজন মেয়ে! তোমার চেহারা বেশি সুন্দর না। গায়ের রঙ ও কাল। তোমার ভাল বিয়ে হবার সম্ভাবনা খুবই কম।

স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকা রা রামিসা কে বলে দিয়েছে- রামিসা তোমার ত সেরকম মেধা নাই। তুমি খুবই গড়পড়তা একটা মেয়ে। ইস, তোমার বাবার ত অনেকগুলো কম সুন্দর মেয়ে আছে। বেচারার জন্য মায়া হয়!

রামিসা’র বাবা মা এবং আত্নীয় স্বজন রা রামিসা কে বলে দিয়েছে- তোমাকে কোন না কোন ছেলে নিশ্চয় দয়া করে বিয়ে করবে। পৃথিবীর সব পুরুষ নিশ্চয় ‘হৃদয়হীন’ নয়!

রামিসা’র মাথায় টাকওয়ালা স্বামী এক হাতে পান মুখে দিয়ে আরেক হাতে পাছা চুলকাতে চুলকাতে রামিসা কে বলেছে- আমি চাইলেই বড়লোকের সুন্দরী মেয়ে বিয়ে করতে পারতাম! অথচ দেখ, তোমরা গরিব এবং তুমি কুৎসিত হওয়া সত্ত্বেও আমি তোমাকে বিয়ে করেছি।

ধীরে ধীরে রামিসার মন একদিন আবিষ্কার করে মানুষ হিসেবে গৌরব বোধ করার মত তার ত আসলে কিছু নাই। মানুষের পরিচয় নিয়ে জন্মালেও সেত আসলে একটা নর্দমার কীট!

‘চেহারা মানুষের, অথচ নিজেকে মানুষ ভাবার কোন কারন নাই’ এই বিশ্বাস রামিসার মনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। রামিসার মন ই তাকে ধীরে ধীরে প্রস্তুত করে তুলে আত্নহত্যা করবার জন্য। রামিসার বাইরের জীবনে এর বিন্দুমাত্র প্রভাব কেউ পড়তে দেখেনা। কাজেই কেউ ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারে না রামিসা শুধু অনুকূল একটি দিনের জন্য অপেক্ষা করছে।

একদিন সবাই একটি সুন্দর চিরকুট সহ আবিষ্কার করে রামিসার ফাঁসিতে ঝুলে আত্নহত্যা করা লাশ। চিরকুটে লেখা- আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। আত্নহত্যা করার মুহুর্তে রামিসার মনে কোন আত্নমর্যাদা বোধ অবশিষ্ট ছিল না। আত্নমর্যাদাবোধ অবশিষ্ট থাকলে রামিসা চিরকুটে ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়’ লিখত না। তার বদলে লিখত-আমার মৃত্যুর জন্য অনেকগুলো নপুংসক সামাজিক কুকুর দায়ী!

রামিসা? না আমি তোমাকে ক্ষমা করি নাই। তুমি কোন জায়গায় ভুল করেছ সেটা নিজেই দেখ।

ছোটবেলা থেকে তুমি তোমার সম্পর্কে যে যেটা বলেছে সেটাই মনে মনে গ্রহণ করেছ। গ্রহণ করেছ বলেই তুমি এর প্রতিবাদ না করে মনে মনে তাদের প্রতি অভিমান করেছ(!) এবং তোমার সম্পর্কে তাদের মন্তব্যটাকেই মনের মধ্যে সত্য বলে প্রতিষ্ঠিত করে নিয়েছ!

তুমি নিজের সৌন্দর্য্য নিজে কখনো আবিষ্কার করতে চাওনি, বরং তুমি স্থূল রুচির কিছু মানুষের মন্তব্যকে চূড়ান্ত বলে ধরে নিয়েছ। নিজের মেধা টা কোথায় সেটা কখনো খুঁজে না দেখে তুমি কিছু মুর্খ জ্ঞান পাপীর পরীক্ষায় দেয়া নম্বর কে চূড়ান্ত বলে ধরে নিয়েছ।

যারা তোমাকে দয়া করার কথা বলেছে তাদের কেই মনে মনে দয়া না করে তুমি নিজেকে মনে মনে অন্যের করুণার পাত্রী ভেবে গাল ফুলিয়েছ!

ছি, রামিসা ছি!!

রামিসা, তুমি যে জগতে চলে গেছ সেই জগত থেকে ফিরে এসে যদি দেখতে যাদের প্রতি অভিমান করে তুমি চলে গেছ তারা কতরকম ভাষায় বলতে চাচ্ছে ‘তোমার আত্নহত্যার দায় সম্পূর্ন তোমার’ তাহলে তুমি আবারো আত্নহত্যা করতে!!

Collected

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: