লাইলাতুল কদর-2014

” আমি এটি (কুর’আন) নাযিল করেছি এক মর্যাদাপুর্ণ রাতে,
তুমি কি জানো সেই মর্যাদাপুর্ণ রাতটি কি?
মর্যাদাপুর্ণ এ রাতটি হাজার মাসের থেকেও উত্তম,
এতে ফেরেশতা ও রুহ তাদের মালিকের সব ধরণের আদেশ নিয়ে অবতরণ করে
(সে আদেশ বার্তাটি চিরন্তন প্রশান্তি), তা ঊষার আর্বিভাব পর্যন্ত (অব্যাহত) থাকে “
: আল কোরআন; সুরা ক্বাদর আয়াত নং:১-৫

শবে-কদর হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। এখানে কতো হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম, তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি। তারপরও যদি একে কমপক্ষে এক হাজার মাস ধরা হয়, তাহলে হিসেব করলে দেখা যায় তা’ ৮৩ বছর ৪ মাস হয়ে থাকে। অর্থাৎ শুধু শবে-কদরের একটি রাতে ইবাদতের দ্বারা ৮৩ বছর ৪ মাস নিরবচ্ছিন্নভাবে ইবাদত করার সাওয়াব পাওয়া যাবে বলে হাদিস বিশারদগণ বলেছেন। বর্তমান পৃথিবীর মানুষ গড়ে মাত্র ৪৮ বছর হায়াত পায় বলে এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে। এককভাবে দেখা গেলে প্রতীয়মান হয় যে, আশি বছরের অধিক হায়াত অনেকের ভাগ্যেই এখন আর জোটে না। সে মতে হিসেব করলে দেখা যাবে, ৮০ বছর কেউ হায়াত পেলে দিন-রাত ২৪ ঘন্টা হিসেবে তার হায়াতের ৪০ বছর রাত থাকে, জাগ্রত মাত্র ৪০ বছর। এ ৪০ বছর হিসেব করলে দেখা যাবে যারা নিয়মিত ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, তারা প্রতি ওয়াক্ত নামাজের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট সময় ব্যয় করেন। সে হিসেবে দৈনিক মাত্র সোয়া এক ঘন্টা সময় মানুষ ইবাদতে কাটায়।
এ হিসেব মতে, সার্বসাকুল্যে দেখা যাবে ৮০ বছরের জীবদ্দশায় মাত্র ১ থেকে দেড় বছর ইবাদতে কাটানো হয়। অথচ শুধু শবে-কদরে এক রাতে ইবাদতের মাধ্যমে একাধারে ৮৩ বছর ৪ মাস ইবাদতের ফজিলত পাওয়া যায়।
সমস্ত প্রশংসা মহান রাব্বুল আলামীনের জন্য, যিনি তার শ্রেষ্ঠ নবীর শ্রেষ্ঠ উম্মতকে উপহার দিয়েছেন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ মাস রমযানুল মোবারক। এ মাসেই আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে রহমত, মাগফিরাত ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। রমযান মাসে সিয়াম সাধনায় মহান আল্লাহর অনন্ত অসীম রহমতের দ্বার উন্মুক্ত করে দেয়। তাই তো রমযানের আগমনে আল্লাহ প্রেমিক বান্দার অন্তরে এক অনাবিল আনন্দধারা প্রবাহিত হয়। সকল ঈমানদারেরা শৃঙ্খলার মধ্যে থেকে এই পবিত্র মাসটি অতিবাহিত করে। মুসলিম উম্মাহর জন্য রমযান অত্যন্ত কাঙ্খিত ও প্রাপ্তির মাস। এ মোবারক মাসে রাব্বুল আলামীন লাইলাতুল কদর নামে এমন এক মহামূল্যবান ও মহিমান্বিত রজনী আমাদের দান করেছেন, যা ইতিপূর্বে কোন উম্মাতকে দেয়া হয়নি। লাইলাতুল কদর এমন একটি রজনী যা হাজার মাস (ইবাদত) অপেক্ষা উত্তম।
হযরত আইশা সিদ্দীকা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি যদি জানতে পারি কোন রাতটি কদরের রাত, তাহলে এ রজনীতে কোন দু’আ পড়ব ? জবাবে তিনি বললেন : তুমি বলবে, ”আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউয়ুন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নী ” (হে আল্লাহ! নিশ্চয় তুমি ক্ষমাশীল, তুমি ক্ষমা করা পছন্দ করো, অতএব আমাকে ক্ষমা করো। (তিরমিযী, ইবনে মাযাহ)
মাহে রমযান রহমত,বরকত এবং নাজাতের যে অমীয় পয়গাম নিয়ে এসেছিল, সেই পূর্ণময়তা আমরা কি লাভ করিতে পেরেছি ? ইচ্ছা আর অনিচ্ছায় অসংখ্য ভূল হয়ে গেছে আমাদের। তাই মহান প্রভুর দরবারে আরো একবার প্রার্থনা করি, সমস্ত ভুলত্রুটি ক্ষমা চোখে দেখে আমাদের নামায ,রোযা, সেহরী, ইফতারী , দান-খরয়াত, সদকায়ে ফেতর সহ অন্যান্য ইবাদত বন্দেগী গুলো মন্জুর করো। তুমি যদি আমাদের ক্ষমা না করো, কেহ করবে মোদের ক্ষমা।কারণ তুমিই আমাদের একমাত্র সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা । আমরা তোমারই সাহায্যপ্রার্থনা করি।

Collected and edited

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: