আমরাই পরিবর্তন চাই না

আসলে স্বয়ং আমরাই পরিবর্তন চাই না। আমরাই আমাদের জীবনের দ্বীনী পরিবর্তনে অনিচ্ছুক। না হলে ভেবে দেখুন, রোযার মাসে কিন্তু আপামর জীবনে অনেক পরিবর্তন ছিল বা হয়েছিল কিন্তু সেই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা আমরাই পরে রক্ষা করি না। আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ
“আল্লাহ কোন সম্প্রদায়ের অবস্থা পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজেরাই তাদের অবস্থা পরিবর্তন করে।” [সূরা রাআ’দ/১১]
এই প্রকার রোযাদাররা তাদের সাউম পালনে আন্তরিক নয়। তাই যখন রোযার মাস আসে, তখন শুরুতেই তারা ভেবে নেয় যে, এটা রোযার মাস তাই একটু ভাল হয়ে থাকতে হবে, কিছুটা সংযত হতে হবে। অতঃপর রোযা শেষ হলে পূর্বে যেমন ছিলাম তেমনই থাকবো। বুঝা গেল, তারা রোযা পালনে আন্তরিক নয়, খাঁটি নয়; কারণ সে এই মাসের পর পুনরায় মন্দের দিকে ফিরে যাওয়ার গোপন ইচ্ছা রাখে। বলুনতো, আল্লাহ কি আমাদের এই গোপন নিয়তটির খবর রাখেন না? মনে রাখতে হবে, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আন্তরিক ও খাঁটি ভাবে ইবাদত না করলে তা আল্লাহর নিকট গ্রহণ হয় না।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
“যে ব্যক্তি ঈমান ও নেকীর আশায় (আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে) রামাযান মাসের রোযা পালন করবে, তার বিগত সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করা হবে”। [বুখারী, নং১৯০১]
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ “যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা বলা ও তার উপর অটল থাকা হতে বিরত থাকে না, আল্লাহর নিকট এইরকম লোকের পানাহার করা না করার কোনো প্রয়োজন নেই”। [বুখারী, অধ্যায়, সাউম, নং ১৯০৩]
হে রোযাদার মুসলিম ভাই! মনে রাখবেন, যিনি রামাযান মাসে আল্লাহ তিনি অন্য মাসেও মহান আল্লাহ। যিনি রামাযান মাসে সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা, তিনি অন্য মাসেও সেই গুণের অধিকারী। যিনি রোযার মাসে মাবুদ, তিনি অন্যান্য সময়েও উপাস্য। আর আমরা তাঁর গোলাম বা দাস। সবসময় ধারাবাহিক দাসত্ব করাই এক বান্দার মূল কর্তব্য।
হে রোযার মাসে সংযমী ভাই! যদি আপনি আল্লাহর উদ্দেশ্যে ১২-১৪ ঘন্টা পানাহার ও অশ্লীলতা থেকে সংযমী হতে পারেন, তো ১২ মাসেও সংযম থাকার ক্ষমতা রাখেন। যদি ১২-১৩ ঘন্টা ধূমপান তথা অন্যান্য নেশা ত্যাগ করতে পারেন, তো ১২ মাস তথা ১২ বছরও তা পারেন। রোযার মাসে যদি হারাম ব্যবসা ত্যাগ করতে পারেন তো অন্য মাসেও তা পারেন। রামাযান মাসে যদি নিয়মিত কুরআন পড়তে পারেন, তো অন্য মাসেও তা পারেন। এই মাসে যদি ফজরের নামায জামাআ’তে আদায় করতে পারেন, তো অন্য মাসেও তা সম্ভব। এই মাসে যদি নফল নামায ও দান-খয়রাত করতে সক্ষম হোন, তো অন্য মাসেও তা সম্পাদন করতে সক্ষম হবেন।
তবে প্রয়োজন আছেঃ-
প্রয়োজন আছে দৃঢ় সংকল্পের; কারণ সত্য সংকল্প, অসাধ্যকে সাধ্য করে, কঠিনকে সহজ করে এবং ইচ্ছা পূরণে সাহায্য করে। তার সাথে দরকার আছে স্থিরতা ও ধৈর্যের।

Collected &Concised

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: