মা! অবশ্যই আমরা সত্যের পথে রয়েছি।

আবদুল্লাহ বিন যুবাইর (রা.) কে দমন করার জন্য এগিয়ে এলো ইতিহাসের কুখ্যাত জালিম হাজ্জাজ বিন ইউসুফ। দিনের পর দিন চলছে দু’পক্ষের লড়াই। বীর সন্তানেরা একের পর এক তাদের জীবন দিতে থাকেন। এক সময় আবদুল্লাহ বিন যুবাইর (রা.)-এর বাহিনীর অনেকেই বিজয়ের সম্ভাবনা না দেখে দল ত্যাগ করে চলে গেলেন।
এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে আবদুল্লাহ বিন যুবাইর (রা.) ছুটে গেলেন প্রাণপ্রিয় মাতা আসমা (রা.)-এর কাছে। আসমা (রা.) তখন বয়সের ভারে কাতর। আবার চোখেও ভাল দেখেন না। আবদুল্লাহকে দেখেই তিনি বললেন, কী ব্যাপার! তুমি এখানে কেন? হাজ্জাজ বাহিনীরা হারাম শরীফে অবস্থানরত তোমার বাহিনীর ওপর আক্রমণ করছে, আর তুমি এখানে ছুটে এসেছো? আবদুল্লাহ (রা.) বললেন, মা! আপনার সাথে আমি পরামর্শ করতে এসেছি। আসমা (রা.) বললেন, কী বিষয়ে পরামর্শ করতে এসেছো? আবদুল্লাহ (রা.) বললেন, হাজ্জাজের ভয়ে অথবা প্রলোভনে আমার দলের অনেকেই আমাকে পরিত্যাগ করেছে। এমনকি আমার স্ত্রী-সন্তানেরাও আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে। এখন আমার সঙ্গে দৃঢ়সংকল্প কিছু আল্লাহর বান্দা ছাড়া আর কেউ নেই। তারাও এখন প্রতিরোধে অক্ষম। এদিকে উমাইয়া প্রস্তাব পাঠাচ্ছে, আমি যদি আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ানকে খলীফা হিসেবে মেনে নিই এবং তার হাতে বাই‘আত গ্রহণ করি, তবে সে আমাকে অনেক ধন-সম্পদ দিবে এবং পার্থিব সুখ-ভোগের ব্যবস্থা করবে। এখন আপনিই বলুন, আমি কী করব?

আসমা (রা.) মনোযোগ দিয়ে পুত্রের কথা শুনলেন। অতঃপর দৃঢ়তার সাথে বললেন, “বাবা, ব্যাপারটা একান্তই তোমার নিজস্ব। তোমার নিজের সম্পর্কে তুমিই বেশী জান। যদি তোমার বিশ্বাস থাকে যে, তুমি সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত আছো এবং মানুষকে হকের প্রতি আহবান করছো, তাহলে সত্যের জন্য লড়ে যাও এবং জীবন দিয়ে দাও, যেভাবে তোমার শহীদ বন্ধুরা জীবন দিয়েছে। আর যদি তুমি দুনিয়ার সুখ-সম্ভোগের প্রত্যাশী হও, তাহলে তোমার আগেই বোঝা উচিত ছিল – তুমি কত লোকের ধ্বংসের কারণ হয়েছো এবং বলবো, তুমি একজন নিকৃষ্টতম মানুষ।”
আবদুল্লাহ (রা.) বললেন, “মা! অবশ্যই আমরা সত্যের পথে রয়েছি। তবে যুদ্ধ চালিয়ে গেলে নিশ্চিত আজ আমি মারা যাব।” আসমা (রা.) জবাবে বললেন, “হাজ্জাজের কাছে তুমি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করবে আর তার দলের লোকেরা তোমার মস্তক নিয়ে খেলা করবে, এর চেয়ে কি সত্যের জন্য জীবন দান শ্রেয় নয়? অবশ্যই তা হাজার গুণ শ্রেয়।” আবদুল্লাহ (রা.) বললেন, মা! আমার ভয় হচ্ছে – বনু উমাইয়ার লোকেরা আমাকে শূলে চড়াবে। হাত-পা কেটে আমার লাশ বিকৃত করে ফেলবে।

পুত্রের কথা শুনে আসমা (রা.)-এর কণ্ঠে সাহস ও দৃঢ়তার বজ্রধ্বনি। তিনি স্থির কণ্ঠে বললেন, “বাবা! বকরী জবাই করার পর যখন চামড়া তুলে ফেলা হয়, তখন তার কোন কষ্ট হয় না। তুমি যুদ্ধের ময়দানে গিয়ে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা কর।”
তখন শতবর্ষের জননীর ললাটে চুমু খেলেন বীর আবদুল্লাহ বিন যুবাইর (রা.) এবং বললেন, “মাগো! আমি ভীরু নই, আমি কাপুরুষ নই। আমি আপনাকে সান্তনা দিতে এসেছিলাম যে, আপনার ছেলে সত্যের জন্য জীবন দিতে যাচ্ছে।” আসমা (রা.) বললেন, “তোমার বিয়োগে আমি ধৈর্য ধারণ করব বাবা। এখন যাও, ত্যাগের পরীক্ষা দাও। ফলাফল আল্লাহ নির্ধারণ করবেন।”

Collected

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: