তুমি আসলে কিসের পেছনে দৌড়ে বেড়াচ্ছ?

তোমার এই ছোট্ট জীবনটাতে তোমার সবচেয়ে আরাধ্য বিষয়টা কি ? একটু ভাল থাকতে চাও, একটু আরামে থাকতে চাও, তাই তো ? ভাল খাবে, ভাল পরবে, একটা এসি গাড়ি থাকবে, মানুষ তোমার আর তোমার সম্পদে চোখ রেখে বলবে, “আরে এরা অনেক হাই ফাই” – এরকম কিছু ? হ্যা তোমার যদি বয়সটা একটু কম হয়, সেক্ষেত্রে আশা করতে পার, মেয়েরা তোমাকে cool বলবে, তোমার একটা স্মার্ট গার্লফ্রেন্ড থাকবে, তাকে নিয়ে তুমি যাবে KFC তে খেতে ! তুমি ‘ট্যুর’ দেবে বান্দরবন, কাঁপিয়ে বেড়াবে সুন্দরবন, অথবা কক্সবাজার দাপিয়ে সেন্টমার্টিন, ফ্রেন্ডসদের নিয়ে ছবি তুলে আপলোড দেবে ফেসবুকে, আর লোকে কমেন্ট দেবে, “awesome man”। তোমার ভাল ডিগ্রী থাকবে, লোকে তোমাকে সমীহ করে দেখবে, সমাজে তোমার মানুষের কাছে “বলার মত একটা অবস্থান” থাকবে, যে “অবস্থান” বলার প্যারামিটার সম্ভবত তোমার চাকরি, তোমার ক্যারিয়ার কিংবা তোমার হিসেব ছাড়া ব্যাংক ব্যালেন্স, তাই না ? হতে পারে তুমি এমন যে তুমি চাও যে তোমার থাকবে অনেক প্রভাব প্রতিপত্তি, চায়ের দোকানে চা খেয়ে বিল না দিলে তোমাকে কেউ কিচ্ছু বলবে না, চোখ তুলে কেউ তোমার দিকে নজর দেবে না। তোমার নাম বেঁচে, ছলনা করে, কিংবা তোমার রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ডের জোরে তুমি অনেক কাজ করিয়ে নেয়ার এবং দেয়ার ক্ষমতা রাখবে, যেন তুমি কারো মুখাপেক্ষী নও!

তুমি তোমার লাইফটাকে অনেক color করতে চাও, তাই না?

এই জীবনটাকে spicy করে তোলবার জন্য আমাদের রঙ্গিন আয়োজন – ক্ষেতে চড়ে বেড়ান গরুর বাছুরটাকে খেয়াল কর, তার সাথে আমাদের পার্থক্যটা কোথায় যখন আমরা কেবল চলছি ফিরছি খাচ্ছি দাচ্ছি ঘুমাচ্ছি আর পটল তুলছি আর সেও ঠিক তাই ? শুধু আমাদের লাইফটা একটু কমপ্লেক্স আর স্পাইসি, এই তো পার্থক্য !

তুমি তোমার জীবনকে সাজাবার জন্য শত-সহস্র খেলনার পেছনে ছুটে বেড়াচ্ছ,  কয়টা টাকা আর ক্যারিয়ারের পেছনে তোমার সবটা ঢেলে দিচ্ছ,  সমাজ তোমাকে যেমন দেখতে চাইছে আর তুমি তা হবার জন্য প্রাণান্তকর চেষ্টা করে যাচ্ছ, একে ওকে নিয়ে এই সীমাহীন ব্যস্ততার রাজ্যে তোমার অন্তহীন ছোটাছুটি 

দেখ তুমি যদি মনে করে থাক তোমার “ভাল থাকা”টাই সব, তাহলে তুমি ভুল করছ। তুমি যদি এমনটা ভেবে থাক তাহলে তোমাকে যত কিছুই এনে দিই না কেন তুমি ভাল থাকতে পারবে না, তোমার আরো পেতে ইচ্ছা করবে। এই দুনিয়াটা এমনই অদ্ভূত। বাস্তবতা হচ্ছে, যে টাকাটাকে আজ তুমি মুখে স্বীকার না করলেও সব মনে করছ, তোমাকে যদি বলি তুমি এক সপ্তাহ পর মারা যাবে সেই টাকাটাকেই তোমার খুব অর্থহীন মনে হবে। যাকে ছাড়া তোমার চলবে না বলে তুমি ভাবছ, কিংবা যাকে তুমি chase করছ, ঠিক তাকেই তোমার একসময় মনে হবে একটা লক্ষ্যহীন মনের কিছু অস্থির ভাবনা ছাড়া আর কিছুই সে ছিল না।

Is these stuffs really your life worth of ? 

 বেঁচে থাকতে কি আসলে অনেক টাকার দরকার, অনেক বিত্ত-বৈভব দরকার ? নিজের ছন্নছাড়া পাগলাটে অর্থহীন ইচ্ছেগুলোকে পূরণ করা খুব দরকার, যখন এই জীবনটা খুবই ছোট ? কেমন ছোট ?

প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে গাফেল রাখে যতক্ষণ না তোমরা কবরে উপনীত হও …” []

  

তুমি কেন ভাবছ তোমার এই আরাম-আয়েশে কাটিয়ে দিলেই তুমি বেঁচে গেলে ? তুমি কি ভুলে গেছ এই জীবনটার পরে আরেকটা জীবন আছে? আরাম আয়েশের জন্য তো সে জীবনটা পড়ে আছে, এই জীবন তো আরামে কাটাবার জন্য নয় ! তুমি আজ হয়তো ভাবছ পাশের বাসার সে ছেলেটা একটা loser,  কারণ তোমার মত স্মার্ট সে নয়, তোমার মত বাকপটু সে নয়, তোমার মত লোক হাসাতে তো পারে না, তোমার মত জ্ঞান গরিমা তার নেই, বরং দাড়ি আর ankle এর উপরে কাপড় টেনে সে তোমার বন্ধুদের হাসির পাত্রে পরিণত হয়, অথচ আল্লাহ loser দের সংজ্ঞা দিয়েছেন,

 বলুনঃ আমি কি তোমাদেরকে সেসব লোকের সংবাদ দেব, যারা কর্মের দিক দিয়ে খুবই ক্ষতিগ্রস্ত। তারাই সে লোক, যাদের প্রচেষ্টা পার্থিবজীবনে বিভ্রান্ত হয়, অথচ তারা মনে করে যে, তারা ৎকর্ম করেছে। []

 আমরা যখন আল্লাহর সামনে দাড়াব, তুমি কি জান তখন আমাদের হাতে কিছুই থাকবে না। না থাকবে পয়সা, না থাকবে বাড়ি গাড়ি। একদম একা। হাতে ধোয়া ওড়ানো সিগারেট থাকবে না, থাকবে না তোমার ব্র্যান্ডের শার্ট আর জুতো, চোখে থাকবে না রেভেন এর গ্লাস কিংবা পিঠ বেয়ে ঝুলবেনা গিবসন এর গিটার, যেতে হবে তোমাকে ঐ তিন টুকরো সাদা কাপড় জড়িয়েই। ক্বিয়ামাহর দিন তোমার সবচেয়ে কাছের মানুষটিও তোমাকে দেখে না দেখার ভান করে চলে যাবে। কি, বিশ্বাস হয় না ?

 (সেদিন) বন্ধু বন্ধুর খবর নিবে না। যদিও একে অপরকে দেখতে পাবে। সেদিন গোনাহগার ব্যক্তি পনস্বরূপ দিতে চাইবে তার সন্তানসন্ততিকে,তার স্ত্রীকে, তার ভ্রাতাকে,তার গোষ্ঠীকে, যারা তাকে আশ্রয় দিত। এবং পৃথিবীর সবকিছুকে, অতঃপর নিজেকে রক্ষা করতে চাইবে। কখনই নয়। নিশ্চয় এটা লেলিহান অগ্নি। []

 সেদিন তোমার কাছে “বলার মত” কি থাকবে সেটা জান? সেটা হচ্ছে এই দুনিয়াতে আল্লাহর জন্য তুমি কি কি করেছ। যে আল্লাহ তোমাকে ফ্রি ফ্রি এত কিছু দিলেন অথচ সেগুলো তুমি তার কাছে চাও নি ! যে আল্লাহ তোমাকে দৃষ্টি দিলেন, শোনার ক্ষমতা দিলেন, দিলেন তৃষ্ণা নিবারণের জন্য মিষ্টি মধুর পানি, হৃদয়ে  দিলেন ভালবাসা নামক এক অদ্ভূত অনূভূতি, আবেগ দিলেন, চিন্তাশক্তি দিলেন, দিলেন আরো লিস্ট না করা অবিনিময়যোগ্য কত কি! সেদিন তোমার কত ব্যাংক ব্যালেন্স ছিল, তোমার গাড়ির মডেল কি Bugatti veron কিংবা  Lamborghini ছিল কিনা, তুমি গার্লফ্রেন্ডকে খুশি করতে কি করেছ, তুমি লোক দেখানো কি করেছ, তোমার সিজি কি 3.95 ছিল নাকি 3.98 ছিল, লোকে তোমাকে স্মার্ট বলেছে নাকি cool বলেছে, সেগুলো কোনই কাজে আসবে না ! যদি কোন কাজে না আসে তবে কেন এগুলোকে তুমি জীবনের উদ্দেশ্য বানিয়েছ ? তুমি কেন নিজেকে ভুলিয়ে রাখছ, তুমি কেন মনে রাখতে চাচ্ছ না, তুমি কেন এই সত্যের মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছ যে এই জীবনটা হল পথ, গন্তব্য নয় ? দুনিয়ার অতি স্বল্পমূল্যের কিছু স্বার্থের আশায় নিজেকে এই মহাসত্যকে ভুলে থাকার চেষ্টা করে তুমি কি নিজের সাথে প্রতারণা করছ না ?

 এই যে তুমি জীবনের পূজায় ব্যস্ত হয়ে পড়ছ ভাই আমার, তুমি কি জান না এই জীবনটা, এই জীবনের প্রতিটি মুহুর্ত, এই জীবনে করা তোমার কাজগুলো একসময় তোমার বিপক্ষে দাড়াঁতে পারে ? হাসি ঠাট্টায় ভরপুর তোমার এই ছোট্ট জীবনটা তোমাকে অনন্তকাল ধরে কাঁদাতে পারে, তুমি কি তা জান না ? তুমি কি এও ভুলে গেছ যে তুমি এই জীবনটাতে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কিছু ছেড়ে দিয়ে যদি সামান্য কষ্ট কর তবে তার বিনিময়ে শতগুণে ফেরত পাওয়া পুরুষ্কার তোমাকে অনন্তকালের জন্য প্রশান্তি দেবে ?

 একটা মানুষের জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ vital যে জিনিষটি, সেটি হল আল্লাহর প্রতি ঈমান। কারণ এই ঈমান না থাকলে এই দুনিয়াতে আমরা কে কি করেছি সেটা একটা অর্থহীন আলোচনা। একসময় এই পৃথিবীটা ধংস হবে, আমাদের বাড়ি গাড়ি ভাব পার্ট সবই চলে যাবে, যা থাকবে তা হল আমাদের সেইসব কিছু যা কেবল আমরা আল্লাহর জন্য করেছি।

এই মহাসত্যটা হয়তো মেনে নিতে তোমার কষ্ট হতে পারে, কিন্তু তবু এটা সত্য। তুমি শুনতে চাও না কেন আমি জানি না, শুনলেও বুঝতে চাওনা কেন আমি জানি না, আর বুঝলেও মানতে চাওনা কেন আমি জানিনা, সত্য হচ্ছে এটাই যে আমাদেরকে আল্লাহর সামনে দাড়াতে হবে। গান-মুভি আর আড্ডাবাজির মেকি জগতটার কি শেষ নেই? পারবে কি তোমার হোলি খেলার রঙ শেষ বিচারের দিনটাকে মুছে দিতে ?

 

তোমরা জেনে রাখ, পার্থিব জীবন ক্রীড়াকৌতুক, সাজসজ্জা, পারস্পরিক অহমিকা এবং ধন জনের প্রাচুর্য ব্যতীত আর কিছু নয়, যেমন এক বৃষ্টির অবস্থা, যার সবুজ ফসল কৃষকদেরকে চমৎকৃত করে, এরপর তা শুকিয়ে যায়, ফলে তুমি তাকে পীতবর্ণ দেখতে পাও, এরপর তা খড়কুটা হয়ে যায়। আর পরকালে আছে কঠিন শাস্তি এবং আল্লাহর ক্ষমা সন্তুষ্টি। পার্থিব জীবন প্রতারণার উপকরণ বৈ কিছু নয়।  []

 

হ্যা প্রতারণা, আর প্রতারণা বলেই মহান আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা ছাড়া আর কোন পথ খোলা নেই। তুমি যেই হয়, তুমি যেখানে থেকেই আস, তুমি যা কিছুই করে থাক না কেন, আল্লাহর পথ তোমার জন্য খোলা, যদি তুমি একটু কৃতজ্ঞ হও আল্লাহর অশেষ রাহময়ার প্রতি, যদি একটু সচেতনচিত্তে মেনে নাও নিজের সীমাবদ্ধতা আর আল্লাহর অসীম ক্ষমতাকে। তোমাকে শুধু একটি বার আল্লাহর দিকে তাকাতে হবে, তোমাকে শুধু অন্তর বিশ্বাস করতে থেকে হবে যে তোমার জীবন-মরণ শুধু আল্লাহরই জন্য, আর কারও জন্য নয়। তোমাকে মন থেকে চাইতে হবে, “যা কিছু কঠিন তা আমার জন্য সহজ করে দাও”, তোমাকে শুধু একটিবার মন থেকে বলতে হবে, “হে আল্লাহ পথ দেখাও”। তা না হলে কি হবে? আল্লাহ বলছেন,

 এবং যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবিকা সংকীর্ণ হবে এবং আমি তাকে কেয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করব। সে বলবেঃ হে আমার পালনকর্তা আমাকে কেন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করলেন? আমি তো চক্ষুমান ছিলাম। আল্লাহ বলবেনঃ এমনিভাবে তোমার কাছে আমার আয়াতসমূহ এসেছিল,অতঃপর তুমি সেগুলো ভুলে গিয়েছিলে। তেমনিভাবে আজ তোমাকে ভুলে যাব। []

 আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন আমরা যদি honest mindset নিয়ে একটু চেষ্টা করি, তিনি আমাদের সাথেই আছেন। এমন অমূল্য এক সুযোগের অবারিত দ্বার খোলা পাবার পর যদি আমরা “damn religion” বলে মুখ ফিরিয়ে নিই তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত আমরাই হব।

</h2>

Collected

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: