তোমার প্রতিটি গুনাহ নিরীহ মুসলমানদের হত্যার জন্য দায়ী!

মুসলিম জাতির বিজয়ের পথে তুমিই প্রতিবন্ধক। মুসলমানদের উপর এত সব মুসিবতের জন্য তুমিই দায়ী!

আমি অবাক হয়ে গেলাম। বললাম আমি একজন নগণ্য মানুষ । আমার কাছে শক্তি নাই, ক্ষমতাও নাই। আমি কোন হুকুম দিলেও কেও মানবে না আর উপদেশ দিলেও কেও গ্রহণ করবে না , আমি কিভাবে দায়ী হলাম!?

দায়ী তোমার গুনাহ!যে গুনাহ তুমি আল্লাহর অবাধ্য হয়ে করেছ, দায়ী তোমার ফরজ ওয়াজিবাত থেকে পলায়নপরতা, এবং দায়ী নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি তোমার লোভ।

আমি এমন কি করেছি যে জাতির মুসিবতের জন্য তুমি আমাকে দোষছো!?

আচ্ছা একটু দাড়াও আমি দেখিয়ে দিই তুমি কি করেছ আর কি কর নাই। তুমি কি ফজরের নামাজ জামাতে পড়!?

মাঝে মাঝে পড়ি!!

এটাই তোমার দুর্বলতা। তুমি কিভাবে আশা কর যুদ্ধে শত্রুকে পরাস্ত করবে অথচ তুমি নিজের সাথে যুদ্ধে পরাজিত হয়েছ!! তাও এমন একটি কাজে যাতে জানও লাগে না আবার মাল ও লাগে না। কয়েক মিনিটের বেশি সময়ওলাগে না আল্লাহ তালার বিধান সেই ফরজ নামাজটা আদায় করতে।
কিভাবে তুমি জিহাদ করবে আশা কর-
অথচ ফরজ নামাজটা তুমি ঠিক মত আদায় কর না! সুন্নাতের উপর আমল কর না! কোরানের কিছু অংশ তেলাওয়াত কর না! সকাল সন্ধ্যার দোয়া গুলো তুমি ভুলে যাও! নিষিদ্ধ বস্তু থেকে দৃষ্টি সরাতে পার না! মা বাবার সেবা কর না! আত্মীয় সজনের খোজ রাখ না!!!কি ভাবে তুমি তোমার দেশে শরিয়তের বিধান চালু করবে অথচ তুমি নিজের মধ্যে বা নিজের পরিবারে শরিয়তের হুকুম চালু করতে পারনি। পরিবারের ব্যাপারে তুমি আল্লাকে ভয় কর নাই, তাদেরকে দীনের দাওয়াত দাও নাই। এবং তাদেরকে হালাল খাওয়ানোর ব্যাপারে তুমি উদাসীন। তুমিত তাদের দলে চলে গেছো যাদের ব্যাপারে আল্লাহ তালা বলেছেন, وَتُحِبُّونَ الْمَالَحُبًّا جَمًّا ﴿٢٠﴾ এবং তোমরা ধন-সম্পদকে প্রাণভরে ভালবাস। (সুরা ফজর -২০)। তুমি মিথ্যা বলেছ তুমি ধোঁকা দিয়েছ তুমি ওয়াদা খেলাপ করেছো , সুতরাং তুমি আযাবের সম্মুখীন হয়েছ।

আমি বললাম-
আমি এক জনের দোষেই কি সবার বিজয় আটকে আছে!?তখন আমার মন আমাকে বলল- আফসোস! তোমার উপর!! তোমার মত কোটি কোটি মানুষ মিলেইত জাতি গঠিত হয়েছে। কিছু মানুষ ছাড়া সবাইত তোমার মত! সবাইত তোমার পথেই চলছে। আল্লাহর আদেশ পালন করছে না, আর গুনাহ থেকে বেচে থাকছে না। কিন্তু সবাই বিজয় চায়। ভাবে তারা শ্রেষ্ঠ। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে সবাই একই রকম [ কিছু মানুষ ছাড়া]।

তুমি জান না সাহাবায়ে কেরাম যুদ্ধে বিপদের সম্মুখীন হলে আগে নিজেদের মধ্যে কোন দুর্বলতা আছে কিনা তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েতেন! অথচএখন তোমরা বাস্তবেই গুনাহের ভিতরে অবস্থান করে বিজয়ের স্বপন দেখা কি বোকামি না!???

এই কথা শুনে আমার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়তে লাগল। আমি ভাবতে লাগলাম আমিই কি সেই ব্যক্তি যে আল্লাহ ও আল্লাহর রসুল [সঃ]কে ভালবাসে এবং মুসলমানদেরকে ভালবাসে অথচ আমিই মুসলমানদের উপর মুছিবতের কারণ? আমিই সারা দুনিয়াতে নিরপরাধ মুসলমানদের হত্যা ও নির্যাতনের জন্য দায়ী?

শাসক শ্রেণী কে আমি কত সহজে গালি দেই। কিন্তু আমি আমার নিজের দোষ ত্রুটি গুলো দেখি নাই। আর আল্লাহ তালার এই বানীর প্রতিও আমি দৃষ্টি দেইনি। إِنَّ اللَّـهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّىٰ يُغَيِّرُوا مَا بِأَنفُسِهِمْ আল্লাহ কোন জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যে পর্যন্ত না তারা তাদের নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে।
(সুরা আর রাআদ – ১১)

এখন আমাকে কি করতে বলছ?

মনে রাখবে-
তোমার প্রতিটি গুনাহ নিরীহ মুসলমানদের হত্যার জন্য দায়ী! আমি আমার মাথা উঠালাম। তৌবা করলাম আল্লাহর কাছে।
আল্লাহকে বললাম- হে আল্লাহ আমার তৌবা কবুল করুন।
নতুন জীবন শুরু করলাম
দুই রাকাত নফল নামাজের মধ্য দিয়ে।

Collected

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: