বিদাত

ইসলামি পরিভাষায় বিদআত হল আল্লাহর দ্বীনের মধ্যে নতুন করে যার প্রচলন করা হয়েছে এবং এর পক্ষে শরীয়তের কোন সাধারণ কিংবা সুনির্দিষ্ট দলীল নেই। দলীল বলতে আল কুর’আন এবং সহিহ হাদিস বুঝায়। বিদআত পাপের তালিকায় অনেক বড় পাপ, শিরকের পরেই এর স্থান। এর কারণ বিদআত করা মানে আল্লাহকে খুশি করতে এমন কিছু করা যা রসুলুল্লাহ (সাঃ) করেননি অথবা করতে বলেননি। সহজভাবে বললে, ইসলামে নব্য কোন কিছুর আবিস্কারই হল বিদ’আত। যে আমলটি বা আকীদা কুরআন ও সহীহ হাদিসের দলিল দ্বারা প্রমানিত নয় সেটা ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়। “নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম আদর্শ মুহাম্মদের আদর্শ। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হল (দ্বীনের মধ্যে) নব উদ্ভাবিত বিষয়। আর নব উদ্ভাবিত প্রত্যেক বিষয় বিদআত এবং প্রত্যেক বিদআত হল ভ্রষ্টতা এবং প্রত্যেক ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম। (সহীহ মুসলিম) কেউ যদি ভুলবশত কোন গুনাহের কাজ করে ফেলে তবে তার মধ্যে একসময় পাপবোধ কাজ করে এবং পরে সে হয়তো তউবা করে আল্লাহপাকের কাছে মাফ চেয়ে নিতে পারে। কিন্তু বিদ’আত করার সময় কোন মানুষ ভাবে যে সে একটা ভাল আমল করছে। কাজেই বিদ’আতের জন্য সেই ব্যক্তির তউবা করার কোন সম্ভাবনা থাকে না। এই জন্যই শয়তান খুব খুশি হয়। আর বিদ’আতের পরিনাম জাহান্নাম। সিরাতাল মুস্তাকিম একটাই, আর সেটা হল রসুলুল্লাহ এবং তার সাহাবাদের পথ। এ ছাড়া অন্য যে পথেই মানুষ যাবে সে পথ যত সুন্দর মনে হোক না কেন বা যত কষ্টের হোক না কেন সেটা আল্লাহ থেকে শুধু দূরেই নিয়ে যাবে। রাসুল সা বিদায় হজ্জের ভাষণের সামান্য কিছু অংশ উল্লেখ করছি – ”হে লোক সকল! আমার পর আর কোনো নবী নেই, আর তোমাদের পর কোনো উম্মতও নেই। আমি তোমাদের কাছে দু’টো জিনিস রেখে যাচ্ছি। যত দিন তোমরা এ দু’টোকে আঁকড়ে থাকবে, তত দিন তোমরা গুমরাহ হবে না। সে দু’টো হলো আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাত। তোমরা দীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি থেকে বিরত থাকবে। কেননা তোমাদের পূর্ববর্তীরা দীনের ব্যাপারে এই বাড়াবাড়ির দরুন ধ্বংস হয়েছে।” রাসুল (সাঃ) এর বিদায় হজ্জের ভাষণের পর কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল হলোঃ ”আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্নাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।” [আল- মায়িদাহঃ ৩] আজ থেকে ১৪০০ বছর পূর্বেই দ্বীন ইসলাম পরিপূর্ণতা লাভ করেছে যার প্রমান উপরে উল্লেখিত কুরআনের আয়াত। কাজেই দ্বীন ইসলামে নতুন কোন সৃষ্টির কোন সুযোগ নেই। রাসুল (সাঃ) বলে গেছেন কুর’আন ও রাসুলের (সাঃ) সুন্নাহ আঁকড়ে ধরতে। আল্লাহ আমাদের বিদআত থেকে বেঁচে রসুলের (সাঃ) সুন্নাত মেনে চলার মানসিকতা ও সামর্থ্য দিন। আমিন।

কালেক্টেড

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: