আজ ভ্যেলেন্টাইন দিবস, ভালবাসার কথা না বললে হয়?

ফেইসবুকে কত পোষ্ট আসছে, মোবাইল, এস এম এস, ম্যাসেজ, ডেটিং কত কিছুই না হবে। আমি নিজেও তো ভালবাসার গল্প এক নিঃশেষে পড়ে ফেলি। ভালবাসার সিনেমা এক বসায় দেখে ফেলি। রঙ্গের দুনিয়ার মজা ত্যাগ করা কি এত সোজা! আমরা আছি আধুনিক যুগে। কিন্তু আধুনিক যুগে কি ইসলাম ধর্মটাকে আধুনিক করতে পেরেছি। ১৪০০ বছরের আগের ধ্যান ধারনা নিয়ে বসে আছি। যারা এটাকে ধারন করছে তাদের গালি দিচ্ছি, নিজে ধারন করতে পারছি না। আর ধরেন গালি দিলাম না বা ধারনও করলাম না, কিন্তু সমর্থন দিলাম তা হলেও খবর আছে। আমি নিজেকে তো প্রকাশ্য সমর্থকের দলেও দাঁড় করাতে পারি না। (যদি কিছুটা থাকে সেটাও অন্তরে তিল পরিমান কিছু হতে পারে তাও সেটা কতটুকু আল্লাহর কাছে গ্রহন যোগ্য হবে জানি না, হতে পারে রিয়া মিক্সড, নো এখলাস ) যাই হোক, Mohammad Sami Hassan এর একটা গল্প দিয়ে শেষ করতে চাই। না,ঠিক গল্প বললে ঠিক হয় না,বরং বলি,”লাভ স্টোরি”।

তাঁরা বিয়ে করলেন। না,বিবাহপূর্ব প্রেমপ্রীতি ভালবাসা নয়,ঠিক যেভাবে ইসলাম আদেশ করেছে,একেবারেই সেভাবে।
বিয়ের পরে,তাঁরা একে অন্যের সান্নিধ্যে দিন কাটাতে লাগলেন। না,ভালবাসার কোন কমতি তাঁদের মধ্যে ছিল না। তাঁরা একে অপরকে আগলে রাখলেন,ঠিক সেভাবে,যেভাবে দুই অর্ধ একসাথে যোগ হয়ে এক তৈরি করে।
তাঁরা নানাভাবে একে অন্যের সান্নিধ্য উপভোগ করতে লাগলেন। কখনো কখনো তাঁরা একে অন্যের সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা পর্যন্ত করতেন! স্বামী ইচ্ছে করেই হেরে যেতেন,কারণ তাঁর স্ত্রীর উচ্ছল হাসিমুখ তাঁর কাছে বড়ই প্রিয়। আবার মাঝেমধ্যেই স্ত্রীর অভিমান বানানোর জন্য তাঁকে হারিয়ে দিতেন,কারণ স্ত্রীর অভিমান ভাঙ্গানোর আনন্দও যে অসাধারণ!

কয়েক বছর পর,স্বামী অত্যন্ত দুর্বল হয়ে গেলেন,বোঝা গেল,তাঁর দিন শেষ হয়ে এসেছে। তারও কিছুদিন পর,স্বামী মারা গেলেন,স্ত্রীর হাঁটুর উপর মাথা রেখে। আর তাঁর কবর হল স্ত্রীর ঘরেই।

স্ত্রী এই ঘটনার পর,অনেক বছর বেঁচে ছিলেন। কিন্ত তাঁর স্বামীকে এতটাই তিনি ভালবাসতেন,দ্বিতীয়বার কোন পুরুষের দিকে চোখ তুলে পর্যন্ত তাকান নি। আর এভাবেই,জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি তাঁর স্বামীর হয়েই ছিলেন।

“লাভ স্টোরি” এখানেই শেষ। স্বামী আর স্ত্রীর পরিচয় দেওয়ার আগে একটা তথ্য দিতে চাই।

বিশ্বাস করুন আর না-ই করুন,এই “লাভ স্টোরি”-র একটা কথাও কিন্ত আমরা স্বামীর মুখ থেকে জানতে পারি নি। প্রত্যেকটা বাক্য,প্রত্যেকটা ঘটনা,জেনেছি স্ত্রীর মুখ থেকে।

সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার কি জানেন? তাঁর মুখ থেকে তাঁর স্বামী সম্পর্কে একটা খারাপ মন্তব্য পাওয়া যায় নি!

আমি আমার বোনদের হেয় করে কোন কথা বলছি না,কিন্ত আমরা জানি যে তাঁরা একটু বেশিই বিষোদগার করে থাকেন (স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস আছে এ ব্যাপারে)। আর বর্তমান কালে এমন কোন স্ত্রী আমি দেখি নি,যিনি তাঁর স্বামীর অন্তত একটা ব্যাপার নিয়ে কিছুটা হলেও বিরক্ত নন।

By the way,এই “লাভ স্টোরি” কিন্ত এখানেই শেষ না। সহীহ হাদীস থেকে সরাসরি প্রমাণিত,তাঁদের এই “লাভ স্টোরি” শেষ হয় নি,বরং এটা আবার শুরু হবে ইনশাআল্লাহ,এবং চলতেই থাকবে,জান্নাতে।

এবার বলে দেই এটা কাদের “লাভ স্টোরি”।

হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত আয়িশা রাযিআল্লাহু আনহা।

Isn’t it the BEST love story anyone can ever tell?

আসুন,নিজেদের সংযত করি। স্ত্রোতের সাথে না মিশে গিয়ে এক আল্লাহর উপর নিজেদের পূর্ণ বিশ্বাস সঁপে দেই। তাঁর কাছে এমন একজন প্রার্থনা করি,যাঁর সাথে ঠিক এরকম একটা “লাভ স্টোরি” আমরা রচনা করতে পারব। যে “লাভ স্টোরি”-র চিত্রনাট্যে কোন একজনের মৃত্যুতে “THE END” লেখা পর্দা উঠবে না,বরং উঠবে,”TO BE CONTINUED IN JANNAH”!

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: