ইখলাস

কেবলমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে যাবতীয় কাজ সম্পাদন করার নামই হল ইখলাস। কে দেখছে কে দেখছেনা সেটা না ভেবে লোকচক্ষু বা লোকলজ্জাকে অবজ্ঞা করে আল্লাহ্ সর্বক্ষণ আমাদের দেখছেন এই ভয় বা ভাবনা মাথায় রেখে আমাদের প্রকাশিত বা অপ্রকাশিত সমস্ত কাজগুলো সম্পাদন করবার নামই হল ইখলাস
ইমাম আল-গাজ্জালী (রঃ) বলেন, যদি কেউ জানতে চায় যে সে যা করছে তা কেবলমাত্র আল্লাহ-তায়ালার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই কিনা, তখন তার উচিত কেউ যখন তার প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তখন তার নিজের অনুভূতি কেমন হয় সেটা লক্ষ্য করা। যদি সে ভেবে বসে যে, “আমি কত নেকবান মানুষ, আমি অন্যকে উপকার করেছি” বা “হু! এত কষ্ট করলাম তাদের জন্য। কিন্তু প্রশংসা তো দূরে থাক, একটা থ্যাংকস পর্যন্ত দিল না কেউ…” এধরনের অনুভূতি যদি হয়ে থাকে আপনার তবে আপনি হয়তো কেবলমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করেননি কাজটা, আল্লাহর সন্তুষ্টির সাথে সাথে মনের অজান্তে অন্যকিছুও হয়তো প্রত্যাশা করছিলেন এই কাজের বিনিময়ে।খুর্রাম মুরাদ বলেন, “উদ্দেশ্য বা নিয়ত হল আমাদের আত্মার মত অথবা বীজের ভিতরে থাকা প্রাণশক্তির মত। বেশীরভাগ বীজই দেখতে মোটামুটি একইরকম, কিন্তু লাগানোর পর বীজগুলু যখন চারাগাছ হয়ে বেড়ে উঠে আর ফল দেওয়া শুরু করে তখন আসল পার্থক্যটা পরিষ্কার হয়ে যায় আমাদের কাছে। একইভাবে নিয়ত যত বিশুদ্ধ হবে আমাদের কাজের ফলও তত ভাল হবে।পবিত্র আল্লাহ-তায়ালা বলেনঃ
“আপনি বলুনঃ আমার নামায, আমার কোরবাণী এবং আমার জীবন ও মরণ বিশ্ব-প্রতিপালক আল্লাহরই জন্যে।” [সূরা আল আন-আম, ৬:১৬২]
এই আয়াত অনুযায়ী আমাদের সবকিছুই হওয়া উচিত আল্লাহর জন্য। তাছাড়াও খুর্রাম মুরাদ বলেন, “সাধারণত লোকেরা কাজকে দুইভাগে ভাগ করে থাকে- দৈনন্দিন কাজকর্ম ও ধর্মীয় কাজ। কিন্তু আমাদের স্মরণ রাখা উচিত ধর্মীয় কাজ হল কেবলমাত্র সেগুলোই, যে সকল কাজ কেবল মাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা হয়। আর যে সকল কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করা হয় না তা বাহ্যিক দৃষ্টিতে যতই “ধর্মীয়” মনে হোক না কেন আসলে তা দুনিয়াবি কাজ।… যখন কেউ তার পরিবারের জন্য ও আল্লাহর পথে ব্যায় করার জন্য টাকাপয়সা কামাই করে তবে সেটাও অনেক বড় একটা ধর্মীয় (সওয়াবের) কাজ যদি তা করা হয় কেবলমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে।”
এমনকি আমাদের ঘুমও হতে পারে কেবলমাত্র আল্লাহ্র জন্য; কেউ যদি ফজরের নামাজ পড়বার উদ্দ্যশ্যে ঘুমিয়ে পড়ে তাড়াতাড়ি তবে সেই ঘুমটা হবে আল্লাহর জন্য। একবার ভাবুন শুধু, ঘুমিয়ে ঘুমিয়েও সওয়াব বা নেকী অর্জন করছেন আপনি! পার্থক্যটা কেবল নিয়তের।আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করার ব্যপারে সর্বদা সচেতন থাকতে চেষ্টা করব আমারা ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের সেই প্রচেষ্টার জন্যও আল্লাহর কাছ থেকে উত্তম বিনিময় পাব আমরা ইনশাআল্লাহ্।
তবে আমাদের শঙ্কিত বা হতাশ হবার কিছু নেই। আম্র বিন আল-আ’স থেকে বর্ণিত, রসুল(সঃ) বলেছেন, “বিচার দিবসে আমার উম্মতদের মধ্যথেকে একজনকে সমস্ত সৃষ্টিকুলের সামনে ডেকে তার নিরানব্বইটা আমল (যার প্রত্যেকটিই দুচোখে যতদূর দেখা যায় তার চাইতেও অধিক) তার সামনে উপস্থিত করে বলা হবেঃ ‘এর মধ্যে কোন আমল কি অস্বীকার করতে পারবে তুমি?’ সে বলবেঃ ‘না, আমার প্রভু।’ তখন তাকে বলা হবে, ‘তোমার কি ওজর বা ভাল আমল আছে কোন?’ সে বলবে, “না, নেই।” তখন তাকে বলা হবে, ‘না, কিছু ভাল কাজ তোমার আছে বটে, অবিচার করা হবেনা আজ তোমার প্রতি কোন।’ তাকে তখন ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লা, মুহাম্মদুর রসুল্লাল্লাহ” লেখা দেখানো হবে একটা। তখন সে বলবে, ও আল্লাহ্! কিসের লেখা এটা?’ তখন তাকে বলা হবে, ‘তোমার প্রতি কোন অবিচার করা হবেনা আজ।’ এরপর তার নিরানব্বইটা (মন্দ) আমল রাখা হবে নিক্তির এক পাশে আর অন্যপাশে রাখা হবে লেখাটা। তখন দেখা যাবে ওই লেখার ওজন হবে ওইসব মন্দ আমলের চাইতেও বেশি।” [তিরমিযি]

Collected and Concised

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: