আরও কিছু হাদিস

►যে ব্যক্তির জীবনে দুনিয়া অর্জন করাই তার বড় উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার উপর বিশৃঙ্খলা চাপিয়ে দেন। আর দরিদ্রতা ও অভাব তার চোখের সামনে তুলে ধরেন। সে যতই চেষ্টা করুক না কেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার ভাগ্যে যতটুকু দুনিয়া লিপিবদ্ধ করেছেন তার বাহিরে সে দুনিয়া হাসিল করতে পারবে না। আর যে ব্যক্তির জীবনে আখিরাত অর্জন করাই তার বড় উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার অন্তরকে অভাব মুক্ত করে দেন। তার জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার সম্পদকে সহজ করে দেন। আর দুনিয়া তার নিকট অপমান অপদস্থ হয়ে আসতে থাকে” ।[তিরমিজী, হাদীস নং-২৪৬৫, ]

► “আল্লাহর দ্বীন সহজ। যে কোন ব্যক্তি এ দ্বীনকে কঠিন বানাবে তার ওপর তা চেপে বসবে। কাজেই মধ্যম ও ভারসাম্যপূর্ণ পন্থা অবলম্বন করো। আর সুখবর গ্রহণ করো এবং সকাল, সন্ধ্যায় ও শেষ রাতের কিছু অংশে ইবাদাত করে আল্লাহর কাছে সাহায্য কামনা করো।” [বুখারী]

►এক হাদীসে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর কাছে (জাহান্নাম থেকে মুক্তির) শাফায়াত (সুপারিশ) করতে উদগ্রীব, এখন তোমরা বেশী বেশী সেজদা (অর্থাৎ নামাজ আদায়) করে আমাকে (তোমাদের সুপারিশ এর ) ব্যাপারে সাহায্য কর। {মুসলিম, আবু দাউদ, আন-নাসায়ী}

►হযরত যায়েদ ইবনে আকরাম রাযিঃ হইতে বর্ণিত আছে যে ,রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহূ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই ভাবে দোয়া করিতেন-”’ আয় আল্লাহ, আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাহিতেছি এমন এলেম হইতে যাহা উপকারে আসে না, এমন দিল হইতে যাহা ভয় করে না, এমন নফস হইতে যাহা তৃপ্ত হয় না এবং এমন দোয়া হইতে যাহা কবুল হয় না।”

►নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন বলবেনঃ ওহে! যারা আমার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পরস্পর ভালোবাসা স্থাপন করেছিলে, আজ আমি তাদের সুশীতল ছায়াতলে স্থান দেব। আর এদিনে আমার ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়াই নেই।” [বুখারী ও মুসলিম]

►আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ সেই বান্দার উপর আল্লাহ অবশ্যই সন্তুষ্ট থাকেন, যে এক গ্রাস খাদ্য গ্রহণ করেই তাঁর প্রশংসা করে এবং এক ঢোক পানীয় পান করেই তাঁর প্রশংসা করে (‘আল-হামদু লিল্লাহ’ বলে) ।

►কারো বাসায় দাওয়াত খাওয়ার পর তাদের জন্য নবী (সা) দোআ করতেন,” আল্লাহুম্মাগফির লাহুম ওয়ার হামহুম, ওয়া বারিক লাহুম ফি মা রাযাকতাহুম ”
অর্থঃ হে আল্লাহ ! তাদেরকে ক্ষমা করো, তাদের প্রতি রহম করো। তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছ তাতে বরকত দান করো।[মুসলিম, মিশকাত হা/২৪২৭]

►যে ব্যক্তি মানুষকে রাগান্বিত করে হলেও আল্লাহকে খুশী করতে তৎপর হয়, আল্লাহ তাকে মানুষের ক্ষতি হতে রক্ষা করেন। আর যে আল্লাহকে নারাজ(রাগান্বিত) করে মানুষকে খুশী করে আল্লাহ তাকে মানুষের হাতে সোপর্দ করে দেন। (সহীহ, তিরমিযী)

►যার মধ্যে নম্রতা নেই, তার মধ্যে অনেক ভালই অনুপস্থিত থাকে। (মুসলিম)

►হযরত যায়েদ ইবনে আকরাম রাযিঃ হইতে বর্ণিত আছে যে ,রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহূ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই ভাবে দোয়া করিতেন-”’ আয় আল্লাহ, আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাহিতেছি এমন এলেম হইতে যাহা উপকারে আসে না, এমন দিল হইতে যাহা ভয় করে না, এমন নফস হইতে যাহা তৃপ্ত হয় না এবং এমন দোয়া হইতে যাহা কবুল হয় না।”

► “যে জমিতে বৃষ্টি, বর্ষার পানি এবং নদী নালার পানিতে বিনা সেচে ফসল জন্মে, কিংবা নদী বা খালের কাছে বলে সেচের প্রয়োজন হয়না, সেই জমিতে যে ফসল হয়, তার দশভাগের একভাগ যাকাত দিতে হবে। আর যেসব জমিত শেরমের মাধ্যমে সেচ করতে হয়, সেসব জমিতে যে ফসল হয়, তার বিশভাগের একভাগ যাকাত দিতে হবে। (বুখারী)

►সাফিয়্যা বিনতে আবু উবাইদ (রা) নবী ( সা) এর কোন একজন স্ত্রীর মাধ্যমে নবী (সা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (নবী সাঃ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি গনকের কাছে গিয়ে কোন বিষয় জানতে চাইল এবং তাকে (সে যা বলল তা) বিশ্বাস করল, চল্লিশ দিন পর্যন্ত তার নামায কবুল হবে না। ইমাম মুসলিম হাদিসটি বর্ণনা করেছেন

►উরওয়াহ ইবনে যুবায়ের (রাহঃ) বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর ইবনুল আস (রাঃ) কে বললাম, মক্কার মুশরিকরা রাসুলুল্লাহ ﷺ কে যেসকল দুঃখ-কষ্ট দিয়েছে তা থেকে একটি ঘটনা আমাকে শুনান। তিঁনি বললেন, একবার রাসুলুল্লাহ ﷺ কা’বার পাশে আমাদের সামনে নামাজ আদায় করছিলেন। তিনি যখন সেজদায় গেলেন তখন পাপিষ্ঠ উকবাহ উটের এক বিশাল দুর্গন্ধময় ভুড়ি রাসুলুল্লাহ ﷺ এর কাধের উপর রাখল। তখন আমাদের মধ্য থেকে আবু বকর রাঃ সাহস করে এগিয়ে গিয়ে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর কাঁধের উপর থেকে দুর্গন্ধময় উটের ভুড়িটা সরালেন। আবু বকর (রাঃ) তখন কেঁদে কেঁদে বললেন, أَتَقْتُلُونَ رَجُلا أَنْ يَقُولَ رَبِّيَ اللَّهُ তোমরা কি ঐ ব্যক্তিতে হত্যা করতে চাও ? যে বলে আমার প্রভু কেবলমাত্র আল্লাহ। {বুখারী , হাদিস নং- ৪৪৪১}

►আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত হাদীছে রাসূলূল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, ‘বান্দা স্বীয় প্রভুর সর্বাধিক নিকটে পৌঁছে যায়, যখন সে সিজদায় রত হয়। অতএব তোমরা ঐ সময় বেশী বেশী প্রার্থনা কর’।

►হযরত আবু যর (রাঃ) বলিয়াছেন, রাসূলূল্লাহ (সাঃ) বলিয়াছেন, যে ব্যাক্তি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া আর কোন মাবুদ নাই ) বলিয়াছে এবং ইহার উপর মৃত্যু বরণ করিয়াছে (অর্থাৎ এই বিশ্বাস নিয়া মৃত্যু বরণ করিয়াছে) , সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করিবে । আবু যর (রাঃ) জিজ্ঞাসা করেন, যদি সে ব্যাভিচার করে এবং চুরি করে । রাছূল (সাঃ) বলেন, হ্যা, যদি সে ব্যাভিচার করে এবং চুরিও করে । আবু যর (রাঃ) দ্বিতীয়বার একই প্রশ্ন করেন । রাসূল (সাঃ) আবার একই জবাব দেন । আবু যর (রাঃ) তৃতীয়বার একই প্রশ্ন করেন । রাসূল (সাঃ) একই জবাব দেন এবং বলেন, যদি আবু যরের অপছন্দ হয় তবুও সে ব্যাক্তি জান্নাতে প্রবেশ করিবে । (বোখারী)

►রাসূল (সাঃ) বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলিয়াছে এবং যাহার অন্তরে যবের দানার ওজন পরিমাণ ঈমান থাকিবে, সে জাহান্নাম হইতে বাহির হইবে । তারপর এমন সকল ব্যক্তিও জাহান্নাম হইতে বাহির হইবে যাহাদের অন্তরে গমের দানা পরিমাণ ঈমান থাকিবে । তারপর এমন সকল ব্যক্তি জাহান্নাম হইতে বাহির হইবে যাহার অন্তরে অণূ পরিমাণও ঈমান থাকিবে । (বোখারী)

2 responses to this post.

  1. Posted by মোঃ খোকন on November 5, 2014 at 5:31 am

    ভাই আমরা আপনার কাছ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু সহী হাদিস চাই

    Reply

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: