ইসলামে দ্বীন মানার অর্থ কি?

দ্বীন মানে, জীবন যাপনের পথ। মানুষ তার গোটা জীবন কিভাবে চালাবে? কিভাবে ঘর সংসার চালাবে? কোন নীতিতে ব্যবসাs বাণিজ্য করবে, চাষ বাস করবে? কিভাবে দেশ চালাবে, সমাজ চালাবে? কিভাবে আল্লাহর ইবাদাত করবে? এসব নিয়ম কানুন ইসলামে রয়েছে। এসব নিয়ম কানুনকেই দীন বলা হয়। ইসলামকে দীন মেনে নেয়ার মানে হলো, ইসলাম মানুষের জীবনের সকল কাজ কারবার চালাবার জন্যে যে নিয়ম কানুন এবং বিধি বিধান দিয়েছে, সেগুলোকে মেনে নিয়ে, সেই অনুযায়ী জীবন যাপন করা।
মানুষের জীবনের ছোট বড় সকল কাজের ব্যাপারেই ইসলাম নিয়ম কানুন দিয়েছে। একেবারে পায়খানা পেশাব কিভাবে করতে হবে, তা থেকে নিয়ে রাষ্ট্র কিভাবে চালাতে হবে? এইসব ব্যাপারেই ইসলাম নিয়ম কানুন বলে দিয়েছে। আর এই গোটা নিয়ম কানুন ও বিধি ব্যবস্থার নামই হলো দীন ইসলাম বা ইসলাম অনুযায়ী জীবন যাপনের পথ।
তোমাদের চিন্তা ভাবনা, কামনা বাসনা ও মতামত আমার নিয়ে আসা দীন ও শরীয়ত অনুযায়ী না হওয়া পর্যন্ত তোমাদের কেউ মুমিন হতে পারবে না। (মিশকাতঃ আবদুল্লাহ ইবন আমর রাঃ)
হ্যাঁ, অবশ্যই, সকল নাবী- রাছূলের দ্বীন এবং তাদের দা‘ওয়াতের মূল বিষয়-বস্তু এক ও অভিন্ন ছিল।এ বিষয়ে ক্বোরআনে কারীমে আল্লাহ ইরশাদ করেছেনঃ-
অর্থাৎ:- আমি প্রত্যেক জাতির মধ্যেই রাছুল প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহ্র ‘ইবাদত করো এবং তাগুত (বাতিল ও মিথ্যা উপাস্য) থেকে নিরাপদ দূরে থাকো। অতঃপর তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যককে আল্লাহ হেদায়ত করেছেন এবং তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যকের জন্য গুমরাহী (ভ্রষ্টতা) অবধারিত হয়ে গেছে। সুতরাং তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ করো এবং দেখো মিথ্যাবাদীদের পরিণতি কিরূপ হয়েছিল। (ছুরা আন্ নাহ্ল – ৩৬)
আয়াতে আল্লাহ ইরশাদ করেছেনঃ-
অর্থাৎ:- আপনার পূর্বে আমি এমন কোন রাছুল প্রেরণ করিনি যার প্রতি আমি এই বার্তা অবর্তীণ করিনি যে, আমি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই, সুতরাং তোমরা আমারই ‘ইবাদত করো। (ছুরা আল-আম্বিয়া – ২৫)

সকল নাবী-রাছুল একই পন্থায় দা‘ওয়াত পরিচালনা করে গেছেন এবং একই স্থান থেকে তথা একই বিষয় দিয়ে তারা তাঁদের দা‘ওয়াতী কার্যক্রম শুরু করেছেন। আর তা ছিল তাওহীদ। এই তাওহীদই হলো সকল-নবী-রাছুলের দ্বীনের মূল ভিত্তি এবং তাদের দা‘ওয়াতের মূল প্রতিপাদ্য। তাওহীদ প্রতিষ্ঠাই ছিল তাঁদের রিছালতের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
হযরত আদম আঃ তাঁর ভুল বুঝতে পেরে শত শত বছর আল্লাহ তায়ালার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করলেন তিনি তো এরকমই বলতে চাইলেন যে, “হে আমার আল্লাহ! আমার মালিক! আমি জানিনা আমার জন্য কোন্ কাজ ভাল আর কোন্ কাজ মন্দ। আপনি আমার স্রষ্টা। আপনিই ভাল জানেন আমার জন্য কোন্ কাজ ভাল কোন্ কাজ মন্দ। তাই আপনি আমাকে আমার করণীয় ও অ-করণীয় বিষয় নির্ধারণ করে দিন। কোন কোন গুণ বা বৈশিষ্ট্য পালন করলে আমার জন্য মঙ্গল হবে তা বলে দিন। আপনার পক্ষ থেকে আমাকে আদেশ ও নিষেধ সহ একটি দ্বীন প্রদান করুন যাতে আমি হেদায়াত পেতে পারি ও আপনার সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি। যাতে আমি স্বাধীন ইচ্ছায় চলা থেকে বাঁচতে পারি। হালাকি, ধ্বংস ও গজবের পথ থেকে বাঁচতে পারি।”
দ্বীন শব্দটির অনেকগুলো অর্থ রয়েছে। ড. আবূ বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া বলেন: “যদি তোমাকে প্রশ্ন করা হয়, তোমার দ্বীন কি? উত্তরে বল : আমার দ্বীন হলো ইসলাম, যার মানে – আল্লাহর একত্ববাদকে মেনে নিয়ে সম্পূর্নভাবে তাঁর কাছে আত্নসমর্পণ করা, তাঁর নির্দেশ অনুসরণের মাধ্যমে স্বীকার করা, এবং আল্লাহর ইবাদতে অন্য কিছুর অংশীদারীত্ব করা থেকে মুক্ত থাকা এবং যারা তা করে তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা।”
আমাকে চিন্তা করতে হবে, ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও ইসলামের পক্ষাবলম্বন করার কারণেই পৃথিবীতে মানুষের “বড় প্রভু” দাবী করা ফিরআওনের স্ত্রী আছিয়া জান্নাতী হবেন। অন্যদিকে নবী লূত ‘আলাইহিস্ সালামের স্ত্রী একজন নবীর স্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও জাহান্নামী হবে শুধুমাত্র বাতিল, মিথ্যা ও অশ্লীলতার পক্ষে মতামত প্রদানের জন্য।

নেট হতে সংকলিত

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: