প্রয়োজনীয় আরও ৪০ হাদিস পর্ব ৫

১।রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, ‘যার নিকট অতিরিক্ত বাহন থাকে সে যেন যার বাহন নেই তাকে তা ব্যবহার করতে দেয়। যার নিকট অতিরিক্ত পাথেয় বা রসদ রয়েছে সে যেন যার রসদ নেই তাকে তা দিয়ে সাহায্য করে।” মুসলিম
২।নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, ‘লজ্জা ঈমানের বিশেষ অংশ।’ বুখারী ও মুসলিম।
৩।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন, “লজ্জা কল্যাণ ছাড়া আর কিছুই নিয়ে আসে না।” [বুখারী ও মুসলিম]
৪।উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
যে আমাদের দ্বীনের মধ্যে এমন কোন নতুন বিষয় সংযুক্ত করবে যা তার অংশ নয়, তা প্রত্যাখ্যাত হবে (অর্থাৎ, তা গ্রহণযোগ্য হবে না)।[বুখারীঃ ২৬৯৭, মুসলিমঃ ১৭১৮]
৫।আবু রুকাইয়্যা তামীম বিন আওস আদ্-দারী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে- নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দ্বীন হচ্ছে শুভকামনা। আমরা জিজ্ঞেস করলামঃ কার জন্য? তিনি বললেনঃ আল্লাহ্, তাঁর কিতাবের, তাঁর রাসূলের, মুসলমান নেতাদের এবং সকল মুসলমানের জন্য।[মুসলিমঃ ৫৫]
৬।ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ”কোন মুসলমানের রক্তপাত করা তিনটি কারণ ব্যতীত বৈধ নয়- বিবাহিত ব্যক্তি যদি ব্যভিচার করে, আর যদি প্রাণের বদলে প্রাণ নিতে হয়, এবং যদি কেউ স্বীয় দ্বীনকে পরিত্যাগ করে মুসলিম জামা’আত হতে আলাদা হয়ে যায়। [বুখারীঃ ৬৮৭৮, মুসলিমঃ ১৬৭৬]
৭।আবূ যার জুনদুব বিন জুনাদাহ্ এবং আবূ আব্দুর রহমান মু’আয বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা হতে বর্ণিত আছে, তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
তুমি যেখানে যে অবস্থায় থাক না কেন আল্লাহকে ভয় কর এবং প্রত্যেক মন্দ কাজের পর ভাল কাজ কর, যা তাকে মুছে দেবে; আর মানুষের সঙ্গে ভাল ব্যবহার কর।
৮।আবূ মাসউদ উকবাহ্ বিন আমর আল-আনসারী আল-বদরী রাদিয়াল্লাহু হতে বর্ণিত হয়েছে- তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “অতীতের নবীগণের কাছ থেকে মানুষ একথা জানতে পেরেছে- যদি তোমার লজ্জা না থাকে তাহলে যা ইচ্ছা তাই কর।”[বুখারী: ৩৪৮৩]
৯। যে কোন মুসলমান কোন বৃক্ষ রোপণ করল, অত:পর উহা হতে কোন পশু বা মানুষ কিছু অংশ খেল, তাতে ঐ ব্যক্তি দান-খয়রাত করার সওয়াব লাভ করবে।(বোখারী)
১০। যে ব্যক্তি অত্যাচার করে অর্ধহাত যমীন দখল করত, নিশ্চয়ই ক্বিয়ামতের দিন অনুরুপ সাতটি যমীন তার কাঁধে ঝুলিয়ে দেয়া হবে।(বোখারী)
১১।আবু হুরায়রা (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) কে বলতে শুনেছি ঃ মহামহিম আল্লাহ দয়াকে শতভাগে বিভক্ত করেছেন। তিনি (এর) নিরানব্বই ভাগ নিজের কাছে রেখেছেন এবং মাত্র একভাগ পৃথিবীতে অবতীর্ণ করেছেন। এই একভাগের কারণে সৃষ্টিকুলের একে অপরের প্রতি দয়াপরবশ হয়, এমনকি ঘোড়া তার পায়ের খুর এই আশংকায় তার শাবকের উপর থেকে তুলে নেয় যাতে সে ব্যথা না পায়।
১২। আবু বকর (রা) থেকে বর্ণিত, নবী (সঃ) বলেন ঃ যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না সে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ নয়।
১৩। ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন ঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর নামে আশ্রয় প্রার্থনা করে তাকে আশ্রয় দাও। যে ব্যক্তি আল্লাহর নামে কিছু প্রার্থনা করে তাকে দান কর। যে ব্যক্তি তোমাদের সাথে ভাল ব্যবহার করে তোমরা তার প্রতিদান দাও। প্রতিদান দেবার মত কিছু না থাকলে তার জন্য দোয়া কর, যাতে সে অনুভব করতে পারে যে, তোমরা তার ভাল কাজের প্রতিদান দিয়েছ।
১৪। ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন ঃ তোমরা জ্ঞান দান করো, দ্বীনকে সহজসাধ্য করো, কঠিন করোনা এবং তোমাদের মধ্যকার কেউ ক্রদ্ধ হলে সে যেন নীরবতা অবলম্বন করে।
১৫। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত নবী (সঃ) বলেন, তোমরা বেশী হাসবে না। কেননা অধিক হাসি অন্তরের মৃত্যু ঘটায়।
১৬।কবরসমূহকে সিজদার জায়গা বানাইও না।” (মুসলিম)
১৭। তোমরা শাসনকর্তার আদেশ-নিষেধ মেনে চলবে এবং তাঁর অনুগত থাকবে_- অত্যন্ত ছোট মাথাবিশিষ্ট কৃষ্ঞবর্ণ হাবশী লোককেও যদি তোমাদের উপর শাসনকর্তা নিযুক্ত করা হয়।” (বোখারী)
১৮। খানসা বিনতে খেযাম (রা.) মদীনাবাসিনী নারী সাহাবী হতে বর্ণিত আছে, তিনি বিবাহিতা ছিলেন, পরবর্তী বিবাহকালে তাঁর পিতা তাঁকে বিবাহ দিয়া দেন, অথচ তিনি সেই বিবাহে মোটেই সম্মত ছিলেন না। তিনি হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) নিকট উপস্থিত হয়ে ঘটনা জ্ঞাত করিলেন। হযরত (সা.) সেই বিবাহ বাতিল করে দিলেন।(বোখারী)
১৯। একবার বিবাহ হয়েছে এরুপ নারীকে (দ্বিতীয় বার) বিবাহ দানে তাহার স্পষ্ট অনুমতি গ্রহণ করতে হবে এবং কুমারীকে বিবাহ দানেও তাহার সম্মতি নিতে হবে।(বোখারী)
২০। বিচারক তিন প্রকার। এক শ্রেণীর বিচারক জান্নাতী, আর দুই শ্রেণীর বিচারক জাহন্নামী। (১) যে বিচারক সত্য উপলব্ধি করে এবং তদনুযায়ী বিচার করে সে জান্নাতী। (২) যে বিচারক সত্য উপলব্ধি করতে পারে কিন্তু তদনুযায়ী বিচার করে না, সে জাহান্নামী। (৩) আর এক শ্রেণীর বিচারক সত্য উপলব্ধি করতে পারে না। অজ্ঞতার ভিত্তিতে বিচার করে সেও জাহান্নামী। (আবু দাউদ)
২১। নিশ্চয়ই সূদ এমন বস্তু যার পরিণাম হচ্ছে সংকুচিত হওয়া যদিও তা বৃদ্ধি মনে হয়। (ইবনে মাজাহ)
২২। আল্লাহ তায়ালা তিন শ্রেণীর লোকের সাথে ক্বিয়ামতের দিন কথা বলবেন না। (১) বয়সপ্রাপ্ত যেনাকার (২) মিথ্যুক শাসক (৩) অহংকারী দরিদ্র।(মুসলিম)
২৩।নবী করীম (সঃ) ইরশাদ করেন,দ্বীন খুব সহজ সরল, কেউ নিজেকে দ্বীনের উপর বিজয়ী করার ইচ্ছা করলে,সে অবশ্যই পরাভূত হবে। অর্থাৎ , দ্বীন নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না, বরং সর্বদা মধ্যপন্থা অবলম্বন কর, নিয়মানুবর্তিতা অনুসরণ কর, সওয়াবের সুখবর গ্রহণ কর এবং সকাল সন্ধ্যা ও শেষ রাতের আমল দ্বারা স্বীয় কর্মে সাহায্য কামনা কর। (বোখারী, ১/৯৭)
২৪।যখন মহান আল্লাহর বাণী-অবতীর্ণ হল, “যারা ঈমান গ্রহণ করে এবং ঈমানের সাথে জুলুমকে না মিলায়” তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ)- এর সাহাবীগণ বললেন, আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে কমবেশি জুলুম করে না। তখন আল্লাহ তা’আয়ালা পবিত্র কোর আনের নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ করেন -‘ইন্নাশ শির্‌কা লাযুলমুন আযীমুন'(অর্থ- নিশ্চয়ই শিরক সর্বাপেক্ষা রড় জুলুম)। (বোখারী,১/৯৬)
২৫। : হযরত মা’রূর (রাঃ)বলেন, একদা মদীনার নিকটবর্তী ‘বারদাহ’ নামক স্থানে হযরত আবূ যর (রাঃ)- এর সাথে আমার দেখা হলে আমি দেখলাম, তাঁর গায়ে একখানা মূল্যবান চাদর রয়েছে। অনুরূপ একখানা চাদর তাঁর কাজের লোকের গায়েও রয়েছে। আমি তাঁদের এরূপ সমতার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, আমি এক সময় এক কাজের লোককে গালি দিলাম, এমন কি তার মা’র দিক থেকেও তাকে লজ্জা দিলাম। এ অবস্থা নবী করীম (সঃ)আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আবু যর ! তুমি তাকে তার মা’র দিক থেকেও লজ্জা দিলে ? তুমি তো এমন ব্যক্তি,তোমার মধ্যে এখনো জাহেলী যুগের প্রভাব রয়ে গেছে। হে আবু যর ! তোমাদের কাজের লোক তোমাদের ভাই। তাদেরকে তোমাদের অধীনস্থ করা হয়েছে। সুতরাং যার ভাই তার অধীনস্থ হবে,সে যা খাবে তাকেও তা খাওয়াবে এবং যা পরিধান করবে তা তাকে পরিধান করাবে।তাদেরকে কখনো এমন কাজের আদেশ করবে না যা কষ্টদায়ক। হ্যাঁ ! যদি কখনো এরূপ হয়ে যায় তখন তাদেরকে সাহায্য করো। ( ছহীহ বোখারী, ১/৯৬)
২৬।রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন, “তোমাদের মধ্যে সে পর্যন্ত কেউ (পরিপূর্ণ) মুমিন হতে পারবে না, যে পর্যন্ত সে তার মনের চাহিদাগুলোকে শরীয়তের অধীন করে নিতে না পারে।” (মিশকাত শরীফ)
২৭।রাসূলুল্লাহ (সঃ) ইরশাদ করেন, “মুমিনগণ প্রকৃতিগত ভাবে সরল- সোজা এবং ভদ্র হয়ে থাকে। অপরদিকে পাপী ও কাফিররা ধূর্ত ও চতুর স্বভাব বিশিষ্ট হয়ে থাকে।” (বুখারী শরীফ)
২৮।রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন,”মুসলমান সেই ব্যক্তি , যার জিহ্বা ও হাতের দ্বারা অন্য মুসলমান গণ শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করে।” (বুখারী শরীফ)
২৯। আবদুল্লাহ ইবনে আবী মুলাইকা বলেন, উম্মুল মোমেনীন হযরত আয়েশা (রাঃ) -এর অভ্যাস ছিল, তিনি কোন কিছু শুনলে তা বুঝে না আসা পর্যন্ত পুনরায় জিজ্ঞেস করতেন।একদা হুযুর (সঃ) বললেন, যার হিসাব নেয়া হবে তাকে অবশ্যই শাস্তি প্রদান করা হবে। হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, আল্লাহ কি বলেন নি-‘তাদের খুব সাধারণ হিসাব নেয়া হবে।’ উত্তরে রাসুল (সঃ) বললেন, এ বাক্য তো ক্ষমা হিসেবে বলা হয়েছে, কিন্তু যার কঠিন হিসাব নেয়া হবে সে অবশ্যই ধ্বংস হবে।(ছহীহ বোখারী শরীফ, ১ম খণ্ড, পৃঃ ১১৬)
৩০। আবু মাসউদুল আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি হুযুর (সঃ) -এর দরবারে উপস্থিত হয়ে আরজ করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (সঃ)! অমুক ব্যক্তি যে ভাবে নামায লম্বা করছেন, তাতে নামাযে শরীক হওয়া আমার পক্ষে অসম্ভব হচ্ছে। এতচ্ছ্রবণে হুযুর (সঃ) আমাদেরকে নসীহত করার জন্য মসজিদে দাঁড়ালেন। রাবী বলেন, আমি হুযুর (সঃ)-কে কোন দিন ওয়াজ নসীহতে আজকের মত এত অধিক রাগান্বিত হতে দেখিনি। তিনি আমাদেরকে রাগতস্বরে বললেন, হে সাহাবাগণ! তোমরা লোকদেরকে নামাযের জামাআত থেকে দূরে রাখতে চাও কেন? যে লোকদেরকে নিয়ে জামাআতে নামায আদায় করবে, সে যেন নামায দীর্ঘায়িত না করে; বরং ছোট ছোট কেরাআতে নামায আদায় করে। যেহেতু জামাআতে শরীকদের মধ্যে অসুস্থ .দুর্বল এবং বিভিন্ন ধরনের লোক রয়েছে। (বোখারী শরীফ, ১ম খণ্ড, পৃঃ ১১৩)
৩১। আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) বলেন, আমি একদা হুযুর (সঃ)-এর সাথে মদীনার অনাবাসী এলাকায় যাচ্ছিলাম। তাঁর হাতে ছিল খেজুরের একটি কাষ্ঠখণ্ড, যার উপর তিনি ভর করতেন। এক সময় তিনি ইহুদীদের কিছু লোকের সম্মুখ দিয়ে যাচ্ছিলেন। হুযুর (সঃ)-কে দেখতে পেয়ে তারা একে অপরকে বলতে লাগল, তাঁকে (মুহাম্মদ (সঃ)) রূহ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হোক। আবার কেউ বলল, তাঁকে কোন প্রশ্নই করো না। হতে পারে তিনি এমন কথা বলবেন, যা তোমাদের নিকট অপছন্দনীয় হবে,কিন্তু অপর একজন বলল, আমি অবশ্যই তাঁকে প্রশ্ন করবো। তার পর সে বলল, হে আবুল কাসেম! রূহ কি জিনিস? এ প্রশ্নে হুযুর (সঃ) নিশ্চুপ হয়ে গেলেন। ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন, আমি হুযুর (সঃ)-এর অবস্থা দেখে বুঝতে পারলাম, নিশ্চয়ই তাঁর উপর ওহী অবতীর্ণ হচ্ছে। তাই আমি দাঁড়িয়ে গেলাম। যখন হুযুর (সঃ)-এর ঐ অবস্থা কেটে গেল, তখন তিনি কোরআনের এ আয়াত পাঠ করলেন-(বাংলা অর্থ) ওরা আপনাকে রূহ সম্পর্কে প্রশ্ন করেছে। আপনি তাদেরকে বলে দিন, ‘রূহ’ আমার রবের একটি নির্দেশ মাত্র। আর তোরদেরকে সামান্য এলেম-ই প্রদান করা হয়েছে।(বোখারী শরীফ, ১/১২৩-১২৪)
৩২। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ উত্তমরূপে উযু করার পর মসজিদে গমনের ইচ্ছা করে, সে যেন তার হাতের অংগুলী না মটকায়। কেননা ঐ ব্যক্তিকে তখন নামাযী হিসেবে গণ্য করা হয়।
৩৩। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে (জামায়াতের পর) একাকী নামায আদায় করতে দেখে বলেনঃ তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নাই কি- যে এই ব্যক্তিকে সদকা দিয়ে তার সাথে একত্রে নামায পড়তে পারে?
৩৪। ইবন আব্বাস (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ তোমাদের মধ্যেকার উত্তম ব্যক্তি যেন আযান দেয় এবং বিশুদ্ধরূপে কুরআন পাঠকারী যেন তোমাদের ইমামতি করে।
৩৫। আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রা•) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ আল্লাহ তা’য়ালা তিন ব্যক্তির নামায কবুল করেন না। যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের ইমামতি করে, অথচ মুকতাদীরা তার উপর অসন্তুষ্ট। যে ব্যক্তি নামাযের সময় উত্তীর্ণ হওয়ার পর নামায আদায় করে এবং যে ব্যক্তি স্বাধীন মহিলা অথবা পুরুষ লোককে ক্রীতদাসী বা দাস বানায়।
৩৬। আবু হুরায়রা (রা•) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে কোন মুসলমান ইমামের পেছনে (জামায়াতের) ফরয নামাযসমূহ আদায় করা বাধ্যতামূলক- চাই সে (ইমাম) সৎ হোক অথবা অসৎ- এমনকি সে কবীরা গুনাহের কাজে লিপ্ত হয়ে থাকলেও।
৩৭। ইবন মাসউদ (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি নামাযের মধ্যে অহংকার করে স্বীয় পরিধেয় বস্ত্র (লুংগি, জামা, পাজামা বা প্যান্ট গোছার নীচে পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখে, ঐ ব্যক্তির ভাল বা মন্দের ব্যাপারে আল্লাহ তা’য়ালার কোন দায়িত্ব নেই ।
৩৮। আবু হুরায়রা (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ (কোন খোলা স্থানে) নামায আদায় করবে, তখন সে যেন সুতরা হিসাবে তার সামনে কিছু স্থাপন করে। যদি কিছু না পায় তবে সে যেন একটি লাঠি তার সামনে স্থাপন করে। যদি তার সাথে লাঠি না থাকে, তবে সে যেন তার সামনের মাটিতে দাগ টেনে নেয়। অতঃপর কেউ তার সম্মুখভাগ দিয়ে যাতায়াত করলে তার কোন ক্ষতি হবে না।
৩৯। আম্মার ইবন ইয়াসির (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ এমন অনেক লোক আছে যারা নামায পড়ে কিন্তু তাদের নামায পুরাপুরি কবুল না হওয়ায় পরিপূর্ণ ছওয়াব প্রাপ্ত হয় না। বরং তাদের কেউ ১০ ভাগের ১ ভাগ, ৯ ভাগের ১ ভাগ, ৮ ভাগের ১ ভাগ, ৭ ভাগের ১ ভাগ, ৬ ভাগের ১ ভাগ, ৫ ভাগের ১ ভাগ, ৪ ভাগের ১ ভাগ, তিনের- একাংশ বা অর্ধাংশ ছওয়াব প্রাপ্ত হয়ে থাকে।
৪০। আব্দুল্লাহ ইবন আবু কাতাদা থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, সম্ভবতঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামায়াতে অধিক লোকের শরীক হওয়ার সুযোগ প্রদানের উদ্দেশ্যে প্রথম রাকাত দীর্ঘ করতেন। (হাদীস নং-৮০০)

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: