দোযখ

একদা জিব্রাঈল (আঃ) মহানবী (সাঃ) এর নিকট এমন সময় উপস্হিত হন সাধারণত যেসময় তিনি উপস্হিত হন না । নবীজী তৎপর হয়ে অগ্রসর হলেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে জিব্রাঈল ! কি হয়েছে ? আপনাকে এমন বিবর্ণ দেখাচ্ছে কেন ? তিনি বললেন, আল্লাহতায়ালা দোযখের অগ্নিকে উত্তপ্ত করার হুকুম দিয়েছেন । তারপরেই এসে আপনার কাছে হাজির হলাম ।

হুযুর (সাঃ) বললেন, আমাকে কিছূ বিবরণ শুনান । হযরত জিব্রাঈল (আঃ) বললেন, আল্লাহতায়ালা দোযখকে উত্তপ্ত হওয়ার হুকুম করলেন । অতঃপর সে এক হাজার বছর পর্যন্ত উত্তপ্ত হতে থাকে । ফলে দোযখের আগুন শ্বেত বর্ণ ধারণ করে । অতঃপর আবারও হুকুম করেন । এবারও এক হাজার বছর জ্বলতে থাকে ফলে দোযখের আগুন লাল বর্ণে রূপান্তরিত হয় । আল্লাহতায়ালা পুনরায় দোযখের আগুনকে আরো উত্তপ্ত হওয়ার হুকুম করেন । অতএব দোযখের আগুন আরো এক হাজার বছর জ্বলতে থাকে । পরিশেষে এ আগুন কৃষ্ঞবর্ণ ধারণ করে । বর্তমানে সেই আগুনের অবস্হা এই যে, এর স্ফূলিঙ্গের কোন শেষ নাই এবং এর লেলিহানেরও কোন অবধি নাই ।

তারপর তিনি বলেন, ইহা রাসূলূল্লাহ ! সেই পবিত্র সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্য নবী করে পাঠিয়েছেন – একটি সুইয়ের পরিমাণ অংশও যদি দোযখের ফুটা হয়ে যায় – তাহলে জগতের সমস্ত মানুষ এর আতংকে মরে যাবে । ঐ সত্তার কসম , যিনি আপনাকে সত্য নবী করে পাঠিয়েছেন । দোযখের প্রহরীদেরদ মধ্যে যদি একজনও দুনিয়াবাসীর সামনে প্রকাশ পায় , তবে সমগ্র দুনিয়াবাসী তার ভয়ে মৃত্যুবরণ করবে ।

তারপর আবার বললেন, ঐ পবিত্র সত্তার কসম ! যিনি আপনাকে সত্য নবীরূপে পাঠিয়েছেন । দোযখের শিকল সমূহের মধ্যে এমন একটি শিকল যার উল্লেখ পবিত্র কুরআনে করা হয়েছে । যদি দুনিয়ার পাহাড়-পর্বতের উপর রাখা হয় । তবে পাহাড় সমূহ বিগলিত হয়ে যাবে এবং শিকলটি দুনিয়ার সর্বশেষ অংশে গিয়ে থেমে যাবে ।

এ অবস্হায় মহানবী (সাঃ) ভয় পেয়ে গেলেন আর বললেন, ক্ষান্ত হও হে জিব্রাঈল , আর বলো না ; মনে হচ্ছে যেন আমার অন্তর ফেটে যাবে আর আমি এখনই মৃত্যু বরণ করব । একথা বলে নবীজী জিব্রাঈল (আঃ) এর দিকে তাকিয়ে দেখলেন তিনি কাদছেন । নবীজী (সাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কাদছেন কেন ? আল্লাহতায়ালার নিকট তো আপনার বিশেষ মর্যাদা রয়েছে । জিব্রাঈল (আঃ) আরজ করলেন , আমি কেন কাদব না, আমার তো আরো বেশী করে কাদা উচিত । কেননা, আল্লাহ তায়ালার নিকট যদি আমার বর্তমান অবস্হার স্হলে অন্য কোন অবস্হা হয়ে থাকে , তবে আমার কি উপায় হবে ? আমি জানিনা, ইবলিশের উপর যেভাবে বিপদ এসেছে, সেরূপ আমার উপরও পতিত না হয় । অথচ সেও ফেরেশ্তা ছিলো । জানিনা, হারূত ও মারুতের উপর যেভাবে আপদ এসেছে আমার উপরও সেরূপ না পড়ে । একথা শুনে রাসূলূল্লাহ (সাঃ) কাদতে লাগলেন এবং জীব্রাঈল (আঃ) ও কাদতে লাগলেন । এভাবে উভয়-ই কাঁদতে থাকলেন ।

এমন সময় গায়েব থেকে আওয়াজ আসলো, হে জীব্রাঈল, হে মুহাম্মদ ! আল্লাহ’তায়ালা আপনাদের উভয়কে তার নাফরমানী ও অবাধ্যতা থেকে পবিত্র ও নিস্পাপ করে দিয়েছেন । অতঃপর হযরত জীব্রাঈল (আঃ) ঊর্ধ্বজগতে চলে গেলেন । মহানবী (সাঃ) উনার গৃহ থেকে বাইরে তাশরীফ আনলেন ।

বাইরে এসে তিনি দেখলেন, কয়েকজন আনসারী ক্রীড়া কৈাতুকে লিপ্ত রয়েছেন । তাদেকে উদ্দেশ্য করে নবীজী বললেন, তোমরা হাসি-ঠাট্রা ও ক্রীড়া কৈাতুকে মগ্ন রয়েছে । অথচ তোমাদের মাথার উপর রয়েছে জাহান্নাম । আমি যা জেনেছি, তোমরা যদি তা জানতে, তবে খুব কমই হাসতে এবং অতি অধিক মাত্রায় ক্রন্দন করতে । খাওয়া-দাওয়া তোমাদের ভালো লাগতো না এবং নির্জন জঙ্গলে আল্লাহর তালাশে তোমরা বের হয়ে যেতে । এমন সময় অদৃশ্য থেকে আওয়াজ আসলো, হে মুহাম্মদ ! আমার বান্দাদেরকে নিরাশ করো না । তোমাকে সুসংবাদরূপে পাঠিয়েছি ; হতাশ করার জন্য নয় । হুযুর (সাঃ) এরশাদ করেন, তোমরা সকলে দুরস্ত ও সঠিক পথের পথিক হয়ে যাও । হক ও সত্য থেকে দূরে সরে যেওনা ।

ইমাম আহমদ (রহঃ) বর্ণনা করেন, নবী করিম (সাঃ) হযরত জীব্রাঈল (আঃ) কে জিজ্ঞাসা করেছেন, হযরত মিকাঈল (আঃ) কে কখনও হাসতে দেখি নাই – এর কারণ কি ? তিনি বললেন, যখন থেকে দোযখ বানানো হয়েছে তখন থেকে মিকাঈল (আঃ) এর হাসি বন্ধ হয়ে গেছে ।

উৎসঃ মুক্কশাফাতূল ক্বুলুব । আত্নার আলো- হযরত ইমাম গাজ্জ্বালী (রহঃ)

Copied from http://www.somewhereinblog.net/blog/sheksadi/29602881

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: