হজরত ফাতেমা (রাঃ)

হজরত ফাতেমা (রা.) ছিলেন বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সর্বাধিক প্রিয়তমা, গভীর স্নেহের পাত্রী এবং তার মনের শান্তি। তার মনের চাহিদার প্রতি বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিক লক্ষ্য রাখতেন এবং তার প্রয়োজন মিটাতে এগিয়ে আসতেন। বুখারী এবং মুসলিম শরীফের হাদিসে রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজরত ফাতেমাকে বলেন, ‘হে ফাতেমা! তুমি সন্তুষ্ট থাক, কেননা তুমি সব মুমিন নারীদের নয় বরং সব নারীর সর্দার।’
ফাতেমা আমার দেহের অংশ। যারা তাকে রাগান্বিত করবে (প্রকৃতপক্ষে) তারা আমাকে রাগান্বিত করেছে’। সহীহ আল বুখারী
‘ফাতেমা বেহেশতের নারীদের সর্দার’।সহীহ আল বুখারী
উম্মুল মোমেনিন আয়েশা, হযরত ফাতেমাকে (সা.) বললেন: নবী করিম (সা.) হতে আমি যা শুনেছি তোমাকে কি খুশি করবে না ? নবী করিম (সা.) বলতেন: “বেহেস্তের মহিলাদের সর্বশ্রেষ্ঠ হচ্ছেন চারজন: ১। মারিয়াম বিনতে এমরান; ২। ফাতেমা বিনতে মোহাম্মদ (সা.); ৩। খাদিজা বিনতে খুওয়াইলদ; ৪। আসিয়া বিনতে মোযাহেম ও ফেরাউনের স্ত্রী”।
একবার হযরত আলী দ্বিতীয় একটি বিবাহ করতে মনস্থ করলেন। মা ফাতেমা ও স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সঃ) এতে দারুণ মর্মাহত হন। মসজিদে নববীতে খুৎবাহ দেয়ার সময় তিনি বললেন মা ফাতেমা আমার কলিজার টুকরাসম। তাকে কষ্ট দেয়া আমাকেই কষ্ট দেয়া হবে। এই কথা শুনে হযরত আলী চমকে উঠলেন। তিনি দ্বিতীয় বিয়ের সংকল্প পরিত্যাগ করলেন। তাই দেখা যায় মা ফাতেমা যতদিন জীবিত ছিলেন, ততদিন হযরত আলী কখনো তাঁর সামনে রুক্ষ কথা বলেননি এবং দ্বিতীয় বিবাহও করেননি।
বিশিষ্ট লেবাননীয় সাহিত্যিক ও কবি জনাব সুলাইমান কাত্তানী , যিনি কিনা একজন অমুসলিম তার গ্রন্থের শেষাংশে লিখেছেন: ফাতেমা, হে মোস্তফার কন্যা! হে সর্বোচ্চ উজ্বল চেহারার অধিকারী যাকে পৃথিবী নিজের কাঁধে স্থান দিয়েছে, তুমি শুধুমাত্র দুইবার মুচকি হেসেছো; একবার নিজের বাবার সম্মুখে যখন তিনি মৃত্যুশয্যায়ে ছিলেন এবং তোমাকে তার সাথে অতি দ্রুত সাক্ষাতের সুসংবাদ দিলেন। আর দ্বিতীয়বার তোমার মুচকি হাসিটি তোমার সমগ্র ঠোঁটে ছড়িয়ে পড়েছিল যখন ছিল জীবনের শেষ মুহূর্তে তুমি তোমার শেষ নিঃশ্বাসটি ছেড়ে দিলে… তুমি সর্বদা ভালাবাসার সাথে জীবন যাপন করেছো, তুমি পবিত্রতার সাথে জীবন-যাপন করেছো…তুমি পৃথিবীকে উপহাসব্যাঞ্জক মুচকি হাসির সাথে পরিত্যাগ করে চিরস্থায়ী জীবনের দিকে রওনা হয়েছো। হে নবী কন্য! হে আলীর স্ত্রী! হে হাসান ও হোসাইনের মাতা, হে সকল যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ নারী’।
পৃথিবীতে এমন কয়েকজন অসাধারণ মানুষ জন্ম নিয়েছেন যাঁরা মানবজাতির চিরন্তন গৌরব, যাঁরা আদর্শ মানুষের প্রতীক তথা মানবতা ও মনুষ্যত্বের পূর্ণতার মডেল। নবী-নন্দিনী খাতুনে জান্নাত হযরত ফাতেমা জাহরা (সাঃ) সেইসব অসাধারণ মানুষেরই একজন। স্নেহময়ী জননীর মত বিশ্বনবী (সাঃ)’র সেবা-যত্ন করা এবং বিপদের সময় তাঁর সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য মহীয়সী নারী ফাতিমা (সাঃ)’র অন্য একটি নাম উম্মে আবিহা বা পিতার জননী। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) তাঁকে সকল যুগের নারীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে উল্লেখ করেছেন এবং আল্লাহর দরবারে তাঁর বিশেষ মর্যাদার কারণে তাঁকে দেখলে দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করতেন।
অনেক ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী পবিত্র কোরআনের সূরা কাওসার-এ উল্লেখিত কাওসার বলতে হযরত ফাতেমা (সাঃ)কেই বোঝানো হয়েছে। মক্কার কাফের ও মুশরিকরা যখন বিশ্বনবী (সাঃ)কে আবতার বা নির্বংশ বলে উপহাস করতো, এবং রাসূলের ওফাতের পরই তার ধর্ম শেষ হয়ে যাবে বলে প্রচার করতো তখন এই সূরা নাজেল হয়। এ সূরায় কাফেররাই নির্বংশ হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। হযরত ফাতিমা (সাঃ) ‘র মাধ্যমে রাসূলে পাক (সাঃ)’র বংশধারা আজো অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে নির্মূল হয়ে গেছে আবু লাহাব ও আবু জাহেলদের বংশধর।
একজন পরিপূর্ণ আদর্শ মানুষ হিসেবে হযরত ফাতিমা (রাঃ) এটা প্রমাণ করেছেন যে, পরিপূর্ণতার শিখরে ওঠার জন্য নারী হওয়া বা পুরুষ হওয়া জরুরী কোনো শর্ত নয়। তিনি জন্ম নিয়েছিলেন এমন এক যুগে যখন আরবরা নারীকে মনে করতো কেবল ভোগের সামগ্রী এবং জাত্যাভিমানী আরবদের ঘরে কণ্যা সন্তান জন্ম গ্রহণ করলে তারা অমর্যাদার ভয়ে কণ্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দিত বা গোপনে মেরে ফেলতো । কিন্তু মহান আল্লাহ তার সর্বশেষ রাসূল ও সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানবের ঘরে একজন কন্যা সন্তান পাঠিয়ে নারী জাতির জন্য অশেষ সম্মান ও মুক্তির ব্যবস্থা করেছেন।
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রাত জেগে ইবাদত-বন্দেগী করা ছাড়াও প্রায়ই রোজা রাখা ও গরীব-দূঃখীকে অসাধারণ মাত্রায় দান-খয়রাত করা ছিল হযরত ফাতিমা (রাঃ)’র একটি বড় বৈশিষ্ট্য। নবী-নন্দিনী (রাঃ) বলেছেন, পৃথিবীতে তিনটি জিনিস আমার খুবই প্রিয়। আল্লাহর পথে ব্যয়, রাসূলে খোদা (সাঃ)র চেহারার দিকে তাকানো এবং পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত। পবিত্র কোরআনের আয়াত শ্রবণ মুসলমানদেরকে মুক্তির তীরে পৌঁছে দেয়।
তথ্য সুত্রঃ (এডিটেড)

http://ittefaq.com.bd/content/2010/12/31/news0853.htm
http://islamibd.com/home/index.php?option=com_content&view=article&id=212:2011-05-30-05-09-01&catid=6:2009-02-05-15-10-04&Itemid=10
http://taiyabs.com/islam/?p=830
http://bangla.irib.ir/index.php/2010-04-22-08-00-01/2010-04-22-08-01-54/11313——–.html

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: