সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ

ইহকালীন জীবনে যেসব সৎ কাজ রয়েছে, সেগুলো যথাযথভাবে নিজে পালন করা ও অন্যকে পালন করার জন্য সদুপদেশ প্রদান করা এবং দুনিয়ায় যেসব অসৎ কাজ রয়েছে, সেগুলো থেকে নিজে বিরত থাকা ও অন্যকে বিরত রাখাই হলো মানবজীবনে উন্নতির উপায়। মানুষ দুনিয়ায় সত্য কথা বলবে, আমানত রক্ষা করবে, ওয়াদা পালন করবে। শুধু নিজেই এগুলো মেনে চললে হবে না, অপরকেও এসব সৎ কাজ পালন করার জন্য উপদেশ দিতে হবে। পক্ষান্তরে সে মিথ্যা বলা থেকে দূরে থাকবে, কারও গিবত তথা পরচর্চা ও পরনিন্দা করবে না, কারও গচ্ছিত সম্পদ নষ্ট বা আত্মসাৎ করবে না। ঘুষ, দুর্নীতি, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি, সন্ত্রাস, বোমাবাজি প্রভৃতি সামাজিক অনাচার বর্জন করবে এবং এসব অসৎ কাজ থেকে দূরে থাকার জন্য অন্য ব্যক্তিদেরও সদুপদেশ দেবে।
এ মর্মে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে এমন একদল লোক হোক, যারা মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, সৎ কাজের আদেশ দেবে এবং অসৎ কাজে নিষেধ করবে, আর তারাই সফলকাম।’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত-১০৪)
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে হজরত লুকমান (আ.)-এর সদুপদেশ ব্যক্ত করে ইরশাদ করেছেন, ‘হে আমার বৎস! তুমি নামাজ প্রতিষ্ঠা করো, সৎ কাজের আদেশ দাও, মন্দ কাজ হতে বিরত রাখো এবং বিপদ-আপদে ধৈর্যধারণ করো, নিশ্চয়ই এটা দৃঢ়সংকল্পের কাজ।’ (সূরা লুকমান, আয়াত-১৭)

পথভোলা মানুষকে সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসুলকে পাঠিয়েছেন এবং মানবতার কল্যাণের জন্য ঐশী ধর্মগ্রন্থ তথা আসমানি কিতাব নাজিল করেছেন। ইসলামের দৃষ্টিতে সৎ কাজ মানে ভালো কাজ, যেসব কাজ আল্লাহ ও তাঁর রাসুল পছন্দ করেন, যাতে বিশ্বমানবতার কল্যাণ সাধন হয়।বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পরে আর কোনো নবী আসবেন না, কোনো ঐশী ধর্মগ্রন্থও আসবে না। তাই সৎ কাজের আদেশ দান এবং অসৎ কাজে নিষেধ করার দায়িত্ব সর্বশেষ নবীর উম্মতের ওপর পড়েছে। এটি উম্মতে মুহাম্মদীর বৈশিষ্ট্য ও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
রাসুলুল্লাহ (সা.) সাবধানবাণী উচ্চারণ করেছেন, ‘কোনো মুসলমান যদি কাউকে অন্যায় করতে দেখে, তবে হাতে বল প্রয়োগে ফেরাবে, যদি সে সামর্থ্য না থাকে তবে মুখে সে অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে, যদি সে সামর্থ্যও না থাকে তাহলে মনে মনে খারাপ জানবে। আর এটাই দুর্বলতম ঈমানের পরিচায়ক।’ (মুসলিম)

মানুষকে সৎ কাজের আদেশ দিতে হলে আগে নিজে সৎ হতে হবে, তা না করা হলে সুফল পাওয়া যাবে না। অনুরূপভাবে অপরকে অসৎ কাজে নিষেধ করলে আগে নিজে অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। নিজে অসৎ হয়ে অন্যকে অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখা যায় না। তাই আসুন, দশে মিলে কল্যাণকর সৎ পথের সন্ধানে নিজেদের ব্যাপৃত করি।

ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ অ্যান্ড দাওয়াহ, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়।
dr.munimkhan@yahoo.com

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: