প্রতিবেশী (কোরআন ও হাদিসের আলোকে)

প্রকৃত ঈমানদার মানুষের দ্বারা কখনো তার প্রতিবেশী কষ্ট পেতে পারে না। এ প্রসঙ্গে হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁর পাক জবানে বলেছেন, “আল্লাহুর শপথ! ঐ ব্যক্তির ঈমান নেই। প্রশ্ন করা হলো- হে আল্লাহুর রাসূল! কার ঈমান নেই? তিনি ইরশাদ করেন, “যার প্রতিবেশী তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ নয়।” (বোখারী শরীফ, ও মুসলিম শরীফ)

একটি হাদীসে আছে রাসূল (সঃ) হযরত আবু জর (রাঃ)-কে বলেন -“হে আবু জর! যখন তুমি সালন পাকাবে, তাতে একটু বেশি করে পানি ঢেলে দিও এবং তা দ্বারা পাড়া-প্রতিবেশীর প্রতি লক্ষ্য রেখ।” (মুসলিম শরীফ)

প্রতিবেশীর সাথে আমাদের সুসম্পর্ক রাখতে হবে। প্রতিবেশীকে মাঝে মাঝে কিছু উপহার প্রদান করা উচিৎ।
হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন, নবী করীম (সঃ) ইরশাদ করেন,- “হে মুসলিম রমণীগণ! কোন প্রতিবেশী যেন অপর প্রতিবেশীর দেয়া কোন উপঢৌকন কে তুচ্ছ মনে না করে। যদিও তা একটি বকরীর সামান্য পায়াও হয়।” (মুসলিম)
হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি হযরত রাসূলুল্লাহ (সঃ) -কে জিজ্ঞেস করলাম , ইয়া রাসুল (সঃ)!আমাদের দুজন প্রতিবেশী আছেন। আমি উপঢৌকন পাঠাতে চাই একজনের কাছে। এখন আমি কার কাছে পাঠাবো? আল্লাহুর নবী, রাসুল (সঃ) জবাবে বললেন, “ঐ প্রতিবেশীকে পাঠাবে, যার ঘর তোমার ঘরের অধিক নিকটে।” (বুখারী শরীফ)
হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, একজন লোক নবী করীম (সঃ)-এর নিকট আরজ করলেন, হে আল্লাহুর রাসুল (সঃ)! অমুক মহিলা বেশি বেশি নফল নামায আদায় করে, নফল রোযা রাখে, দান-খয়রাত করে, এসব বিষয়ে সে বেশ খ্যাত। কিন্তু সে প্রতিবেশীকে মুখের দ্বারা কষ্ট দেয়। রাসূলুল্লাহ (সঃ) তার পরিণাম সম্পর্কে বললে,-“সে জাহান্নামী”।
‘মুসলমান ভাইকে মুসলমান ভাই সাহায্যে করবে, সে অত্যাচারিত হোক বা অত্যাচারী হোক’। কিন্তু সে অত্যাচারী হলে কিভাবে আমারা সাহায্য করব? রাসূলে আকরাম (সাঃ) বললেন, ‘তাকে অত্যাচার করা থেকে নিষেধ ও নিরস্ত করবে’।
হাদীসে আরো পাই “সেই ব্যক্তি মু’মিন হতে পারে না, যে ব্যক্তি নিজে পেট ভরে পানাহার করে, কিন্তু তার পার্শ্বেই প্রতিবেশী খাদ্যের অভাবে অভুক্ত থাকে।” (মিশকাত-বায়হানী)।
প্রিয় নবী (সাঃ)বলেছেন- “সে আমার উম্মত নয়, ‘যে প্রতিবেশীর খোঁজ-খবর করে না।”
সূরা-রা’দ এর ২৫ আয়াতে আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন, ‘যে সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখতে আল্লাহ আদেশ করেছেন, তা ছিন্ন করে এবং পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে বেড়ায়, তাদের জন্য আছে লা’নত এবং তাদের জন্য আছে মন্দ আবাস।’
সূরা আল বাকারার ৮৪ আয়াতে আছে— ‘তোমরা পরস্পরে রক্তপাত করবে না এবং আপনজনকে স্বদেশ হতে বহিষ্কার করবে না’
হাদীসে আছে-অন্যের রক্ত, সম্পদ ও ইজ্জত তোমার কাছে পবিত্র আমানত, এর খেয়ানত করা হারাম।’
অন্যদিকে মুসলিম হাদীসে উল্লেখ রয়েছে- “যে বান্দা তার ভাইয়ের সাথে শত্রুতা পোষণ করে সে ছাড়া প্রত্যেক মুমিন বান্দাকে মাফ করে দেয়া হয়।”
সামজের মাঝে মানুষে মানুষে বিরোধ দেখা দিলে তা মিটিয়ে ফেলার প্রয়াস নিতে হবে। এ ব্যাপারে পবিত্র কোরআনের সূরা-শূরার ৪০ আয়াতে আছে” যে ক্ষমা করে দেয় ও আপোষ নিষ্পত্তি করে তার পুরস্কার আল্লাহর নিকট আছে। আল্লাহ জালিমদেরকে পছন্দ করেন না।’
অন্য এক আয়াতে (সূরা-শূরা-আয়াত-৪৫) আছে— ‘ক্ষতিগ্রস্ত তারাই যারা নিজেদের ও নিজেদের পরিজনবর্গের ক্ষতিসাধন করেছে।’ জেনে রাখ জালিমরা অবশ্যই ভোগ করবে স্থায়ী শাস্তি।

মুসলমানদের গোষ্ঠীতে গোষ্ঠীতে ভাগ হতে বলেননি, বরং ধ্বংসের/বিনাশের হাত থেকে বাঁচার জন্য নবী করীম (সাঃ) ও তাঁর প্রিয়জনের অনুগামী থাকার মতাদর্শে সংলগ্ন থাকারই জন্য সতর্কতা প্রদান করেছেন। এ ব্যপারে আল্লাহ্ পাক ইরশাদ করেছেন- ‘তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে ধর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হইও না। তোমাদের পতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর, তোমরা ছিলে পরস্পর শত্রু এবং তিনি তোমাদের হৃদয়ে প্রীতির সঞ্চার করেন, ফলে তাঁর অনুগ্রহে তোমরা পরস্পর ভাই হয়ে গেলে। তোমরা তো অগ্নিকুণ্ডের প্রান্তে ছিলে আল্লাহ তা থেকে তোমাদের রক্ষা করেছেন”
আমরা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। আমরা প্রতিবেশী সহ অন্য কাউকে কোন ভাবে কষ্ট দিব না। সকলের সাথে সদ্বব্যবহার করবো। নিশ্চয় আল্লাহ সৎ পথ প্রদর্শক।

Edited from Source http://islamicbanglabd.blogspot.com & http://www.prothom-aloblog.com/posts/16/74912

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: