মুহাম্মদ ( স: ) সম্পর্কে জর্জ বার্নাড শ, টমাস কার্লাইল, মহাত্মা গান্ধী এবং আরও কয়েকজন বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব পর্ব ৩

Annie Besant in ‘The Life and Teachings of Mohammad,’ Madras, 1932.
যে কেউ আরবের মহান নবীর জীবন এবং চরিত্র অধ্যয়ন করেন তার হৃদয়ে মহান নবীর প্রতি শ্রদ্ধার উদ্রেক না হয়ে পারে না, যিনি জেনেছেন তিনি(নবী) কিভাবে শিক্ষা দিতেন এবং বসবাস করতেন; তিনি ছিলেন স্রষ্টার মহান বার্তাবাহকদের অন্যতম। যদিও আমি আপনাদেরকে এখন যা বলবো তা অনেকের কাছে সুপরিচিত মনে হতে পারে, তথাপি যখনই আমি মুহাম্মদের জীবনী পুনরায় পাঠ করি প্রতিবারই আরবের মহান শিক্ষকের প্রতি আমার মনে মুগ্ধতা ও শ্রদ্ধার নতুন ভাব জাগ্রত হয়।

W.C. Taylor in ‘The History of Muhammadanism and its Sects’
দরিদ্র লোকদের প্রতি তাঁর সদয়তা এত বেশী ছিল যে প্রায়ই পরিবার-পরিজনকে উপবাস করতে হতো। তিনি শুধু তাদের অভাব মোচন করেই তৃপ্ত হতেন না, তাদের সাথে কথা-বার্তা বলতেন এবং তাদের দু:খ-দুর্দশার জন্য গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করতেন। তিনি ছিলেন ঘনিষ্ট বন্ধু এবং বিশ্বস্ত সহযোগী।

Reverend Bosworth Smith in ‘Muhammad and Muhammadanism,’ London, 1874.
রাষ্ট্রপ্রধান একইসাথে উপাসনাগৃহের প্রধান, তিনি ছিলেন একই সাথে সীজার এবং পোপ; তিনি পোপ ছিলেন কিন্তু পোপের দুরহংকার ছাড়া, তিনি সীজার ছিলেন কিন্তু সীজারের মতো বিরাট সেনাবাহিনী ছাড়া, দেহরক্ষী ছাড়া, শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ছাড়া, স্থায়ী কোন ভাতা ছাড়া। যদি আজ পর্যন্ত কোন মানুষ ন্যায়বিচারপূর্ণ স্বর্গীয় শাসন করে থাকে, তবে সেটা ছিলেন মুহাম্মদ।

Dr. Gustav Weil in ‘History of the Islamic Peoples’ মুহাম্মদ ছিলেন তাঁর অনুসারীদের জন্য জাজ্বল্যমান দৃষ্টান্ত। তাঁর চরিত্র ছিল নিষ্কলুষ এবং দৃঢ়। তাঁর গৃহ, পোষাক, খাদ্য- সবই ছিল অতি সাধারণ। তিনি এতই নিরহংকার ছিলেন যে তাঁর সংগীদের কাছ থেকে বিশেষ কোন সম্মান গ্রহণ করতেন না কিংবা যে কাজ তিনি নিজে করতে পারতেন তাঁর জন্য অযথা ভৃত্যের সাহায্য নিতেন না। সবসময় সবার জন্য তাঁর দ্বার ছিল উন্মুক্ত ছিল। তিনি অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যেতেন এবং সবার প্রতি তাঁর অপরিসীম সহানুভূতি ছিল। তাঁর বদান্যতা ও মহানুভবতা ছিলো অসীম, সেইসাথে তিনি সবসময় অনুসরীদের মংগলের কথা চিন্তা করতেন।

J.W.H. Stab in ‘Islam and its Founder’
তাঁর কাজের সীমা এবং স্থায়িত্ব বিবেচনা করলে শুধু মক্কার নবী হিসেবে নয় পৃথিবীর ইতিহাসে তিনি আরও দীপ্তিময়ভাবে জ্বলজ্বল করছেন। …..মানুষের বিখ্যাত হওয়ার মাপকাঠি অনুসারে বিচার করলে তাঁর সাথে অন্য কোন মরণশীলের খ্যাতি তুলনীয় হতে পারে কি ?

Washington Irving in ‘Life of Muhammad,’ New York,1920.
মুহাম্মদের সামরিক বিজয় তাঁর মাঝে কোন গর্ব ও অযথা দম্ভ জাগায়নি। প্রতিকূল দিনগুলোতে তাঁর আচার-ব্যবহার ও পোষাক-আশাক যেরকম সাধারণ ছিলো সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হওয়ার পরও তা তিনি বজায় রেখেছিলে। রাজকীয় জাঁকজমক দূরে থাক, এমনকি কক্ষে ঢোকার পর তাঁর প্রতি কেউ বিশেষভাবে সম্মান প্রদর্শন করলে তিনি রেগে যেতেন। তিনি ছিলেন সাধারণ মানুষের ভালোবাসার পাত্র কারণ সবাইকেই তিনি আতিথেয়তার সাথে গ্রহণ করতেন এবং মনোযোগ সহকারে তাদের অভিযোগ শুনতেন। ব্যক্তিগত লেন-দেনের ক্ষেত্রে ছিলেন ন্যায়পরায়ণ । বন্ধু-আগন্তুক, ধনী-দরিদ্র, সবল-দুর্বল সবার সাথে সমতার সাথে ব্যবহার করতেন।

Arthur Glyn Leonard in ‘Islam, Her Moral and Spiritual Values’
এটা ছিলো মুহাম্মদের মেধা, যে উদ্দীপনা তিনি ইসলামের মাধ্যমে আরবদের মাঝে সঞ্চারিত করেছিলেন তা তাদেরকে সুউচ্চ স্থানে আসন দিয়েছিল। যা তাদেরকে জড়তা ও গোত্রীয় সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত করে জাতীয় ঐক্যের সুমহান নিদর্শন গড়তে এবং সাম্রাজ্য গড়তে সাহায্য করেছিল। সেটা ছিলো মুহাম্মদের সমীহ উদ্রেককারী একত্ববাদ, সরলতা, মিতাচার এবং অকৃত্রিমতা যা আদর্শের প্রতি প্রতিষ্ঠাতার বিশ্বস্ততাকেই বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়, যা তাদের নৈতিকতা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক চেতনাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে শাণিত করেছিল।

James Michener in ‘Islam: The Misunderstood Religion,’ Reader’s Digest, May 1955, pp. 68-70. ইতিহাসে আর কোন ধর্মই ইসলামের মতো এত দ্রুত বিস্তার লাভ করেনি। পাশ্চাত্যে এ বিশ্বাস অত্যন্ত দৃঢ়মূল যে ইসলামের এই প্রসার তরবারীর জোরেই সম্ভব হয়েছে। কিন্তু আধুনিক কোন বিজ্ঞজনই এ ধারণাকে গ্রহণ করেননি, এবং কোরআনেও বিবেকের/চিন্তার স্বাধীনতার ওপর জোর দেয়া হয়েছে।
মুহাম্মদ, যে অনুপ্রাণিত মানুষটি ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে আরবের একটি গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন যারা ছিল মূর্তিপূজক। জন্মের সময়ই এতিম হয়েছিলেন, তিনি সবসময় অসহায়, দরিদ্র, বিধবা, এতিম, দাস ও নিপীড়িত যারা তাদের জন্য উৎকন্ঠিত থাকতেন। বিশ বছর বয়সেই তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী ছিলেন, এবং শিগগিরই বিধবা একজন মহিলার বাণিজ্য কাফেলার পরিচালক হন। যখন তিনি ২৫ বছর বয়সে উপনীত হন তাঁর নিয়োগকত্রী তাঁর প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে বিবাহের প্রস্তাব দেন। যদিও তিনি পঁচিশ বছরের বড় ছিলেন, তবু মুহাম্মদ তাঁকে বিবাহ করেন এবং যতদিন পর্যন্ত তিনি(খাদিজা) বেঁচে ছিলেন তাঁর প্রতি নিবেদিত ছিলেন।
তাঁর পূর্ববর্তী বেশিরভাগ নবীদের মতই মুহাম্মদ তাঁর সীমাবদ্ধতা/অক্ষমতা বিবেচনা করে স্রষ্টার বার্তাবাহক হিসেবে দায়িত্ব পালনে অপরাগতা প্রকাশ করেন। কিন্তু স্বর্গীয় দূত আদেশ করলেন “পড়” । আমরা যতটুকু জানি মুহাম্মদ লিখতে কিংবা পড়তে জানতেন না, কিন্তু তিনি সেই উদ্দীপনাময় শব্দগুলো উচ্চারণ করতে শুরু করেন যা অচিরেই পৃথিবীর একটা বৃহৎ অংশে আমূল পরিবর্তন সাধন করবে : ” আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই” ।
মুহাম্মদের নিজের মৃত্যুর পর তাঁর ওপর দেবত্ব আরোপের একটি চেষ্টা চলেছিল, কিন্তু যিনি তাঁর পরে প্রশাসনিক উত্তরসূরী হওয়ার কথা ছিল তিনি এই অপধারণাকে সমূলে ধ্বংস করে দেন ধর্মের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি বক্তৃতার মাধ্যমে : ” যদি তোমাদের মধ্যে এমন কেউ থেকে থাকে যে মুহাম্মদের পূজা করতো, তবে সে জেনে রাখুক মুহাম্মদ মারা গেছেন। কিন্তু যারা আল্লাহর উপাসনা করতো তাদের জানা উচিত, তিনি চিরন্জীব ” ।

Link:——–> http://www.prothom-aloblog.com/blog/talhatitumir

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: