ইসলামে ভারসাম্য ও মিতব্যয়

ইসলামী অর্থনীতিতে অপচয় ও অপব্যয় কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অপচয় বা অপব্যয় শুধু যে আর্থিক ক্ষতিই ডেকে আনে তা কিন্তু নয়। অপচয়ের কারণে আর্থিক ক্ষতির চেয়েও আরও অনেক বড় ক্ষতি হতে পারে মানুষের। মানুষের আয়ু নির্দিষ্ট। একজন মানুষ সর্বোচ্চ ১২০ থেকে ১২২ বছর বেঁচে থাকে। আর মানুষের গড় আয়ু প্রায় ৬০ থেকে ৭০ বছর। কাজেই জীবনের প্রতিটি মুহুর্তই অতি মূল্যবান। কেউ যদি তার এই সময়টাকে সঠিক ভাবে কাজে না লাগিয়ে তা অবহেলায় কাটিয়ে দেয়, তাহলে এর চেয়ে ক্ষতিকর আর কিছুই হতে পারে না। বর্তমানে আমরা নানাভাবে সময় অপচয় করছি। বাংলাদেশ ও ভারতের মতো দেশগুলোর বড় বড় শহরের মানুষজনের এখন প্রতিদিনের একটা উল্লেখযোগ্য সময় কাটে ট্রাফিক জ্যামে পড়ে। এজন্য ব্যক্তির চেয়ে সরকারের অব্যবস্থাপনাই বেশি দায়ী। তবে জনগণের যেহেতু ভোট দিয়ে সরকার নির্বাচনের অধিকার রয়েছে, সে কারণে কেউই এর দায় এড়াতে পারবে না। অনেককেই কম্পিউটার গেইম খেলে, ইন্টারনেট ব্যবহার করে এবং টেলিভিশন দেখে সময় কাটাতে দেখা যায়। অনেকে এক্ষেত্রে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, প্রতিটি মানুষেরই বিনোদনের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত কোন কিছুই শুভকর নয়। আসলে মানুষের জীবনের একেকটি মুহুর্ত একেকটি সুযোগ। কারোরই উচিত নয় একটি মুহুর্তও অপচয় করা।

অপচয় ও অপব্যয়ের নানাবিধ ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে ইসলামে তা নিষিদ্ধ। অপচয় ও অপব্যয়ের কারণে বৈষয়িক ক্ষতির পাশাপাশি আত্বিক ক্ষতিও ঘটে।বেশি বেশি খাবার খেলে স্বাস্থ্যগত নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। রাসূল (সাঃ) বলেছেন, পেট হলো সকল রোগের বাসা এবং মাত্রাতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকাই হলো সর্বোত্তম ওষুধ। রাসূল (সাঃ) আরও বলেছেন, “অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন, কারণ তা মানুষকে নিষ্ঠুর করে তোলে এবং দেহের অঙ্গ প্রতঙ্গ আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অলস হয়ে পড়ে ও সদুপদেশ শ্রবণে অনীহা সৃষ্টি হয়।’
ভোগ-বিলাসিতা মানুষের দেহের চেয়ে আত্মার উপর বেশি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অপচয় ও অপব্যয়ের কারণে বরকতও হ্রাস পায়। এর ফলে মানুষের ধন-সম্পদ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়।
অপচয় ও অপব্যয়ের চূড়ান্ত পরিণতি হলো দারিদ্র্য। এ সম্পর্কে রাসূল (সাঃ) ও ইমামদের অনেক হাদিস রয়েছে। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন, আল্লাহ অপচয়কারীকে অভাবগ্রস্ত করেন। আসলে অপচয়কারী আল্লাহর দেয়া অনুগ্রহের ব্যাপারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করে যেনতেন তা অপচয় করে এবং নিজেই নিজের করুণ পরিণতি ডেকে আনে।

আরেকটি বিষয় এখানে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি আর তাহলো, মিতব্যয় আর কৃপণতা কিন্তু এক নয়। মিতব্যয় হচ্ছে যেখানে যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকু ব্যয় করা ও সম্পদের অপচয় না করা। কিন্তু কৃপণতা হলো, যেখানে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু ব্যয় না করা। এ কারণে ইসলামে অপচয় ও অপব্যয়ের মতো কৃপণতাও নিষিদ্ধ। পবিত্র কোরান ও হাদিসে ক্ষুধার্তকে খাদ্যদান, বস্ত্রহীনকে বস্ত্রদান, অভাবগ্রস্তকে সাহায্য প্রদান, অনাথ-ইয়াতীমদেরকে লালন-পালন, নিঃস্ব ব্যক্তিদের উপার্জনের ব্যবস্থা করা এবং বিপদগ্রস্ত মানুষকে সহায়তা করাকে মুসলমানদের কর্তব্য বলে ঘোষণা হয়েছে। কিন্তু কৃপণরা তা করে না। এ কারণেই কৃপণতা মানুষকে জান্নাত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরানের সূরা আল মুদ্দাস্সিরের ৪২,৪৩ ও ৪৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “কি কারণে তোমাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়েছে? তারা বলবে, আমরা নামাজ পড়তামনা এবং আমরা অভাবগ্রস্তদের আহার্য দিতাম না।”
আসলে কৃপণ ব্যক্তিরা এমন এক গাধার মতো যার পীঠে থাকে মনি-মানিক্কের বোঝা এবং পেটে থাকে শুধু শুকনো খড়।

Permission taken from Source http://harisur.blogspot.com

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: