নামায : আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের উপায় ১৬ তম পর্ব

হযরত আলী রাঃ যখন নামাজে মশগুল হতেন তখন আল্লাহর প্রেমের চেতনা ছাড়া তাঁর মধ্যে অন্য কোনো কিছুর চেতনা থাকতো না।
একবার সিফফিনের যুদ্ধে সংঘাত যখন চরম পর্যায়ে তিনি সে সময় যুদ্ধের ময়দানে থেকেই বার বার সূর্য ও আকাশের দিকে তাকাচ্ছিলেন। উদ্দেশ্য, জোহরের নামাজের সময় হয়েছে কিনা তা দেখা এবং নামাজ আদায় করা। এ সময় আমীরুল মুমিনিন হযরত আলী রাঃ’র একজন সঙ্গী তাঁর এই তৎপরতার কারণ বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানার পর বললেন, এমন তীব্র সংঘাতের সময়ও নামাজ আদায় করা কি জরুরী? উত্তরে তিনি বললেন, আমরা তো কেবল নামাজের জন্যই তাদের সাথে যুদ্ধ করছি এবং আমরা নামাজ কায়েম করতে চাচ্ছি। এভাবে তিনি সমাজে নামাজের সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবীত করার জন্য ব্যাপক প্রচেষ্টা ও সাধনায় নিয়োজিত হয়েছিলেন।
সিফফিনের যুদ্ধ চলার সময় আরো এক ঘটনায় দেখা গেছে, একটি তীর আমীরুল মুমিনিন হযরত আলী (আঃ)’র পায়ে বিদ্ধ হল। চিকিৎসকরা বহু চেষ্টা করেও ঐ তীর তাঁর থেকে বের করতে পারলেন না। কারণ, ঐ তীর বের করতে গেলে তিনি অসহ্য ব্যাথা ও যন্ত্রণা পেতেন। তখন চিকিৎসকরা বিষয়টি হযরত ইমাম হাসান মুজতাবা ‘র কাছে উত্থাপন করলেন। তিনি বললেন, আমার বাবার নামাজে মশগুল হওয়া পর্যন্ত আপনারা অপেক্ষা করুন, কারণ, নামাজের সময় কোনো কিছুই তাঁকে আল্লাহর স্মরণ থেকে বিরত রাখতে পারে না। এ অবস্থায় নামাজের সময় হলে হযরত আলী রাঃ যখন নামাজে মশগুল হলেন তখন আল্লাহর স্মরণে একাকার তাঁর দেহ থেকে ঐ তীর তুলে নেয়া হয়। কিন্তু তিনি কিছুই টের পেলেন না। নামাজ শেষ হবার পর তিনি বুঝতে পারলেন যে তাঁর পা থেকে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন করলেন, কি ব্যাপার? তখন তাঁকে বলা হল, আপনি যখন নামাজে ছিলেন তখন আপনার পা থেকে তীর বের করা হয়েছে।

ধার্মিক পরিবারে জন্ম-নেয়া শিশু জন্মের পর পরই আযান ও নামাজের এক্বামা শুনে। তার কোমল আত্মার জন্য সেটাই প্রশান্তিদায়ক প্রথম শিশুতোষ-সঙ্গীত। দোয়া ও আযান শিশুর আধ্যাত্মিক চাহিদার প্রথম প্রাপ্তি। অন্যদিকে খাদ্য ও মায়ের দুধ তাকে বিভিন্ন মানসিক এবং শারীরিক রোগ থেকে রক্ষা করে। শিশুকে শৈশব থেকেই নামাজ ও প্রার্থনার মধুর ধ্বনির সাথে পরিচিত করতে বলা হয়েছে ধর্মীয় বর্ণনায়। মায়ের ও অন্য আপনজনদের নামাজ ও দোয়ার দৃশ্য এবং শব্দ প্রত্যক্ষভাবে শিশুর মানসিক জগতে প্রভাব ফেলে, ফলে শিশুর মন ও শরীরে এসব সুন্দর গুণ বা কাজের প্রতি আকর্ষণ স্থায়ী স্বভাব বা অভ্যাসের মত বদ্ধমূল হয়। এ ধরনের পরিবেশে বেড়ে-ওঠা শিশু তার ভবিষ্যত জীবনে নামাজ এবং দোয়া ও অন্যান্য এবাদতকে জীবনের অপরিহার্য কর্মসূচীতে পরিণত করে।

শৈশব ও কৈশরে নামাজ আদায়ের ফলে আল্লাহ, ধর্ম, ধর্মীয় মূল্যবোধর মত মহৎ বিষয়গুলো শিশুর মনে স্থায়ীভাবে শ্রদ্ধার আসন লাভ করে।
কৈশরও অনেকটা শৈশবের মতই। কৈশরে পা দেয়ার পর শিশু আরো নতুন ও বৈচিত্রময় জগতের মধ্যে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে। সামাজিক পরিবেশ ও সঙ্গী-সাথীদের আচরণ এ সময় তাকে প্রভাবিত করে। মনোস্তাত্ত্বিকদের মতে কিশোর-কিশোরীরা সহজেই বন্ধুদের কথায় প্রভাবিত হয়। খুব দ্রুত আবেগপ্রবণ হওয়া বা উত্তেজনায় ভোগা এই বয়সের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কিন্তু এ সময় যদি কোমলমতি কিশোর-কিশোরীরা আল্লাহর সান্নিধ্যের ধারণা ও এবাদতের মাধুর্যের স্বাদ পায়, তাহলে তাদেরকে অনেকাংশে বিপদমুক্ত রাখা সম্ভব এবং ভবিষ্যৎ মুক্তির পথে চলাও তাদের জন্য সহজ হবে। মানুষের ওপর নামাজের এতসব প্রভাবের কারণেই মহান আল্লাহ বিশ্বনবী (সাঃ)কে সম্বোধন করে বলেছেন, তুমি তোমার পরিবারবর্গকে নামাজের জন্য আদেশ দাও এবং তাতে অবিচলিত থাক। (সূরা ত্বাহা-১৩২)

Permission taken from Source http://harisur.blogspot.com

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: