মাহে রমযান

হুযুরে পাক (সঃ) ইরশাদ করেন, পবিত্র রমযান মাসের জন্য বেহেশতকে অপূর্ব সুঘ্রাণ দ্বারা সুরভিত করা হয়। বৎসরের প্রারম্ভ হইতে শেষ পর্যন্ত উহাকে শুধু রমযানের জন্য সুসজ্জিত করা হয়। যখন রমযানের প্রথম রজনী আগমন করে তখন আরশের তলদেশ হইতে একটি সুমধুর বাতাস বহিতে থাকে, যাহার প্রবাহে বেহেশ্‌তের পাতা পল্লব ও দরজার কড়াসমূহ হেলিতে আরম্ভ করে। যদদ্বারা এমন এক মনমুগ্ধকর ও হৃদয় স্পর্শী সূর উত্থিত হয় যে, শ্রোতারা ইতিপূর্বে কখনোও এইরূপ আর শুনিতে পাই নাই।
হুযুরে পাক (সঃ) বলেন, আল্লাহ পাক বেহেশতের দারোগা রেদওয়ানকে বলিবেন, মুহাম্মাদ (সঃ)-এর রোজাদার উম্মতের জন্য জাহান্নামের দরওয়াজা বন্ধ করিয়া দাও। জিব্রাঈল কে হুকুম করেন, যমীনে অবতরন করিয়া অহংকারী শয়তানকে শৃংখলাবদ্ধ কর এবং তাহার গলায় বেড়ী পরাইয়া সমুদ্রে নিক্ষেপ কর যেন আমার মাহবুবের উম্মতের রোযাকে নষ্ট করিতে না পারে। আল্লাহ পাক রমযানের প্রতি রাতে একজন ঘোষনাকারীকে হুকুম করেন যে,সে যেন তিনবার করিয়া বলে, কেহ সাহায্য প্রার্থী আছে কি ? আমি তাহাকে সাহায্য করিব।আছে কেহ তওবা কারী , আমি তাহার তওবা কবুল করিব। আছে কেহ ক্ষমা প্রার্থী , আমি তাহাকে ক্ষমা করিব। কে আছে এমন যে মুখাপেক্ষী নয় , এমন ধনীকে কর্জ দান করে। আর বিন্দু মাত্র কম না করিয়া কর্জ পরিশোধ করে।
হুযুর (সঃ) আরো বলেন, আল্লাহ তা’আলা প্রতিদিন ইফতারের সময় জাহান্নামের উপযোগী ১০,০০,০০০ লোককে ক্ষমা করিয়া দেন এবং রমযানের শেষ তারিখে, প্রথম হইতে শেষ পর্যন্ত যত লোক নাজাত পাইয়াছে সকলের বরাবর লোককে আজাদ করিয়া দেন। আল্লাহ পাক জিব্রাঈল (আঃ) -কে ক্বদরের রাত্রে নির্দেশ প্রদান করেন, সে ফেরেশতাদের এক বিরাট বাহিনী লইয়া যমীনে অবতরন করেন , তাহাদের সহিত সবুজ রংয়ের ঝাণ্ডা থাকে যাহা ক্বা’বা শরীফের উপর উড্ডীন করা হয়।হযরত জিব্রাঈল (আঃ) একশত ডানার মধ্যে সেই রাত্রে মাত্র দুইটি ডানা প্রসারিত করেন যাহা মাশরেক -মাগরেব ঘিরিয়া ফেলে। অতঃপর জিব্রাঈল (আঃ) ফেরেশতাদের তাকীদ করেন তাহারা যেন প্রত্যেক ইবাদত কারীরর সহিত মোছাফাহা করে এবং তাহাদেরকে ছালাম করে ও তাহাদের দোয়ার উপর আমিন আমিন বলিতে থাকে। ভোর পর্যন্ত উক্ত অবস্থা চলিতে থাকে। সকাল বেলায় হযরত জিব্রাঈল (আঃ) ফেরেশতাদিগকে প্রস্থান করার হুকুম দেন। ফেরেশতারা জিব্রাঈল (আঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেন, আহমাদ (সঃ)-এর উম্মতের সহিত অদ্য রাত্রে কি ব্যবহার করা হইয়াছে ? তিনি বলেন , চার ব্যক্তি ব্যতিত সকলকে আল্লাহ পাক ক্ষমা করিয়া দিয়েছেন।
সাহাবারা হুযুর (সঃ)-কে জিজ্ঞাসা করিলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (সঃ)! ঐ চার ব্যক্তি কাহারা ? হুযুর (সঃ) বললেন, প্রথম ঐ ব্যক্তি যে মদখোর, দ্বিতীয় মাতাপিতার নাফরমান সন্তান, তৃতীয়তঃ আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী, এবং চতুর্থ হিংসুক।
মাহে রমযানের বিদায়ের কালে গত একটি মাসের হিসেব আরো একবার মিলেয়ে নেই ।
রমযান মাসের পর শাওয়াল মাসের ৬টি রোযা রাখা সুন্নাত। এর মাধ্যমে পূর্ণ একবছর রোজা রাখার ছওয়াব পরিপূর্ণ হয়। এ প্রসঙ্গে হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত,রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন- “যে ব্যক্তি রামাজানের রোযা রাখল, তারপর শাওয়াল মাসে আরো ৬টি রোযা রাখল, সে যেন পুরো বছরই রোযা রাখল।”(মুসলিম, ২৭৫০ পৃষ্ঠা, তিরমিজী, ৭৫৯ পৃষ্ঠা/ বাইহাকী, ৮৫১৬ পৃষ্ঠা)
এই ছয়টা রোযা একাধারেও রাখা যায়, আবার ভেঙ্গে ভেঙ্গেও রাখা যায়। তবে শর্ত হলো- শাওয়াল মাসের ভিতরেই হতে হবে।

http://prothom-aloblog.com/users/base/durjoy/325

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: