এক নজরে সদকাতুল ফিতর

অর্থ : সদকাতুল ফিতর অর্থ ফিতরের দিনের সদকা। ফিতর বলতে ঈদুল ফিতর বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, ঈদুল ফিতরের দিন দেয়া সদকাকেই সদকাতুল ফিতর বলা হয়। একে যাকাতুল ফিতর বা ফেতরাও বলা হয়ে থাকে।

বিধান : সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজীব।

যে কারণে ওয়াজীব : হাদীসে আছে,

فرض رسول الله صلى الله عليه وسلم صدقة الفطر ، صاعا من شعير أو صاعا من تمر ، على الصغير والكبير ، والحر والمملوك

ইবনে ওমর রা. বলেন, রাসূল স. সদকাতুল ফিতর আবশ্যক করেছেন। এর পরিমাণ হলো, এক সা যব বা এক সা খেজুর। ছোট-বড়, স্বাধীন-পরাধীন সবার ওপরই এটা আবশ্যক। (বুখারী : ১৫১২)

কার ওপর ওয়াজীব : প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলিম ব্যক্তির ওপর সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজীব।

‘সামর্থ্যবান’ শব্দের ব্যাখ্যা হলো, প্রয়োজনিতিরিক্ত (ব্যবহৃত, ঋণ ইত্যাদি) যাকাতের নেসাব পরিমাণ সম্পদের (৫২.৫ ভরি রূপা) মালিক হওয়া। তবে যাকাতের ন্যায় এক্ষেত্রে এক বৎসর অতিক্রান্ত হওয়া জরুরী নয়। অতএব কেউ যদি ঈদের আগের দিনও এই পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়, তাকেও তা আদায় করতে হবে।

সামর্থ্যবান না হলে সদকাতুল ফিতর ওয়াজীব হবে না। রাসূল স. বলেছেন,

خير الصدقة ما كان عن ظهر غني

সর্বোত্তম সদকা সেটাই, যেটা সামর্থ্যবান কেউ আদায় করে। (বুখারী : ১৩৬০)

অতএব পুরুষ, নারী সবার ওপরই এই সদকা ওয়াজীব।

কার পক্ষ থেকে আদায় করা ওয়াজীব : নিজের পক্ষ থেকে এবং নিজের অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তান বা অবিবাহিত মেয়ের পক্ষ থেকে আদায় করা ওয়াজীব। সন্তানের নামে সম্পদ থাকলে সেখান থেকে আদায় করা যাবে। প্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানের পক্ষ থেকে আদায় করা ওয়াজীব নয়।

কোনো এতিম শিশুর ভরণপোষণের দায়িত্ব নিয়ে থাকলে তার পক্ষ থেকেও আদায় করতে হবে।

কখন ওয়াজীব হয় : সদকাতুল ফিতর ঈদুল ফিতরের ভোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওয়াজীব হয়। কাজেই সেদিন ভোরের আগে যে জন্ম নিয়েছে, বা এই পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছে, তাকেও এই সদকা আদায় করতে হবে।

কেউ যদি সেদিন ভোরের আগে মারা যায়, তার ওপর সদকা ওয়াজীব হবে না। আবার ভোর হবার পর কেউ জন্ম নিলে তার পক্ষ থেকেও সদকা আদায় করা ওয়াজীব হবে না।

কখন আদায় করতে হয় : ঈদুল ফিতরের দিন সকালে ঈদের নামায পড়তে যাওয়ার আগে সদকাতুল ফিতর আদায় করা উত্তম। তবে যাকাতের ন্যায় সেই সময়ের আগেও আদায় করা যেতে পারে।

আবার কোনো কারণে সময় মতো আদায় করতে না পারলে পরেও আদায় করা যাবে। কেউ আদায় না করে মৃত্যুবরণ করলে তার পক্ষ থেকে তার উত্তরাধিকারী আদায় করে দিলেও আদায় হয়ে যাবে।

সদকাতুল ফিতরের পরিমাণ :

প্রথমে তিনটা হাদীস উল্লেখ করি।

১.

فرض رسول الله صلى الله عليه وسلم صدقة الفطر ، صاعا من شعير أو صاعا من تمر ، على الصغير والكبير ، والحر والمملوك

ইবনে ওমর রা. বলেন, রাসূল স. সদকাতুল ফিতর আবশ্যক করেছেন। এর পরিমাণ হলো, এক সা যব বা এক সা খেজুর। ছোট-বড়, স্বাধীন-পরাধীন সবার ওপরই এটা আবশ্যক। (বুখারী : ১৫১২)

২.

كنا نخرج زكاة الفطر ، صاعا من طعام ، أو صاعا من شعير ، أو صاعا من تمر ، أو صاعا من أقط ، أو صاعا من زبيب

আমরা সদকাতুল ফিতর আদায় করতাম এক সা খাদ্য দ্রব্য দিয়ে। তা এক সা যাব, এক সা খেজুর, এক সা পনীর বা এক সা কিসমিস দিয়ে হত। (বুখারী : ১৫০৬)

৩.

خطب ابن عباس رحمه الله في آخر رمضان على منبر البصرة فقال أخرجوا صدقة صومكم فكأن الناس لم يعلموا فقال من هاهنا من أهل المدينة قوموا إلى إخوانكم فعلموهم فإنهم لا يعلمون فرض رسول الله صلى الله عليه وسلم هذه الصدقة صاعا من تمر أو شعير أو نصف صاع من قمح على كل حر أو مملوك ذكر أو أنثى صغير أو كبير

ইবনে আব্বাস রা. একবার রমজানের শেষ দিকে বসরায় খুতবা প্রদান করেন। সেখানে তিনি বলেন, তোমাদের রোজার সদকা আদায় করো। লোকেরা যেন ব্যাপারটা বুঝতে পারে নি। তখন ইবনে আব্বাস রা. বললেন, এখানে মদীনার কে আছে দাঁড়াও। তোমাদের ভাইদেরকে বলো, তারা তো জানে না। বলো যে, রাসূল সা. এই সদকা আবশ্যক করেছেন। এক সা খেজুর বা যব অথবা আধা সা গম প্রত্যেক স্বাধীন-দাস, পুরুষ-নারী, ছোট-বড় সবার ওপর ওয়াজীব। (আবু দাউদ : ১৬২২)

উপরোক্ত হাদীস তিনটির ভাষ্য অনুযায়ী নিম্নের শস্যগুলো দিয়ে সদকাতুল ফিতর আদায় করা যায়। নাম ও পরিমাণ নিম্নে দেয়া হলো :

যব :এক সা
খেজুর : এক সা
কিসমিস : এক সা
পনির : এক সা
গম : আধা সা (যা তিন নং হাদীস থেকে বোঝা যায়)

এই পাঁচ প্রকার শস্যের কথা হাদীসে এসেছে। এই পাঁচ প্রকার শস্য সরাসরি দিলেও হবে, আবার এসবের মূল্য দিলেও হবে। তবে অন্য কোনো শস্য দিতে চাইলে এই পাঁচ প্রকারের কোনো এক প্রকারের মূল্য হিসাব করে দিতে হবে।

এই সদকা দেয়ার উদ্দেশ্য হলো ঈদের দিন গরীবের প্রয়োজন পূরণ করা, যেন তাকে কোথাও চাইতে না হয়। কাজেই সামর্থ্যানুযায়ী বেশি মূল্যটা পরিশোধ করাই উত্তম হবে।

সা –এর বর্তমান পরিমাপ :

১ সা = ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম
.:. ১/২ সা = এক কেজি ৬৫০ গ্রাম

কাজেই যব, খেজুর, কিসমিস বা পনীর হিসাব করে দিলে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর মূল্য দেয়া যাবে। আর গম হিসাবে দিলে এক কেজি ৬৫০ গ্রাম বা এর মূল্য দেয়া যাবে।
(সম্পতি ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক ঘোষিত ৪৫ টাকা গমের মূল্য হিসাব করে নির্ধারণ করা হয়েছে।)

কাকে আদায় করা যাবে : যার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ৫২.৫ ভরি রূপা পরিমাণ সম্পদ নেই, তাকেই এই সদকা দেয়া যাবে।

পরিবারের কয়েক জনের সদকা মিলিয়ে একজন গরীবকে একসঙ্গে দেয়া যেতে পারে।

Link http://yousufsultan.com/

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: