এক নজরে ঈদুল ফিতর

নামকরণ : ঈদ শব্দটি আরবী عيد শব্দের বাংলা উচ্চারণ। عيد অর্থ খুশি, আনন্দ, আনন্দোৎসব ইত্যাদি। ফিতর অর্থ রোজা ভাঙা, খাওয়া ইত্যাদি।

ঈদুল ফিতর এর অর্থ রোজা শেষ হওয়ার আনন্দ। আল্লাহর নেয়ামত লাভ করার আনন্দ। আল্লাহ তাআলা বলেন,

فَرِحِينَ بِمَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ وَيَسْتَبْشِرُونَ بِالَّذِينَ لَمْ يَلْحَقُوا بِهِم مِّنْ خَلْفِهِمْ أَلَّا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ﴿آل‌عمران: ١٧٠﴾

আল্লাহ নিজের অনুগ্রহ থেকে যা দান করেছেন তার প্রেক্ষিতে তারা আনন্দ উদযাপন করছে। (৩:১৭০)

ঈদুল ফিতরের দিন : আরবী শাওয়াল মাসের ১ তারিখ ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়। ফলে এর আগের মাস তথা রমজান মাসের বিদায়ে নিশ্চিত হলে ঈদুল ফিতরের দিন নিশ্চিত হয়। আর আরবী মাস যেহেতু চান্দ্র মাস, তাই চাঁদ দেখার ওপর ঈদের আগমনী বার্তা নির্ভর করে।

আরবী মাস ২৯ বা ৩০ দিনে হয়। ২৯তম রমজান দিবাগত রাতে চাঁদ দেখা গেলে রমজানের বিদায় ও শাওয়ালের আগমন নিশ্চিত হয়। আর সে রাতে চাঁদ দেখা না গেলে রমজান ৩০টি নিশ্চিত হয় এবং এর পরের দিন নিশ্চিতভাবেই ঈদুল ফিতর সাব্যস্ত হয়। কেননা আরবী মাস কোনো ভাবেই ৩০ দিনের বেশি হয় না।

হাদীস :

وعن أنس قال: قدم رسول الله المدينة ولهم يومان يلعبون فيهما، فقال: ((قد أبدلكم الله بهما خيراً منهما: يوم الأضحى، ويوم الفطر)) [رواه أبو داود]

আনাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল স. যখন মদীনায় আসেন, তখন দেখেন যে সেখানকার লোকেরা বৎসরে দুই দিন আনন্দ করে, খেলাধুলা করে। তিনি বললেন, আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে এই দুই দিনের পরিবর্তে আরো অনেক ভালো দুটি দিন দিয়েছেন। ১. ঈদুল আযহা। ২. ঈদুল ফিতর। (আবু দাউদ)

ঈদুল ফিতরের দিন করণীয় :

নামাযের আগে :
১. মিসওয়াক করা।
২. গোসল করা।
৩. কিছু খাওয়া। (বেজোড় সংখ্যায় যে কোনো মিষ্টিদ্রব্য খাওয়া মুস্তাহাব। যেমন, তিন-পাঁচ বা সাতটা খেজুর)

عن أنس رضي الله عنه قال : ” كان رسول الله صلى الله عليه و سلم لا يغدو يوم الفطر حتى يأكل تمرات … ويأكلهن وتراً ” أخرجه البخاري .

আনাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল স. ঈদুল ফিতরের দিন খেজুর খাওয়ার আগে সকালে বের হতেন না। তিনি বেজোড় সংখ্যক খেজুর খেতেন। (বুখারী : ৯১০)

৪. উত্তম পোশাক পরিধান করা।

فقد أخرج مالك في موطئه عن نافع : ” أن ابن عمر رضي الله عنهما كان يغتسل يوم الفطر قبل أن يغدو إلى المصلى ” وهذا إسناد صحيح .

ইবনে ওমর রা. ঈদুল ফিতরের দিন মুসল্লায় যাওয়ার আগে গোসল করতেন। (মুয়াত্তা মালেক : ৬০৯)

৫. সুগন্ধি ব্যবহার করা।
৬. সদকাতুল ফিতর আদায় করা। (বিস্তারিত পড়ুন : এক নজরে সদকাতুল ফিতর)
৭. ঈদের নামাযের আগে বাসায় বা মুসল্লায় কোথাও নফল নামায আদায় না করা।
৮. সকাল সকাল ঈদগাহে চলে যাওয়া।
৯. ঈদগাহে যাওয়ার পথে নিচু স্বরে তাকবীর বলা।
১০. সম্ভব হলে হেঁটে হেঁটে ঈদের নামাযস্থলে যাওয়া। (উত্তম হলো ঈদগাহে/মাঠে নামায আদায় করা।)

عن علي رضي الله عنه قال : ” من السنة أن يخرج إلى العيد ماشياً ” أخرجه الترمذي

আলী রা. থেকে বর্ণিত, সুন্নত হলো ঈদগাহে হেঁটে হেঁটে যাওয়া। (তিরমিযী : ৫৩০, আলবানী বলেন : হাসান)

১১. চোখে-মুখে আনন্দ প্রকাশ করা।
১২. আনন্দ-অভিবাদন বিনিময় করা।

নামাযের পরে :
১. সম্ভব হলে যাওয়ার পথ ভিন্ন অন্য পথে ফিরে আসা। (যেন বেশি পথ কেয়ামতের দিন স্বাক্ষী হয়।)
২. ঈদের নামাযের পর মসজিদে / ঈদগাহে কোনো নফল নামায আদায় না করা। বাসায় ফিরে আদায় করা যেতে পারে।

(উল্লেখ্য, এগুলো সবই সুন্নত বা মুস্তাহাব। করা আবশ্যক নয়, বা না করলে কোনো গোনাহ হবে না।)

ঈদুল ফিতরের নামায :

বিধান : ওয়াজীব। জুমার নামাযের ন্যায়ই এই নামাযের বিধান।

নিয়্যত : নিয়্যত অর্থ মনের সংকল্প বা ইচ্ছা। কাজেই মুখে উচ্চারণ করার কোনো প্রয়োজন নেই। মনে মনে নির্দিষ্ট করতে হবে যে আমি এই ঈদের নামায ক্বিবলামুখী হয়ে এই ইমাম সাহেবের পেছনে অতিরিক্ত ছয় তাকবীরের সাথে আদায় করছি।

নামাযের নিয়ম :

প্রথম রাকাত : ইমাম সাহেব তাকবীরে তাহরীমা (আল্লাহু আকবার) বলে নামায শুরু করবেন। এরপর সবাই সানা পড়ে নিবেন। সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা..

এরপর ইমাম সাহেব তিনটি অতিরিক্ত তাকবীর বলবেন। প্রথম দুটিতে আল্লাহু আকবার বলার সময় হাত উঠিয়ে ছেড়ে দিতে হবে। তৃতীয়টিতে হাত বেধে নিতে হবে। এরপর ইমাম সাহেব ক্বিরাত শুরু করবেন। এরপর বাকি রাকাত যথারীতি পড়া হবে।

দ্বিতীয় রাকাত : সিজদা থেকে দাঁড়িয়ে ইমাম সাহেব প্রথমে ক্বিরাত পড়বেন। এরপর অতিরিক্ত তিন তাকবীর পড়বেন। প্রতিবার হাত উঠিয়ে ছেড়ে দিতে হবে।

এরপর ইমাম সাহেব রুকুর তাকবীর বলবেন। তখন হাত না উঠিয়ে ইমাম সাহেবের সাথে রুকুতে যেতে হবে। বাকি নামায অন্যান্য নামাযের মতোই।

ঈদের খুৎবা : জুমার নামাযে প্রথমে খুৎবা হয়, এরপর নামায হয়। তবে ঈদের নামাযে প্রথমে নামায হয়, পরে খুৎবা হয়। ঈদের খুৎবা সুন্নত। নামাযের পর খুৎবা শুনে ঈদগাহ/মুসল্লা ত্যাগ করা উচিৎ।

উপসংহার :

ঈদ আল্লাহর নেয়ামত। আর নেয়ামতের চাহিদা হলো এর শুকরিয়া আদায় করা। নেয়ামত পেয়ে নেয়ামতদাতার অবাধ্য হওয়া তার সাথে বেইমানী করার শামিল।
এক মাস আল্লাহর বিধান মেনে চলে পুরস্কার প্রদান দিবসে তাঁর অবাধ্যতা করার চেয়ে নিকৃষ্ট কাজ আর কী হতে পারে। কাজেই এই নেয়ামতের দিন তাঁর কোনো অবাধ্যতা যেন না হয়, সে দিকে লক্ষ্য রাখা সকল মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য।

ঈদ সাম্যের বাণী নিয়ে আসে। এদিন ধনী, গরীব, বড়, ছোটতে কোনো ভেদাভেদ থাকে না। আল্লাহর দেয়া খুশিতে মেতে ওঠে সবাই। তাই এদিন আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, গরীব-দুখীদেরকে স্মরণ করে তাদের সাথে খুশি বন্টন করা উচিৎ। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাওফীক দিন। আমীন।

http://yousufsultan.com/posts/eid-ul-fitr-at-a-glance/

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: