ইসলাম প্রচার সেই সব মনিষীদের ভূমিকা : পর্ব -০৫

হাদিস শাস্ত্রের অগ্রদূত ইমাম বোখারী (রঃ)

ইমাম বোখারী (রঃ) -এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী খালিদের অন্য সহযোগীরাও অচিরেই চরম বিপদ-আপদের মধ্যে পতিত হন। কিন্তু ইমাম বোখারী (রঃ) আর দেশে অবস্থান করলেন না। তিনি বোখারা হতে বাইকান্ধ নামক স্থানে চলে গেলেন। এই সময় সমরকন্দের অধিবাসীগণ তাঁকে সমরকন্দে আগমনের জন্য অনুরোধ করলেন। তাদের অনুরোধে সাড়া দিয়ে তিনি সমরকন্দের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। পথিমধ্যে ‘খরতঙ্গ’ নামক গ্রামে তিনি অবস্থান করেন। এখানে তাঁর কিছু আত্মীয়-স্বজনের বসবাস ছিল। অতঃপর তিনি সমরকন্দের উদ্দেশ্যে পুনঃযাত্রা শুরু করবেন-এমন অবস্থায় সংবাদ পেলেন যে, তাঁর আগমন সম্পর্কে সমরকন্দবাসীদের মধ্যে মতভেদের সৃষ্টি হয়েছে। এই সংবাদে তিনি অত্যন্ত মর্মাহত হন এবং সমরকন্দের উদ্দেশ্যে যাত্রা পরিত্যাগ করেন। উল্লেখিত ঘটনাসমূহের কারণে তাঁর চিত্ত দারুণভাবে ব্যথিত হয়ে উঠে। তিনি দুনিয়ার প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে উঠলেন। জনৈক রাবী বলেন, আমি এক রাত্রিতে তাকে নামায শেষে দু’আ করতে শুনেছি। তিনি তার দু’আয় বলেন, হে আল্লাহ! যমীন প্রশস্ত হওয়ার পরও তা আমার জন্য সংকুচিত হয়ে গিয়েছে। অতএব, তুমি আমাকে তোমার নিকট গ্রহণ কর। রাবী বলেন, এরপর এক মাস পূর্ণ হয়নি, এর মধ্যেই আল্লাহ তা’আলা তাকে তাঁর নিকট তুলে নেন। তার সমাধি খারতংকে অবস্থিত। তিনি ২৫৬ হিজরীর শওয়াল মাসের ১ তারিখে অর্থাৎ ঈদুল ফিতরের রাত শনিবার (শুক্রবার দিবাগত) এশার নামাযের পর ইন্তেকাল করেন। পরদিন যোহরের নামাজের পর তাঁকে দাফন করা হয়। এই সময় তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৬২ বছর। ইসলামের এই মহান সাধকের ইন্তিকালের সময় আরো দু’একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটে। আব্দুল ওয়াহিদ ইব্‌ন আত্‌-তাওয়াবীসী (রঃ) বলেন, আমি নবী করিম (সঃ)-কে স্বপ্নে দেখি। তাঁর সাথে তাঁর সাহাবীগণের একটি জামা’আত রয়েছে। আমি তাঁকে সালাম দিলাম। তিনি আমার সালামের জবাব প্রদান করলেন। আমি তাঁকে বল্‌লাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার অবস্থানের কারণ কি? তিনি বললেন, ‘ আমি মুহাম্মদ ইব্‌ন ইসমা’ঈল আল বোখারীর জন্য অপেক্ষা করছি।’ এরপর তাওয়াবীসী (রঃ) বলেন, কয়েকদিন পর আমার নিকট বোখারী (রঃ)-এর মৃত্যু সংবাদ পৌঁছে। আমি তখন চিন্তা করে দেখলাম, তিনি ঐ মুহূর্তেই ইন্তিকাল করেছিলেন যখন আমি নবী করিম (সাঃ)-কে স্বপ্নে দেখেছিলাম। মুহাম্মদ ইব্‌ন আবী হাতিম তার সনদে গালিব ইব্‌ন জিবরীল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেনঃ “আমরা যখন তাকে সমাধিস্থ করলাম তখন তার কবর থেকে মিশকের সুগন্ধি প্রবাহিত হতে থাকে এবং কিছুুদিন পর্যন্ত তা সর্বদা বহাল থাকে। অতঃপর তার কবর বরাবর আকাশে লম্বাকৃতির এক সাদা রেখা উদিত হয়। জনগণ তা দেখার জন্য তথায় গমনাগমন করতে থাকে এবং এই দৃশ্য প্রত্যক্ষ করে তারা বিস্ময়াভিভূত হন।” এদিকে লোকরা তার কবরের মাটি তুলে নিয়ে যেতে থাকে। তখন একান্ত বাধ্য হয়ে তার কবরটি ঘিরে দেওয়া হয়। কবর থেকে প্রবাহিত সুগন্ধি অনেক দিন পর্যন্ত বহাল ছিল।

ইমাম বোখারী (রঃ) ছিলেন এক ক্ষণজন্মা ব্যক্তি। তিনি কোন পুত্রসন্তান রেখে যাননি। তাঁর ছিল বে- নজীর স্মৃতিশক্তি। শায়খ থেকে শ্রবণের সাথে সাথে তার অন্তরের মনিকোঠায় তা স্থায়ীভাবে আসন লাভ করত। ইমাম তিরমিযী (রঃ) বলেন, “আমি তার মত আর কাউকে দেখিনি। আল্লাহ তাকে করেছেন এ উম্মতের শোভাস্বরূপ। তবে তারপরও এই মহান ব্যক্তিত্ব শত্রম্নতা ও হিংসুকদের হিংসা থেকে পরিত্রাণ লাভ করেননি। কিন্তু তার শত্রম্নরাই হয়েছে নিন্দিত। আর তিনি তার অমূল্য গ্রন্থরাজির মাধ্যমে এখনও নন্দিত হয়ে আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন ইনশআল্লাহ।

মৃত্যুঃ ২৫৬ হিজরিতে ঈদুল ফিতরের রাতে পবিত্র শাওয়ালের ১ তারিখে প্রায় বাষট্টি বছর বয়সে তিনি ইহধাম ত্যাগ করে মহান বন্ধুর সান্নিধ্যে চলে যান। শনিবার দিন জোহরের নামাজের পর খরতুংগ নামক স্হানে তাকে দাফন করা হয়।

Permission is taken from Source   http://prothom-aloblog.com/users/base/lovelu1977/

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: