নামাযের বাইরে মন কে কি কাজ দেয়া যায়

নামাযের মাধ্যমে মনের যে ব্যাপক ট্রেনিং হয় এর সুফল যাতে বহাল থাকে সে উদ্দেশ্যে নামাযের বাইরে মনকে এমন কাজ দিতে হবে যাতে মন শয়তানের খপ্পরে না পড়ে ।
অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে আমরা যখন কাজ করি তখন ঐ কাজটি ভালভাবে সমাধা করার জন্য মনোযোগ দিয়েই কাজটি করতে হয়। অবশ্য এটা কাজের ধরনের উপর অনেকটা নির্ভর করে। কৃষক ও শ্রমিককে শুধূ হাত-পা ব্যবহার করে গতানুগতিক ধরনের এমন কাজও করতে হয় যে কাজে মনের তেমন কোন দায়িত্ব থাকে না। রিক্সাওয়ালার দেহ রিক্সা টেনে নিয়ে যাবার সময় এ কাজে মনের তেমন কোন দায়িত্ব নেই বলে তখন হাজারো ভাব মনে জাগতে পারে।
কিন্তু হাত যখন কলম দিয়ে লেখে তখন মন এ কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়, মুখ যখন বক্তৃতা করে অথবা কান যখন বক্তৃতা শুনে তখন মন এ কাজেই শরীক থাকে।
তাই আমাদেরকে হিসাব করতে হবে যে, দেহ যে কাজ করছে সে কাজে মনের দায়িত্ব কতটুকু আছে । যে কাজের সময় মন বেকার থাকে তখন তাকে কাজ দেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে আমাদের অজান্তেই ইবলীস তাকে বাজে কাজে বেগার খাটাবে। এটাই মানব জীবনের বিরাট এক সমস্যা। মন অত্যন্ত শক্তিশালী যন্ত্র। এর যোগ্যতা ও কর্মক্ষমতা অসীম। কাজ ছাড়া এক মুহুর্তও থাকতে পারে না। তাকে সব সময়ই কাজ দেবার যোগ্যতা অনেকেরই নেই। ফলে আমাদের এ মূল্যবান কর্মচারী ইবলীসের বেগার খাটে।
আপনার দেহ কোথাও বসে বা দাঁড়িয়ে পাহারা দিচ্ছে । ঘন্টার পর ঘন্টা বসে বা পায়চারি করে কাটাতে হচ্ছে। একা একা পার্কে বা রাস্তায় ভ্রমণ করছেন। যানবাহনের অপেক্ষায় স্টেশনে বসে বা কিউতে দাঁড়িয়ে আছেন । যানবাহনে চুপচাপ বসে আছেন বা বসার জায়গা না পেয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। দৈনিক পরিশ্রম করার পর ক্লান্তি দূর করার উদ্দেশ্যে বসে বা শুয়ে আছেন। ঘুমের কামনায় বিছানায় চোখ বুঝে পড়ে আছেন। এমন বহু সময় রোজই আমাদের জীবনে কেটে যায় যখন সচেনতনভাবে আমরা মনকে কোন বিশেষ চিন্তায়, ভাবনায় বা পরিকল্পনা রচনায় ব্যবহার করি না। মনকে আমরা এভাবে যখনই বেকার রেখে দেই তখন সে ইবলীসের বেগার কর্মচারীতে পরিণত হয়।

এর প্রতিকার হিসেবে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ইতিবাচক ও একটি নেতিবাচক উপদেশ দিয়েছেন। নেতিবাচক উপদেশটির সারমর্ম হলো, তোমরা আল্লাহকে লজ্জা কর। মনে এমন ভাব আসতে দিওনা, যা আল্লাহ অপছন্দ করেন। আল্লাহ মনের গোপন ভাবও জানেন। তাই এ কথা খেয়াল রাখবে যে এমন কথা আমি মনে কী করে স্থান দিতে পারি যা আমার মনিব অপছন্দ করেন? এভাবে লজ্জাবোধ করলে মনকে বাগে রাখা যায়।
আর ইতিবাচক উপদেশ হলো, জিহ্বাকে সব সময় আল্লাহর যিকরে চলমান রাখা। মনে খারাপ ভাব আসতে না দিলে মুখের যিকর মনকে যিকরে মশগুল রাখবে। অর্থাৎ মন ও মুখ কোনটাই খালি রাখা নিরাপদ নয়। মুখের যিকর মনকে যিকর করতে সাহায্য করে। মনকে দেবার মতো কোন কাজ না থাকলে তাকে যিকরে ব্যস্ত করে দিতে হবে এবং এ উদ্দেশ্য সফল করার জন্য মুখেও যিকর জারী করা দরকার ।

যিকরের ব্যাপারে এটি কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, শুধু ‘আল্লাহ, আল্লাহ’ যিকর কোথাও শিক্ষা দেওয়া হয়নি । আল্লাহ’ শব্দের সাথে আল্লাহর কোন একটি গুণ থাকা দরকার । যেমন সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার ,লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ইত্যাদি ।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম বলেন :
দুটো বাক্য এমন আছে যা মুখে উচ্চারণ করা খুব সহজ, কিন্তু দাঁড়িপাল্লায় বেশ ভারী এবং আল্লাহর নিকট বড় প্রিয় । তাহলো, সুবাহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী, সুবাহানাল্লাহিল আযীম।

কিছু বাস্তব পরামর্শ
খালি মনকে কাজে ব্যস্ত রাখার জন্য কতক পরামর্শ পেশ করছি :
১. সব সময় সব অবস্থায় ইসলামী বই সাথে রাখুন, যখনই মন অবসর হয়ে যায়, বই পড়ুন । এটা যিকর থেকেও বেশি কার্যকর পন্থা । যিকরে মনোযোগের অভাব হতে পারে। পড়ার সময় তা হয় না। তাছাড়া সকল রকম নফল ইবাদাতের মধ্য দীনের ইলম তালাশ করা শ্রেষ্ঠতম।
২. অনেক সময় বই পড়ার পরিবেশ বা সুয়োগ থাকে না। তখন কয়েকটি কাজ করতে পারেন :
ক. কুরআন পাকের মুখস্থ করা সূরাগুলো আওড়াতে থাকুন । পরিবেশ অনুকূল থাকলে গুনগুন করেই পড়ুন।
খ. কালেমা তাইয়েবা, তিন তাসবীহ, দরূদ বা যে কোন যিকর মুখে ও মনে জপতে থাকুন।
গ. আপনার করণীয় কজাগুলো সুষ্ঠুভাবে করার পরিকল্পনা করুন। কারো সাথে আলোচনার কথা থাকলে বিষয়টি মনে গুছিয়ে নিন।
ঘ. নিঃশ্বাস টানার সময় সচেতনভাবে ‘লা ইলাহা’ এবং নিঃশ্বাস ছাড়ার সময় ‘ইল্লাল্লাহ’ নিঃশব্দে মনে মনে পড়তে থাকুন।
ঙ. একটানা অনেকক্ষণ একই ধরনের কাজ করতে মন চায়না। তাই এসব কাজ অদল বদল করে করতে থাকুন।

Permission is taken from Source   http://prothom-aloblog.com/users/base/lovelu1977/274

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: