মানব সৃষ্টির আলোচনা কোরআন এবং বিজ্ঞানে

বিশাল আকৃতির মাটির পিণ্ডটির ওপর বিচরণকারী প্রাণিকুলের মধ্যে শ্রেষ্ঠ প্রাণী মানুষ মাটি থেকেই সৃষ্ট। কোরআনে আদম হচ্ছে সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী। এই আদমকে মহাজগতের দিগন্ত অঞ্চলের শেষ প্রান্ত সিদরাতুল মুন্তাহার কাছে সৃষ্টি করা হয়েছিল। সিদরাহ অর্থাৎ বদরিকা বৃক্ষ (মহাজগতের মাইল স্টোন হিসেবে ধরা হয়েছে) এবং মুন্তাহা অর্থাৎ শেষ অঞ্চল। আদম যুগলকে সৃষ্টি করে পরে সেখান থেকে পৃথিবীতে ট্রান্সফার করা হয়েছিল। কবে সৃষ্টি করে ট্রান্সফার করা হয়েছিল তার দিন-তারিখ পৃথিবীর মানুষের জানা নেই এবং জানার কথাও নয়। কোন ধরনের নভোযানে করে এই মানব যুগল পৃথিবীতে অবতরণ করেছিলেন সে বিষয়ে কারোরই কোন জ্ঞান নেই। বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীতে প্রাণের উন্মেষ ঘটার পেছনে অবশ্যই কোন এক অতি উচ্চশক্তিসম্পন্ন এনার্জির সূক্ষ্ম প্রযুক্তির টেকনোলজি কাজ করেছিল। পৃথিবীতে মানুষের প্রাণের স্পন্দন শুরু হওয়ার পেছনে রহস্যময় কতগুলো জৈব রাসায়নিক পদার্থের ক্রিয়া-বিক্রিয়া কাজ করেছে।

কয়েকজন বিজ্ঞানীর ধারণা- সেই আদিতে মঙ্গলগ্রহ থেকে পৃথিবীতে পুরুষের আগমন ঘটেছিল এবং নারীর আগমন ঘটেছিল শুক্রগ্রহ থেকে। বিজ্ঞ পাঠক! বর্ণিত আলোচনায় গ্রহ দুটি সম্পর্কে বর্ণনা করার সুযোগ নেই বিধায় ভবিষ্যতের জন্য রইল। নাসার ক্যালিফোর্নিয়ার প্যাসিডোনার ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির জ্যোতি পদার্থবিজ্ঞানীরা স্পিটজার মহাকাশ টেলিস্কোপে ১ হাজার আলোকবর্ষ দূরে মিল্কিওয়েতে জীবন সৃষ্টির অতীব গুরুত্বপূর্ণ জৈব রাসায়নিক পদার্থ পলিসাইক্লিক অ্যারোমেটিক্স হাইড্রো-কার্বন্স আবিষ্কার করেছেন। এই জৈব অণু বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সর্বত্রই বিরাজমান। মহাবিশ্বের এমন এক অঞ্চল আবিষ্কার হয়েছে, যে অঞ্চলে আমাদের সৌরজগতের মতো বহু গ্রহ, উপগ্রহ রয়েছে, যেগুলোর আবর্তন স্থিতিশীল। ফলে সেই অনন্ত জগতের গ্রহগুলোতে পানি তরল অবস্থায় যদি থেকে থাকেই, তবে প্রাণের উন্মেষ ঘটার মতো পরিবেশ থাকার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। অঞ্চলটিকে মহাজগতে প্রাণের বসতিযোগ্য অঞ্চল বলে অভিহিত করা হয়েছে।

ঈসা (আ·) এই পৃথিবীর মানুষ। আল্লাহ তাঁকে তাঁর নিজ প্রযুক্তিতে অনন্ত জগতের কোন অজ্ঞাত গ্রহে তুলে নিয়ে ট্রানজিটে রেখে দিয়েছেন। যে গ্রহটিতে তিনি এখন অবস্থান করছেন সেই গ্রহটির প্রাকৃতিক পরিবেশ হুবহু পৃথিবীর মতোই হবে। কোরআনে আছে- যিনি গ্যালাক্সি জগৎ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন তিনি কি এমন আরও জগৎ সৃষ্টি করার প্রযুক্তি রাখেন না? Is not HE Who created the harmonyes and the planet earth above to crate the like of them?

রোয়েলিয়ানদের প্রধান ডোরিল এবং তার গ্রুপ বিশ্বাস করে, আজ থেকে প্রায় পঁচিশ হাজার বছর আগে অনন্ত জগতের অজানা কোন উন্নত গ্রহ থেকে অধিকতর উন্নত মস্তিষ্কের প্রাণীরা আলোর গতিতে নভোযানে করে পৃথিবী ভ্রমণে এসে বেবুন কিংবা বামন সিম্পাঞ্জির সঙ্গে অ্যাটমিক স্যোমটিক সেল ট্রান্সফারের মাধ্যমে ক্লোন করে পৃথিবীতে মানুষের উন্মেষ ঘটিয়ে গেছে।

যদি তাই হয় তাহলে সেই অধিকতর উন্নত মস্তিষ্কের প্রাণীরা পৃথিবীতে মানুষ হয়ে এখন কোন অবস্থায় আছে দেখতে আসছে না কেন? কৃষক যখন ফসলের চাষ করে তখন এক নির্দিষ্ট সময় পর ফসলের অবস্থা কি হয়েছে দেখতে আসে। ভিন্ন গ্রহের সেসব প্রাণী মানুষকে দেখতে আসবে না, এ আবার কেমন কথা? তারা কি জানে পৃথিবীতে তাদের ক্লোনকৃত ফসল মানুষ এখন কল্যাণপুরে মানুষেরই অকল্যাণের জন্য চালের দোকানের নাম বিসমিল্লাহ রাইস এজেন্সি লিখে মানুষকে আকৃষ্ট করে প্রতারণার জাল ফেঁদে বসে আছে? নিরীহ সৎ কাস্টমার সে জালের ফাঁদে পড়ে রিক্ত হচ্ছে? বিসমিল্লায় বরকত বেশি বলে হয়তো প্রতারণায় সুফল পাচ্ছে? তার নিজের অকল্যাণ হচ্ছে না।

মানুষের প্রতি কি ভিন্ন গ্রহের সেই উন্নত প্রাণীদের হৃদয়ের কোনই উষ্ণতা নেই? কিংবা সৃষ্টিগত কারণে তাদের জন্য মানুষের হৃদয় উতালা হয়ে উঠছে না কেন? অনন্ত লোক থেকে পৃথিবীর পরিবেশে এসে তারা এখন বলছে না কেন- লাইলী তোমার এসেছে ফিরিয়া মজনু গো আঁখি খোল।

বর্ণিত আছে- আস সজল ফেরেশতার দুই বন্ধু আছে- হারুত আর মারুত। কোন একদিন এক বিশেষ মুহূর্তে সে অনন্ত জগতের প্রতি দৃষ্টিপাত করে আদম সৃষ্টির প্রক্রিয়াটি অবলোকন করছিল, যা সে দেখে ছিল তা সে গোপনে তার দুই বন্ধুকে বলে দিয়েছিল (তফসিরে ইবনে কাছির প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা-২৭৭)। কোরআনে আছে- খালাক্কাকুম মিন নাফছিউ অ খালাক্কা মিনহা যাউজ্বাহা, যিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে একক সত্তা থেকে এবং সেই সত্তাকে বিভাজিত করে সৃষ্টি করেছেন তার সঙ্গীকে। WHO created ye all from a single soul and from it created its mate.

একক সত্তা থেকে মনোজাইগটিক পদ্ধতিতে মানুষের উন্মেষ ঘটে যাওয়া বাস্তবেই সম্ভব। মনোজাইগটিক পদ্ধতিতে প্রকৃতিগতভাবে সৃষ্ট যমজ ক্লোনিং পদ্ধতি, যা মাতৃগর্ভে একটি জাইগোটে ডিম্বাণু ও শুক্রাণু নিউক্লিয়াস অ্যাসিমুলেশনের পর সৃষ্ট মানব ভ্রূণ কোষ ভেঙে বহু কোষে বিভাজিত হয়ে দুটি মানব ভ্রূণ সৃষ্টির মাধ্যমে নর-নারী পৃথক মানব সত্তায় পৃথিবীতে উন্মেষিত হতে পারে। এ থেকে প্রতীয়মান হচ্ছে, কোরআনের বর্ণিত তথ্য শতভাগই সঠিক ও বিজ্ঞানসম্মত। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা কোন অবস্থায় পৃথিবীতে প্রাণের উন্মেষ ঘটেছিল সে বিষয়ে গবেষণার জন্য একটি প্রকল্প চালু করেছিল। গবেষকদল স্বীকার করে নিয়েছেন যে, জীবনের উৎপত্তি সম্পর্কিত কোন রহস্যের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। হার্ভার্ডের প্রাণরসায়নের অধ্যাপক ডেভিড আর লিউ মনে করেন, প্রাণের উন্মেষের ঘটনা কোন দৈবের হস্তক্ষেপ ছাড়াও ঘটে থাকতে পারে।

কোরআনে আছে, মা লাহুম বিহিমিন ইলমিউ অলালি আবা ইহিম (১৮:৫)। এ বিষয়ে তাদের কোনই জ্ঞান নেই এবং তাদের পূর্ব-পুরুষদেরও ছিল না। A thing whereof they have no knowledge nor their fathers. সুবাহান্নাল্লাজি খালাক্কান আজওয়াজ্বা মিম্মা তুম্বিতুল আরদ্বু অ মিন আনফুসিহিম অমিম্মা লা-ইয়ালামুন (৩৬:৩৬)। তিনি নিখুঁত সূক্ষ্ম প্রযুক্তিময় বিজ্ঞানী, যিনি উদ্ভিদ জগৎ, মানুষ এবং মানুষ যা জানে না তাদের প্রতিটি সৃষ্টি করেছেন জোড়ায় জোড়ায়। glory be to HIM who created all sex pairs of that which groweth and of themselves and of that which they know not

রোয়েলিয়ানদের প্রধান ডোরিল এবং তার গ্রুপের কথা যুক্তিতে টিকে না এ জন্য যে, যদি ভিন্ন গ্রহের উন্নত মস্তিষ্কের প্রাণীরা অ্যাটমিক স্যোমটিক সেল ট্রান্সফারের মাধ্যমে ক্লোন করে মানুষের উন্মেষ ঘটিয়ে থাকে তাহলে তাদের উন্মেষ ঘটিয়েছে কে?

**************************
এ জে আ ব দু ল মো মে ন

Permission is taken from Source   http://prothom-aloblog.com/users/base/samimsikder/

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: