ইসলাম ও বিশ্ব-প্রকৃতি

ইসলামের ‘আগে পৃথিবী’ নীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিচে সংক্ষিপ্ত আকারে দেয়া গেলঃ

১. বর্তমানের প্রকৃতি বিধ্বংসী বিপর্যয়ের মূল কারণ হচ্ছে মানুষের আধুনিকতার ঔদ্ধত্য যে তার সৃষ্টিকর্তাকে ভুলে গেছে, যে নিজেকে নির্বাক প্রকৃতির একচ্ছত্র অধীশ্বর জ্ঞান করে ভোগ-লালসার সীমাহীন উল্লাসের প্লাবনে বিশ্ব প্রকৃতিকে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে চায়, যেন এর অক্ষত থাকার কোনো অধিকারই নেই। পক্ষান্তরে একজন মুসলমান জানে যে, এখানকার কোনো কিছুর ওপরই তার কোনো মালিকানা নেই, মালিকানা একমাত্র আল্লাহ্‌র। বাইবেলের ধারণা মতে সে এখানে আধিপত্য বিস্তারের জন্য বাস করে না বরং এখানে সে অবস্থান করে একজন খায়খালাসি স্বত্বসম্পন্ন মানুষের মতো, প্রাকৃতিক সম্পদগুলোর দায়িত্বশীল ব্যবহারকারী হিসেবে।

২. সর্বশক্তিমান আল্লাহ্‌ (যিনি এগুলোর প্রকৃত মালিক) মানুষের কাছ থেকে সর্ববিষয়ে মধ্যপন্থী আচরণ পছন্দ করেন এবং কোনো অবস্থাতেই সম্পদের অপচয় পছন্দ করেন নাঃ

‘…. আল্লাহ্‌তায়ালা অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।’ [সূরা আল আনআম (৬ঃ ১৪১)]

এভাবে তিনি চাকচিক্য, জৌলুশ ও বিলাসিতাকে ত্যাগ করার নির্দেশ দেন, একইভাবে উদর পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পরও খাদ্য গ্রহণ অব্যাহত রাখাটা লালসার অভিব্যক্তি বিধায় তাকে বর্জন করার উপদেশ দেন।

সাধারণভাবে বিচার করলে এই নির্দেশ প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার নির্দেশেই গিয়ে পৌঁছায়। কুরআনের ভাষায়ঃ

‘আল্লাহ্‌র জমিনে বিপর্যস্ত সৃষ্টি কোরো না, যা তিনি এত সুন্দরভাবে বিন্যস্ত করেছেন।’ [সূরা আল আ’রাফ (৭ঃ ৫৬)]

এই প্রেক্ষাপটে একজন মুসলমান হচ্ছে প্রকৃতির জন্মগত প্রতিরক্ষক, যদি সম্যক বিপর্যয়ের কোনো কারণ নাও থাকে।

৩. সমগ্র কুরআনজুড়ে প্রকৃতির যে বিস্তৃত বর্ণনা দেয়া হয়েছে তার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের মনে আল্লাহ্‌র সৃষ্টির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগিয়ে তোলা (এই সাথে এটা আল্লাহর অস্তিত্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণও বটে)। একজন মুসলমানের জন্য মহাবিশ্ব হচ্ছে একটিমাত্র পরিবার যার ঐকতান হচ্ছে আল্লাহতায়ালার প্রেমময় মর্যাদা ও মহিমার স্বতঃস্ফূর্ত বহিঃপ্রকাশ।

৪. কুরআন প্রকৃতি বিজ্ঞানের বিশ্বকোষ নয়, কিন্তু তবুও এর মাঝে প্রকৃতি জগতের আশ্চর্য সব ঘটনাবলির প্রাণবন্ত বিবরণ দেয়া হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে

‘কখনো তোমরা সেই পানির (সূত্র) সম্বন্ধে চিন্তা করে দেখেছ কি, যা তোমরা (নিত্য) পান করো। (আকাশের) মেঘমালা থেকে এই পানি কি তোমরা বর্ষণ করো- না আমিই এর বর্ষণকারী? অথচ আমি চাইলে এই (সুপেয়) পানিকে লবণাক্ত করে (পানের অযোগ্য করে) দিতে পারি। আমার সৃষ্টির এসব কলাকৌশল জানা সত্ত্বেও তোমরা কেন আমার কৃতজ্ঞতা আদায় করছ না?’ (৫৬ঃ ৬৮-৭০)

৫. ‘পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অর্ধেক’ নবী করীম সাঃ-এর এই উক্তিটি প্রতিবেশগত বাস্তবতার ওপর প্রয়োগ করলে আমরা দেখতে পাই যে, প্রকৃতির বিরুদ্ধে আজ যে ধ্বংসাত্মক আক্রমণ চলছে তার শুরু হচ্ছে এর অপরিচ্ছন্নকরণের মাঝ দিয়ে।

অহঙ্কারী নরসর্বস্ব মনোবৃত্তি বিশ্বপ্রকৃতির যে ক্ষতি ইতোমধ্যেই করে ছেড়েছে কেবলমাত্র স্বেচ্ছাপ্রণোদিত আত্মসংযমের প্রতিকার করতে যথেষ্ট নয়। বিশ্বপ্রকৃতিকে বাঁচাতে গেলে সর্বাগ্রে যা করতে হবে তা হচ্ছে ভোক্তা হিসেবে পশ্চিমা সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন সাধন। কেবল যখন সে নিজেকে মুসলমানের মতো আবদ (আল্লাহর বান্দা) হিসেবে দেখতে শিখবে তখনই তার পক্ষে ভোক্তা হিসেবে নিজের বিবেককে কাজে লাগান সম্ভব হবে এবং কেবল তখনই এমন একটি বিপ্লব ঘটানো সম্ভব হবে যার বিনিময়ে তারা খুঁজে পায় তাদের চির কাঙ্ক্ষিত শান্তি। এটাই ইসলাম।

Permission is taken from Source     http://islamicbanglabd.blogspot.com/

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: