ইসলামে নেতৃত্ব নির্বাচনের গুরুত্ব

হে নবী! নিশ্চয়ই আমি তোমার প্রতি পূর্ণ কুরআন পরম সত্যতার সাথে এ জন্যই নাজিল করেছি যে, তুমি সে অনুযায়ী মানুষের ওপর আল্লাহর দেখানো পন্থায় রাষ্ট্র পরিচালনা করবে এবং বিচার-ইনসাফ কায়েম করবে, কুরআন অনুযায়ী যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চায় না তুমি এসব খিয়ানতকারীকে সাহায্যকারী এবং পক্ষাবলম্বনকারী হয়ে যেয়ো না (সূরা নিসাঃ ১০৫ আয়াত)।

আপনি মুসলমান হলে অবশ্যই আপনার মধ্যে পরকালে আল্লাহর কাছে সব কাজের জবাবদিহিতার ব্যাপারে ভাবতে হবে। আপনি অবশ্যই মৃত্যুবরণ করবেন। আর কবরে তিনটি প্রশ্ন করা হবে­ আপনার রব কে ছিল? আপনার নবী কে ছিল? আপনার দীন বা ধর্ম কী ছিল? এসব প্রশ্নের জবাব তারা দিতে পারবেন যারা রবের হুকুমমতো দুনিয়ায় চলেছেন। নবীর আদর্শ মোতাবেক জীবনযাপন করেছেন। ইসলাম ধর্মে নিষিদ্ধ এমন কোনো কাজ করেননি। তা না হলে ওই প্রশ্নের জবাব দিতে পারবেন না। তখন কবরের কঠিন শাস্তি শুরু হয়ে যাবে যখন হাশরের ময়দানে উঠবেন। তখন পাঁচটি প্রশ্ন করা হবে, যার জবাব না দিতে পারলে একটি পা পর্যন্ত নড়তে দেয়া হবে না। তা হলো­ তোমার গোটা জীবন তুমি কার পথে অতিবাহিত করেছ? বিশেষ করে জিজ্ঞাসা করা হবে­ তোমার যৌবনকালকে তুমি কার পথে কাটিয়েছ? তারপর বলা হবে­ তুমি কোন পথে অর্থ উপার্জন করেছিলে, আর তা কার পথে খরচ করেছিলে? তুমি যে জ্ঞান অর্জন করেছিলে সে অনুযায়ী তুমি চলেছিলে কিনা? এই প্রশ্নগুলোর জবাব না দিতে পারলে আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতারা ওই লোকটির কপালের সামনের চুল ধরবে আর পা ধরে সাথে সাথে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে।
মূলত আমাদের সৃষ্টি করেছেন আল্লাহতায়ালা। তিনি আমাদের পালনেওয়ালা। তিনি আমাদের মাথার ওপর বিশাল আকাশ সৃষ্টি করেছেন এবং পায়ের নিচে বিস্তীর্ণ জমি সৃষ্টি করেছেন। জমি যার এখানে আইন চলবে একমাত্র তাঁরই। তাঁর আইন ছাড়া অন্য কারো আইন চলতে পারে না। মহানবী সাঃ-কে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তিনিই সেই মহান সত্তা যিনি তাঁর নবী হজরত মুহাম্মদ সঃ-কে হেদায়েত ও সত্য দীন সহকারে পৃথিবীতে এ জন্যই পাঠিয়েছেন যে, যাতে করে তিনি পৃথিবীর সব মতাদর্শের ওপর ইসলামকে বিজয়ী করতে পারেন। মহানবী সাঃ আল্লাহর এই নির্দেশ পুঙ্খানুপঙ্খ পালন করেছিলেন। যার কারণে তার ইন্তেকালের সময় আরব ভূখণ্ডে ইসলাম প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল। পরবর্তীকালে তাঁর সাহাবি ও দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমরের সময় অর্ধেক দুনিয়ায় ইসলামের আলো প্রজ্বলিত হয়েছিল।

কুরআনে অন্য আয়াতে বলা হয়েছে­ তারা মুমিন নয়, যারা তাদের পারস্পরিক ব্যাপারে রাসূল সাঃ-কে ফায়সালাকারী না মানবে। এমতাবস্থায় যদি আমরা রাসূল সাঃ-কে ফয়সালাকারী হিসেবে গ্রহণ করি, তাকে নেতা মানি তাহলে আজো তাঁর নির্দেশমতো নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে। রাসূল সাঃ যাদেরকে রাষ্ট্রক্ষমতা দিয়ে গিয়েছিলেন তাঁরা হলেন তাঁর নিকটতম সাহাবি বা চার খলিফা। তাদের ৩০ বছরের খেলাফতকালে ইসলামের সোনালি সমাজ সেখানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি, লুটতরাজ, জেনা-ব্যভিচার বন্ধ হয়ে একটি নিরাপদ নগরীতে পরিণত হয়েছিল মক্কা-মদিনা ও গোটা আরব ভূখণ্ড। আজো যদি কুরআনের আলোকে সুখী সমাজ নির্মিত হয় তাহলে প্রত্যেক মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পেয়ে ধন্য হবে।
মাওলানা জাকির হোসাইন আজাদী

Permission is taken from Source     http://islamicbanglabd.blogspot.com/

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: