সন্তানের ব্যাপারে মা-বাবার জবাবদিহিতা

আল্লাহতায়ালা মানুষকে অসংখ্য নেয়ামত দান করেছেন। এমনি একটি নেয়ামত হলো সন্তান-সন্তুতি। এ সন্তান যখন দুনিয়াতে আসে তখন সে ইসলাম গ্রহণের যোগ্যতা নিয়েই আসে। এটাকে আরবিতে ফিতরাত বলা হয়। এ প্রসঙ্গে নবী করিম সাঃ বলেছেন, ‘প্রতিটি শিশুই ফিতরাত তথা ইসলাম গ্রহণের যোগ্যতাসহ জন্মগ্রহণ করে। তারপর তার মা-বাবা তাকে ইহুদি, খ্রিষ্টান অথবা অগ্নিপূজক বানায়। (বুখারি ও মুসলিম)
কাজেই বুঝা যাচ্ছে সন্তানকে সচ্চরিত্রবান করা কিংবা অকার পথে ঠেলে দেয়ার একমাত্র রূপকার তার মা-বাবা ।আর যদি মা-বাবা এ বিষয়ে যত্নবান না হয় কিংবা পরিবেশ যদি চরিত্র গঠনের অনুকূলে না থাকে তবে শিশুর চরিত্র বিনষ্ট হয়ে যায়।
মহানবী সাঃ সন্তানের প্রতি মা-বাবার দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা বলতে গিয়ে ঘোষণা করেন, ‘মা-বাবার প্রতি সন্তানের হক হচ্ছে ¬ প্রথমত, তিনটি। ১. জন্মের পর পরই তার জন্য একটি সুন্দর নাম রাখা, ২. জ্ঞান বৃদ্ধি হলে তাকে কুরআন তথা দীন শিক্ষা দেয়া, ৩. আর সে যখন বালিগ হবে তখন তার বিয়ের ব্যবস্থা করা।’ বস্তুত সন্তানের ভালো নাম না রাখা, কুরআন ও দীন শিক্ষা দান না করা এবং বালিগ হওয়ার পর তার বিয়ের ব্যবস্থা না করা মা-বাবার জন্য অপরাধের শামিল। এ সব কাজ না করলে মা-বাবার পারিবারিক দায়িত্ব পালিত হতে পারে না এবং ভবিষ্যৎ সমাজ ও ইসলামি আদর্শ মোতাবেক গড়ে উঠতে পারে না। ইসলামে প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর ওপর জ্ঞানার্জন ফরজ। রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন, ‘তোমরা তোমাদের সন্তানদের শিক্ষা দাও।’ ইসলাম সন্তানের শিক্ষা-দীক্ষার প্রতি কতটা যত্নশীল তা বুঝা যায় বদরের যুদ্ধে বন্দী মুক্তির ঘটনায়। এ যুদ্ধে কিছুসংখ্যক বন্দী এ শর্তে মুক্তি পায় যে তারা দশজন করে মুসলিম সন্তানকে লেখাপড়া শেখাবে।
বারবার মনের মধ্যে কয়েকটি প্রশ্ন উঁকি মারছে যে, উঠতি বয়সী সন্তানকে নাইট ক্লাবে পাঠিয়ে মা-বাবা আরামে ঘুমাচ্ছেন¬ তারা কেমন মা-বাবা? তাদের মধ্যে কী সন্তানের ব্যাপারে একটুও দায়িত্বানুভূতি নেই? তারা কেন বা কোন স্বার্থে ‘লিভ টুগেদার’কে বর্তমান সমাজের বা যুগের চাহিদা বলে নিজেদের সন্তানদেরকে অকার জগতে ঠেলে দিচ্ছে? তাদের মধ্যে কী পরকালীন কোনো ভয়-ভীতি নেই? তাদের বুঝা উচিত, আল্লাহতায়ালা তাদের যে সন্তান দিয়েছেন সে সন্তানকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে তৈরি করার দায়িত্বও তাদের দিয়েছেন। তারা সে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাদের আসামি হিসেবে আল্লাহর বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। মহানবী সাঃ মা-বাবাকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, সাবধান! তোমরা প্রত্যেকেই রাখাল (দায়িত্বশীল), তোমাদের প্রত্যেককেই স্বীয় দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞসা করা হবে। (বুখারি) আর আল্লাহতায়ালা তো আরো সুস্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন, ‘তোমরা নিজে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচ এবং তোমাদের আহল তথা পরিবারকেও বাঁচাও। মা-বাবার উচিত তাদের সন্তানদের হজরত লোকমান আঃ-এর মতো নসিহত করা। তাদের চরিত্রবান করে গড়ে তোলার জন্য এক দিকে মা-বাবা যেমনিভাবে সচেষ্ট থাকবেন অপর দিকে আল্লাহর দরবারে দোয়া করবেন। কেননা আল্লাহর অনুগ্রহ ছাড়া মানুষের চেষ্টা কখনো ফলপ্রসূ হতে পারে না। কুরআন মজিদে মা-বাবাকে তাদের সন্তানের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করার উপদেশ এবং শিক্ষা দেয়া হয়েছে। সূরা ফুরকানে আল্লাহর নেক বান্দাদের অন্যান্য গুণের সাথে এ গুণটির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহর নেক বান্দাহ তারাই যারা সব সময় এই বলে দোয়া করে হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জন্য এমন স্ত্রী ও সন্তান-সন্তুতি দান কর যারা আমাদের জন্য নয়ন প্রীতিকর হবে। (২৫ঃ৭৪) আর সুসন্তান রেখে যাওয়ার ফায়দা সম্পর্কে মহানবী সাঃ বলেছেন, মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে তখন তার আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিনটি কাজ ব্যতীত অর্থাৎ তিনটি কাজের ফল সে মৃত্যুর পরও ভোগ করতে পারে। এক. সাদকায়ে জারিয়া, দুই. এমন এলম¬ যা মানুষের উপকারে আসে, তিন. নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করবে। (আল আদাবুল মুফরাদ, পৃ. ৪৯।

Permission is taken from source http://islamicbanglabd.blogspot.com

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: