হজ (বিস্তারিত )পর্ব ৮

রাসূল সাঃ বলেন, ‘হজ সমাপনকারী সদ্যজাত ভূমিষ্ঠ শিশুর মতো নিষ্পাপ।’ রাসূল সাঃ আরো বলেন, ‘হজের বিনিময় একমাত্র জান্নাত ব্যতীত আর কিছুই নয়।’ (আল-হাদিস)
লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লা-শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্নেয়মাতালাকাল মুলক, লা শারিকা লাকা লাব্বাইক। অর্থ ‘হে প্রভু! দয়াময় খোদা! আমি তোমার দরবারে হাজির, তোমার কোনো শরিক বা অংশীদার নেই, আমি তোমার দরবারে হাজির হতে পেরে তোমার সব নেয়ামতের শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।’ প্রত্যেক হাজী কাবাগৃহের সামনে এবং বিশাল আরাফাতের ময়দানে এ কথাগুলো বারংবার মনের আবেগে উচ্চারণ করে থাকেন।
আমাদের প্রিয় নবী উম্মতের কাণ্ডারি রহমতের ভাণ্ডার, হজরত মুহাম্মদ সাঃ যেভাবে তার ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক ও আন্তর্জাতিক জীবন অতিবাহিত করেছেন সেভাবেই প্রত্যেক হাজীকে তাদের নতুন জীবন শুরু করতে হবে। নতুবা হজ পালনকারী হাজীদের আসল উদ্দেশ্য সফল হবে না। প্রত্যেক হাজী হজের নীতি অনুসরণে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের লক্ষ্যে সর্বপ্রকার পাপাচার-কামাচার ভোগ-বিলাস, হিংসা, অহঙ্কার, ক্ষোভ, সুদ, ঘুষ, জুয়া, মদপান, ধূমপান, দাড়ি কামানো গিবত, শেকায়াত, অপচয় খেল-তামাশাসহ মিথ্যা কথা ইত্যাদি বিষয়গুলো পরিহার করতে হবে। সর্বপ্রকার পাপকাজ থেকে বিরত থেকে শয়তানের প্রতি আন্তরিক ঘৃণা ধিক্কার, উপেক্ষাই হবে মিনার ময়দানে শয়তানের উদ্দেশে পাথর নিক্ষেপ করার বাস্তব নমুনা হাজীরা মিনার ময়দানের পাথর নিক্ষেপের পর আল্লাহর প্রেমে পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন, মনে রাখতে হবে এই পশুটি কোরবানি করাও একটি প্রতীকী বা স্মৃতি চিহ্ন আমল বা কাজ। আল্লাহ হজরত ইব্রাহিমকে (আঃ) স্বপ্নের মাধ্যমে আদিষ্টিত করেছেন তার প্রিয় বস্তুটি কোরবানি করার জন্য। হজরত ইব্রাহিম (আঃ) আল্লাহর প্রেম-প্রীতি ভালোবাসায় মগ্ন হয়ে প্রায় ৯৯ বছর বয়সে প্রাপ্ত একমাত্র সন্তান ইসমাঈলকে (আঃ) আল্লাহর উদ্দেশে কোরবানি করার জন্য চরমভাবে আত্মত্যাগের পরীক্ষায় অবতীর্ণ হন। ইব্রাহিম (আঃ) সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর উদ্দেশে আত্মত্যাগের মহান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে খলিল উপাধি লাভ করেন। যার ফলে মহান আল্লাহতায়ালা তার কাজে খুশি হয়ে তার একমাত্র সন্তানের পরিবর্তে একটি পশু কোরবানির জন্য ছুরির নিচে হাজির করে দেন। এ ঘটনাটি আল্লাহর কাছে খুবই পছন্দনীয় হয়েছে বিধায় আল্লাহতায়ালা তাঁর প্রেম নিবেদনের স্মৃতিটুকু ধরে রাখার জন্য কেয়ামত পর্যন্ত সব সামর্থবান মুসলমানের ওপর কোরবানি ওয়াজিব করেছেন।
পশু কোরবানি করা প্রতীকী বা স্মৃতি চিহ্ন আমল। আল্লাহ বলেন, ‘হে মানব সকল! জেনে রেখো কোরবানির গোশত ও রক্ত কিছুই আমার কাছে পৌঁছে না। কেবলমাত্র পৌঁছে তোমাদের অন্তরের তাকওয়া, আমি দেখতে চাই তোমরা কে কতটুকু আমাকে ভালোবাস এবং ভয় করো।’
আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশে আল্লাহর দেয়া সম্পদ আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী খরচ করাই কোরবানির প্রধান লক্ষ্য, উদ্দেশ্য। তাই আল্লাহপাক বলেন, ‘হে আমার বান্দা সকল! তোমরা বলো, নিশ্চয় আমার সালাত বা নামাজ, আমার কোরবানি বা আত্মত্যাগ, আমার হায়াত বা জীবন, আমার মরণ সব কিছুই বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করলাম।

মাওলানা আবুল হোসাইন পাটওয়ারী
Permission taken from Source     http://islamicbanglabd.blogspot.com/

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: