হজ (বিস্তারিত )পর্ব ৩

হজ্বের আভিধানিক অর্থ কোন স্থান দর্শনের সংকল্প করা। ইসলামের পরিভাষায় নির্দিষ্ট দিনসমূহে পবিত্র কাবাগৃহ ও নির্দিষ্ট কয়েকটি সম্মানীত স্থানে আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের নির্দেশ অনুসারে অবস্থান করা, জিয়ারত করা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করার নামই হজ্ব্‌। হজ্ব একটি গুরুহত্বপূর্ণ ইবাদত। হজ্ব ইসলামের পঞ্চ রোকনের একটি অন্যতম রোকন।

হজ্বের ফরজ তিনটি। যথা (১) ইহ্‌রাম বাঁধা অর্থাৎ হজ্বের নিয়ত করে তালবিয়া পাঠ করা (২) আরাফার ময়দানে উকুফ (অবস্থান করা) (৩) তাওয়াফে জিয়ারত করা।

হজ্বের ওয়াজিব পাঁচটি । যথা (১) মুজদালিফায় অবস্থান করা(২) সাফা-মারওয়ায় সাঈ করা (৩) রমী করা (কংকর মারা) (৪) মাথার চুল মুন্ডানো অথবা ছোট করা (৫) বিদায়ী তাওয়াফ করা। এছাড়াও হজ্বে অনেকগুলো সুন্নত কাজ রয়েছে।

মহান আল্লাহ তায়ালা হাকিম ও প্রজ্ঞাময়। ভূমণ্ডল এবং নভোমণ্ডলের কোন কিছুই তাঁর হেকমত এবং রহস্য থেকে বঞ্চিত নয়। আল্লাহ তায়ালার লক্ষ লক্ষ হেকমতের মধ্যে কল্যাণ ও রহস্য লুকায়িত রয়েছে, যা মানুষের ধ্যান-ধারণার বাইরে।

হজ্ব পরকালের সফরের এক বিশেষ নিদর্শনঃ আলেমগণ হজ্বের সফরকে পরকালের সফরের সাথে তুলনা করেছেন। কালের যাত্রীকে আত্মীয়-স্বজন, ঘর-বাড়ী, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি, বন্ধু-বান্ধব, স্ত্রী-সন্তান সবাইকে ছেড়ে চলে যেতে হয়। হজ্ব পালনকারী যখন হজ্বের সংকল্প করে বের হয় অনুরূপ পরকালের যাত্রীর ন্যায় এসব কিছু ত্যাগ করে যেতে হয়। পরকালের যাত্রীকে যেমন সাদা কাফনের কাপড় পরিয়ে খাটিয়ায় সাওয়ার করানো হয়, তেমনি হজ্ব যাত্রী মৃত ব্যক্তির কাফনের ন্যায় ইহ্‌রামের দু’টুকরা শ্বেত শুভ্র সেলাইবিহীন কাপড় পরিধান করে যানবাহনে আরোহণ করে। কিয়ামত দিবসে আহবানকারীর ডাকে সাড়া দেয়ার মত হজ্ব পালনকারীর কণ্ঠে উচ্চারিত হতে থাকে “লাব্বায়কা আল্লাহুম্মা লাব্বায়ক লা শারীকা লাকা লাব্বায়ক; ইন্নাল হামদা ওয়ান্‌নিয়ামাতা লাকা ওয়াল মূল্‌ক। লা শারীকা লাক্‌। মৃত্যুর পর যেমন ছোয়াল জওয়াবের সম্মুখীন হতে হবে তেমনি হজ্বের সফরে হাজীদেরকে বিমান বন্দরসহ সংশিস্নষ্ট স্থানে সরকারি-বেসরকারি লোকদের নিকট বিভিন্ন প্রশ্নের অবতারণাসহ পরীক্ষা-নিরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়। মক্কা শরীফে প্রবেশ করা যেন ঐ জাহানে প্রবেশ করা যেখানে শুধুই আল্লাহর রহমত। বায়তুলাহ শরীফের চতুরদিকে প্রদক্ষিণ করা আরশে আজিমের চুতুরদিক প্রদক্ষিণ করার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সাফা ও মারওয়া সাঈ করা হাশরের ময়দানে দিশেহারা হয়ে এদিক-ওদিক ছুটা-ছুটি করার ন্যায়। সূর্যের প্রচণ্ড খরতাপে আরাফার ময়দানে লাখ লাখ মানুষের অবস্থান যেন হাশরের মাঠের সাদৃশ্য। হজ্বের প্রতিটি আমলেই হাজীগণের সামনে কিয়ামতের চিত্র ভেসে উঠে।
আলহাজ্ব মোঃ ইমান আলী

Permission taken from Source     http://islamicbanglabd.blogspot.com/

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: