হজ (বিস্তারিত )পর্ব ২

হজের সফরে প্রস্তুতির প্রথম ধাপ হলো কুরআন শিক্ষা তথা কুরআন-হাদিসের জ্ঞান অর্জন করা। আপনারা অবশ্যই অবগত আছেন, সব আলেমে দীন এ বিষয়ে সম্পূর্ণ একমত যে, সূরা ফাতেহা হতে সূরা নাছ পর্যন্ত (সম্পূর্ণ কুরআন) জীবনে অন্তত একবার সহিহ করে পড়া ফরজে আইন। প্রস্তুতি গ্রহণের দ্বিতীয় পর্যায়ে আপনাকে স্বয়ং আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার পরিচয় জানতে হবে। আল্লাহর রববিয়াত, উলুহিয়াত তথা আল্লাহর জাত-ছিফাত সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন করা দরকার। হজের সফরের শুরুতেই হজের প্রাণকেন্দ্র বায়তুল্লাহ শরিফ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন করা ভালো। তা ছাড়া এখানে রয়েছে সুস্পষ্ট নিদর্শনগুলো, যেমন মাকামে ইবরাহিম; এখানে যেই প্রবেশ করল সেই নিরাপদ হলো (আল ইমরান-৯৭)। শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে নিরাপদ, জালিমের জুলুস থেকে নিরাপদ, দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে নিরাপদ। সম্মানিত হাজী সাহেবান, আল্লাহর প্রিয় নবী আঃ-দের পদচিহ্নিত ও স্মৃতি বিজড়িত মাতাফ, সাফা-মারওয়া, মাশয়ারুল হারাম, মসিজেদ খায়িফ, মসজিদে নামিরা, জাবালে রহমত, মিনা ও আরাফাহ ময়দান হজের অনুষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো। আপনি শূন্য ঝোলা কাঁধে নিয়ে এসব বরকতময় নিদর্শনগুলোর পাশ দিয়ে দৌড়াদৌড়ি করবেন অথচ যথার্থভাবে চিনে নিয়ে এসব থেকে কাঙ্ক্ষিত ফায়দা হাসিল করতে পারবেন না এমন যেন না হয়। পবিত্র কুরআনে হজের আহ্বান থেকে শুরু করে হজ বিষয়ে বেশ প্রণিধানযোগ্য কিছু আয়াত রয়েছে। এসব আয়াত অর্থসহ মুখস্থ থাকলে তেলাওয়াত করে মজা পাবেন।

নবী আঃ-দের মাধ্যমেই ইসলামের নিয়ামত মানুষের কাছে পৌঁছেছে। অতএব নবী সাঃ-এর সিরাত আপনাকে অধ্যয়ন করতে হবে।

ইবরাহিম আঃ-এর সিরাত অধ্যয়নঃ কাবাকেন্দ্রিক বিশ্বসভ্যতা গড়ার উদগাতা হচ্ছেন ‘মিল্লাতা আবিকুম ইবরাহিম আঃ। নূহ আঃ-এর প্লাবনের পর মক্কা আল মোকাররামাহ শহরের প্রতিষ্ঠা ও বায়তুল্লাহ শরিফের পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জমজম কূপের উৎপত্তি, সাফা-মারওয়ায় সায়ি, মিনায় কুরবানি, তাকবিরে তাশরিক আর রামিউল জুমরাহের স্মৃতি একান্তভাবেই ইবরাহিম আঃ ও তাঁর পরিবারের সাথে জড়িত। নবী হজরত ইবরাহিম আঃ-এর সিরাত জেনে নিতে পারলে অবশ্যই কল্যাণ রয়েছে।

হজ থেকে ফেরার পরঃ হজের শিক্ষায় কূপমণ্ডুকতা ও সঙ্কীর্ণতার স্থান নেই; আছে উদারতা, আছে মহানুভবতা। সদা মনে রাখতে হবে, আল্লাহর মেহমান হিসেবে আপনি যে সম্মান ও মর্যাদার আসনে সমাসীন হয়েছেন, তা যেন ভূলুণ্ঠিত না হয়। হজের সফরে যে আলো আপনার হৃদয়ে জ্বলছে তা যেন নিভে না যায়, বরং সে আলো যেন আপনার পরিবার ও সমাজকে আলোকিত করে। আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে যে পেরেশানি নিয়ে আপনি তাওয়াফ করেছেন, সায়ি করেছেন মসজিদুল হারামাইনের জামায়াতে শরিক হওয়ার জন্য সদা সতর্ক থেকেছেন, তাহাজ্জুতগুজারে ব্রতী হয়েছেন, হজ থেকে ফেরার পরও আপনার মধ্যে তা যেন জাগরূক থাকে। তবেই আপনি আলোকিত মানুষ। আর সুন্দর সমাজ ও সভ্যতা গড়ার জন্য আলোকিত মানুষের বড় প্রয়োজন।

নাদির আহাম্মদ

Permission taken from Source     http://islamicbanglabd.blogspot.com/

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: