হজ (বিস্তারিত ) পর্ব ১০ শেষ

হজ মানুষের দেখানোর জন্য হলে তা হবে নির্ঘাৎ জাহান্নাম। এ ছাড়া হজ কবুলের জন্য আর যা যা প্রয়োজন তা হলো শরীর পাক,  খাদ্য পাক, পোশাক পাক, অন্তরাত্মা পাক ও অর্থ পাক। নিম্নের হাদিসটি এ ক্ষেত্রে প্রণিধানযোগ্য। আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত রাসূল আল্লাহ সাঃ বলেন, আল্লাহতায়ালা হচ্ছেন পবিত্র­, পবিত্র ছাড়া অন্য কিছু তিনি গ্রহণ করেন না। আল্লাহ তায়ালা ঈমানদারদের জন্য তাই নির্দেশ করেন যা তিনি নবীদের জন্য করে থাকেন। তিনি (আল্লাহ) বলেন, হে নবী সাঃ যা কিছু পবিত্র তাই ভক্ষণ করুন এবং সৎ কাজ করুন এবং আল্লাহতায়ালা বলেন, হে ঈমানদাররা, আল্লাহ, দেয়া রিজিক থেকে হালাল জিনিস ভক্ষণ করো। তারপর তিনি একটি লোকের কথা উল্লেখ করেন যে ব্যক্তি দীর্ঘ সফর করেছে যার নজির তার মলিন বদন এবং আলু থালু চুল দেখলেই বোঝা যায়। সে আকাশের দিকে দু’হাত তুলে বলছে (দোয়া করছে) হে আমার প্রভু… অথচ তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম। পোশাক পরিচ্ছদ হারাম দ্বারা তৈরি। তার দোয়া কি গ্রহণযোগ্য? (আবু দাউদ) হাদিসটি সুস্পষ্ট। এতে বোঝা যাচ্ছে প্রার্থনাকারী একজন আমলদারি মুসলিম কারণ সফরের ক্লান্তি অবস্থায় সে আল্লাহর আরাধনায় রত। তবে আরাধনা কবুলের জন্য খাদ্য, পানীয়, পোশাক, দেহ যা পবিত্র হওয়া শর্ত তা সে পূরণ করেনি। অতএব, তার দোয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

তেমনিভাবে মক্কা-মদিনা জিয়ারতকারী একজন নারী বা পুরুষের জন্যও তা পাক বা হালাল হওয়া পবিত্র। বাঁচার নতুন কোনো উপায় নেই। যে উপায় আল্লাহ ও তার রাসূল সাঃ বলে দিয়েছেন। আর তা হলো রুজি-রোজগার পবিত্র হওয়ার পাশাপাশি একজন ব্যক্তিকে খাঁটি ঈমানদার ও খাঁটি জীবনব্যবস্থা হিসেবে ইসলামকে গ্রহণ করতে হবে। এর সংক্ষিপ্ত অর্থ হলো­ নামাজ-রোজার ক্ষেত্রে শুধু ইসলাম স্বীকার করলে চলবে না, বরং জীবনের সব ক্ষেত্রেই ইসলামকে জানতে হবে ও মানতে হবে অতীতে তা মানা না হয়ে থাকলে হজের সময়ে অতীতের অপরাধ স্বীকার করতে হবে-এর জন্য অনুশোচনা করতে হবে। তা করতে পারলে আশা করা যায় হজের প্রকৃত কল্যাণ পাওয়া যেতে পারে। আর তা করতে না পারলে হজের অনুষ্ঠানে যোগদান আর কোনো ইসলামি সমাবেশে যোগদানের মতোই একটা কিছু হতে পারে, এর বেশি নয়। সবাইকে ধোঁকা দেয়া বা বোকা বানানো সহজ শুধু আল্লাহকে ছাড়া। সব মুসলিম নর-নারীর হজ মহান আল্লাহ কবুল করেন এ প্রত্যাশা কামনা করছি। কেননা একজন হাজী বেগুনাগার মানুষ কোনো জনপদে থাকাটা ওই জনপদের জন্য রহমতস্বরূপ। এ ক্ষেত্রে এজাতীয় হাজী যত বেশি ততই কল্যাণ, ততই মঙ্গল। এমন হাজীর জন্যই রাখা হয়েছে মূলত হজের বিধান।

প্রফেসর ড. এ বি এম মাহবুবুল ইসলাম

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: