সংকটের সময় নবী-রাসূলদের তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর ওপর ভরসার দৃষ্টান্ত

ইয়াকুব [আ:]
হযরত ইয়াকুব [আ:] এর ছেলে ইউসুফ হারিয়ে গেছেন । দীর্ঘদিন পর্যন্ত তাঁর কোন সংবাদই পাওয়া যায়নি । সময় এত বেশী অতিবাহিত হয়ে গেলো যে, তাঁকে ফিরে পাওয়ার সব আশা-ভরসাই নি:শেষ হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু তা সত্বেও ইয়াকুব [আ:] কিছুমাত্র নিরাশ হননি । সন্তান হারানোর বেদনা যখন তীব্র ও দু:সহ হয়ে উঠলো, তখন তিনি বললেন:

ইন্নামা আশকুউ বাসসি ওয়া হুজনি ইল্লাল্লাহি (সুরা ইউসুফ-৮৬)
বাংলা অর্থ: “আমি আমার দু:খ ও অস্থিরতা আল্লাহর সমীপেই নিবেদন করছি ।”

তিনি তাঁর সন্তানদের সম্বোধন করে বললেন–
ওয়ালা তাইআসু মির রাওহিল্লাহি ইন্নাহু লা ইয়ায়াসু মির রাওহিল্লাহি ইল্লাল কাওমুল কাফিরুন (সুরা ইউসুফ-৮৭)
বাংলা অর্থ: “তোমারা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। কেননা আল্লাহর রহমত থেকে কাফের সম্প্রদায় ব্যতীত আর কেউ নিরাশ হয় না।”

আইয়ুব [আ:]

হযরত আইয়ুব [আ:] অত্যন্ত কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন । অবস্থা এমন দাঁড়ি্য়েছিল যে একমাত্র জিহ্বা ব্যতীত তাঁর সমস্ত দেহে পোকা এসে গিয়েছিল। হযরত আইয়ুব [আ:] রোগে-শোকে জর্জরিত ও নিকটাত্মীয়দের দ্বারা পরিত্যক্ত হয়ে আল্লাহকে ডেকে বলেছিলেন–

রাব্বি আননি মাসসানিয়ায যুররু ওয়া আনতা আরহামুর রাহিমীন (সুরা আম্বিয়া- ৮৩)
বাংলা অর্থ: ” হে আল্লাহ আমি দু:খ-কষ্টে পতিত হয়েছি এবং আপনি দয়াবানদের চাইতেও শ্রেষ্ঠ দয়াবান। ”

ইউনুস [আ:]

হযরত ইউনুস [আ:] সমুদ্রে মাছের পেটের মধ্যে বন্দী হয়ে কাতর কন্ঠে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানালেন–

লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নী কুনতু মিনাজ যলিমীন (সুরা আম্বিয়া- ৮৭)
বাংলা অর্থ: ” হে আল্লাহ ! তুমি ছাড়া কোন মাবুদ নাই, তুমি পবিত্র, মহান। আর আমি তো জালিমদের অন্তর্ভুক্ত। ”

মহানবী [স:]

হযরত মুহাম্মদ [স:] কে কাফিররা তাড়া করেছে । তিনি সওর গুহায় আশ্রয় নিলেন। সংগে আবুবকর [র:] । কাফিররা তাঁকে ধরার জন্য অনুসন্ধান চালাতে শরু করলো । খুঁজতে খুঁজতে একসময় তারা গুহার মুখের ওপর এসে দাঁড়াল। নিছের দিকে তাকালেই তারা মুহাম্মদ [স:] কে দেখটএ পারে । এসময় অবস্থা এমন সংকটাপন্ন ছিলো যে; না ছিলো আকাশে উড়ে যাওয়ার উপায়, না ছিলো জমীনে ধ্বসে যাওয়ার কোন পথ । হযরত আবুবকর [র:] ভয় পেয়ে কাঁদতে শুরু করলেন। তখ নবী করীম [স:] বললেন–

লা তাহজান ইন্নাল্লাহা মাআনা (সুরা তওবা- ৪০)
বাংলা অর্থ: “দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ো না । আল্লাহ আমাদের সংগেই আছেন ।”

ওপরোক্ত প্রতিটি ক্ষেত্রেই আল্লাহতাআলা তাঁদেরকে শোচনীয়-দু:সহ অবস্থা থেকে উদ্ধার করেছিলেন। এ জন্য যেকোন পরিস্থিতিতে আমাদের আল্লাহর ওপরই ভরসা করতে হবে, তা যত কঠিন হোক না কেন । আর আল্লাহ তো কোরআনে বলেই দিয়েছেন তাঁর সাহায্য অত্যন্ত নিকটবর্তী ।

Permission taken from Source : http://prothom-aloblog.com/users/base/talhatitumir/

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: