আসুন নিজের জন্য কিছু সঞ্চয় করি…….. পর্ব – ০৪

নামায-শিক্ষার বিভিন্ন দিক

আল্লাহু আকবার বলে নামায শুরু করার পর সালাম ফিরাবার পূর্ব পর্যন্ত দেহ ও মনকে একমাত্র আল্লাহর হুকুম ও রাসূলের (সা) তরীকা অনুযায়ী ব্যবহার করতে হয়। কেউ বেশি সওয়াবের নিয়তে আত্তাহিয়্যাতু পড়ার জায়গায় সূরা ইয়াসীন পড়লে নামায হবে না। নিজের মরযী মতো নামযে কিছুই করা যাবে না। আল্লাহর হুকুম ও রাসূলে (স) তরীকা মতোই নামাযে সবকিছু করতে হবে।

এভাবে ৫ ওয়াক্ত নামাযে কালেমার যে ট্রেনিং হয় তা নামাযের বাইরে কায়েম করতে পারলেই নামাযের উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়। নামায বাস্তব জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন কোন অনুষ্ঠান নয়। জীবনের সব ক্ষেত্রে নামাযের ট্রেনিংকে কাজে লাগাতে হবে। এটাই নামাযে মনের টেনিং । মনকে নামায থেকে বিচ্ছিন্ন করা চলবে না। ফজরের পর মসজিদে মনকে ঝুলিয়ে রেখেই বাইরে যেতে হবে। মন সারাদিন নামাযের সময় সম্পর্কে সচেতন থাকবে।

৫. নামাযের বিভিন্ন অবস্থায় মনটাকে কাজ দিতে হবে যাতে মন নামাযের বাইরে চলে না যায়। নামাযে মন অনুপস্হিত হলেই মনে শয়তান এমন সব ভাবনা হাযির করে যা নামাযের উদ্দেশ্যেই ব্যর্থ করে দেয়। নামায শেখার সময় এটা সাধারণত শেখানো হয় না । এটা অবশ্যই শিখতে হবে। আমরা দেহ দ্বারা নামাযে যা করি তাতে নামাযের দেহ তৈরি হয়। আর মনে যদি সঠিক ভাবনা থাকে তবেই নামাযে প্রাণ সঞ্চার হয় বা নামায জীবন্ত হয় । তাই নামাযে কোন অবস্থায় মনে কোন ভাবনা থাকতে হবে তা জনাতে হবে ও তা অভ্যাস করতে হবে। নামাযে যখন যা পড়া হয় এর মর্মকথাই ভাবনায় থাকতে হবে।
নামাযে সবকিছুই আরবীতে পড়তে হয়। যারা আরবীর অর্থ বুঝে না তারাও মর্মকথাটা জেনে নিতে পারে। টাকার নোটের লেখা পড়তে জানে না তারাও কোনটা কত টাকার নোট তা চিনে নেয়। তেমনি নামাযে আরবীতে যখন পড়া হয় এর মর্মকথা জেনে নিতে হবে। আরবীটুকু মুখস্থ করতে যে সময় লাগে এরও কম সময়ে তা শেখা সম্ভব। মুখে উচ্চারণ করবে, আর মনে মর্মকথাটুকু জাগ্রত রাখবে।

৬.কালেমায়ে তাইয়েবার মধ্যে যেমন ওয়াদা রয়েছে, তেমনি নামাযেও প্রচ্ছন্নভাবে ওয়দা করা হয়।

গোটা নামাযে এ ওয়াদা ঊহ্য রয়েছে যে, “ হে আমার মাবূদ, নামাযে যেমন তোমার হুকুম ও রাসূলে (স) তরীকা মতো সবকিছু করেছি, নামাযের বাইরেও আমি সেভাবেই করব। আমার অঙ্গ প্রত্যঙ্গ নামাযে যেমন আমার মরযী মতো ব্যবহার করিনি; নামাযের বাইরেও তা আমার মরযী মতো ব্যবহার করব না। নামাযে যে মুখে তোমার পবিত্র কালাম উচ্চারণ করেছি, নামাযের বাইরেও তোমার অপছন্দনীয় কথা মুখে আনব না।
নামাযের রুকুতে আমার যে মাথা তোমার দরবারে নত করে গৌরবের ভাগী হয়েছি, সে মাথাকে আর কোন শক্তির সামনে নত করে অপমানিত করব না। আমাকে এ শক্তি দাও যাতে ঐ গৌরব বহাল রাখতে পরি।

সিজদায় আমার দেহ মনসহ আমার পূর্ণ সত্তাকে তোমার নিকট সমর্পণ করে ধন্য হয়েছি। আমি একমাত্র তোমার নিকট আশ্রয় নিয়েছি। আমার আর কোন আশ্রয়ের প্রয়োজন নেই। আমি আর কোন শক্তির অনুগ্রহের ভিখারি হব না। আমি আর কোন শক্তির পরওয়া করব না। সিজদায় তোমার যে মহান নৈকট্য লাভ করেছি এটাই আমার মহা সম্পদ । আমাকে তোমার গোলাম হিসেবে কুবল করে নাও। আমাকে তোমার সালেহ বান্দাহগণ, মুখলিস দাসগণ ও অগ্রবর্তী মুকাররাবীনের মধ্যে শামিল কর।

Permission taken from Source http://prothom-aloblog.com/users/base/lovelu1977/

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: