আসুন নিজের জন্য কিছু সঞ্চয় করি…….. পর্ব – ০৯

শিশু মায়ের কোলে আশ্রয় পেলে যেমন সেখানেই দীর্ঘ সময় থাকতে চায়, তেমনি সিজদায় আল্লাহর নৈকট্য বোধ হলে তাড়াতাড়ি সিজদা থেকে উঠতে মন চাইবে না। তাসবীহ ৩, ৫, ৭ যতবার খুশি পড়ার পর কুরআন ও হাদীসের দোয়াগুলো থেকে নিজের বাছাই করা দোয়া সিজদায় পড়তে পরম তৃপ্তি বোধ হয়।

রাসূল (স) সিজদা থেকে উঠে দাঁড়ানোর সময় মাটিতে হাত দিয়ে উঠতেন না। হাঁটু ও ঊরূতে হাত দিয়ে দাঁড়াতেন । (বৃদ্ধ লোকেরা অবশ্য মাটিতে হাতের ভর না দিয়ে উঠতে পারে না। )
এভাবে দুরাকাআত পড়তে হয়। দ্বিতীয় রাকআতে সূরা ফাতিহার আগে বিসমিল্লাহ পড়া উচিত । রাসূল (সা) দ্বিতীয় রাকআতে আউযুবিল্লাহ পড়তেন বলে প্রমাণিত নয়। অনেকেই বিসমিল্লাহকে সূরা ফাতিহার অংশ মনে করেন। তাই বিসমিল্লাহ পড়াই নিরাপদ।

দু’রাকাআত পড়া হলেই বসতে হয়। দু’রাকআত বিশিষ্টি নামাযে এ বৈঠক ফরয। আর তিন বা চার রাকাআতবিশিষ্ট নামাযে দু’রাকাআতের পর বসা ওয়াজিব এবং শেষ বৈঠক ফরয ।

এখানে যা পড়তে হয় এর নাম তাশাহুদ
অর্থ : সকল সম্মানজনক সম্বোধন, বরকত ও পবিত্রতা আল্লাহর জন্য । হে নবী ! আপনার উপর শান্তি আল্লাহর রহমত ও বরকত নাযিল হোক। আমাদের উপর ও আল্লাহর নেক বান্দাহদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক । আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর দাস ও রাসূল।

তাশাহহুদের পর দরূদ এবং দরূদের পর নামাযের শেষ দোয়া:

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আমার নাফসের উপর অনেক যুলম করেছি (মানে অনেক গুনাহ করেছি) তুমি ছাড়া আর কেউ তা মাফ করতে পারেনা। সুতরাং তোমার পক্ষ থেকে আমাকে মাফ কর এবং আমার উপর রহম কর । নিশ্চয়ই তুমি ক্ষমাশীল ও মেহের বান।

নামায শেষ করার পূর্বে এ দোয়াটি ছাড়া আরও বহু দোয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন সময় পড়তেন। সব দোয়ার মধ্যে এ দোয়াটিই প্রায় সবাই পড়ে। এ দোয়াটি বান্দাহর জন্য বড় সম্বল। বান্দাহর তো হামেশাই গুনাহ হতে থাকে। তাই মাফ চাইতে থাকাই উচিত । মুমিন হিসেবে এক মুহুর্তেও আল্লাহকে ভুলে থাকা উচিত নয়। ভুলে থাকলেই মনে এমন সব খেয়াল আসে যা মুমিনের জন্য মোটেই সাজে না।
একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাগণকে বললেন তোমরা আল্লাহকে লজ্জা কর। সবাই বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ আমরা তো লজ্জা করি। রাসূল (সা) বললেন, আল্লাহকে লজ্জা করার মানে হলো, তোমার মগজকে পাহারা দাও যেন এমন চিন্তা সেখানে না ঢুকে যা আল্লাহর নিকট অপছন্দনীয় । তোমার পেটকে পাহারা দাও যাতে এমন খাবার সেখানে না ঢুকে যা হালাল নয়। আর মৃত্যুকে বেশি করে ইয়াদ কর।
অর্থাৎ এমন ভাবনায় সব সময় থাকতে হবে যে, আল্লাহ আমাকে দেখছেন এবং আমার মনের খবরও তিনি রাখেন। এ অবস্থায় এমন চিন্তা আমি কেমন করে মগজে স্থান দিতে পারি যা মন্দ এবং এমন খাদ্য কেমন করে আমি খেতে পারি যা হারাম। এ লজ্জাবোধকে রাসূল (স) ঈমানের শাখা বলেছেন।
সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করার পর রাসূলুল্লাহ (স) বিভিন্ন সময় বহু দোয়া পড়তেন। এ সব দোয়ার মর্মকথা হলো মাফ চাওয়া, দয়া ভিক্ষা করা, আল্লাহর নৈকট্য কামনা করা ও সব অবস্থায় আল্লাহর উপর ভরসা রাখা।

নামায শেষ হলে তিন তাসবীহ পড়ার উপর রাসূল (স) বেশ গুরুত্ব দিয়েছেন। একদিন রাসূল (স) হযরত মুয়ায (রা) কে তিনবার বলেন “মুয়ায তোমাকে আমি ভালবাসি। প্রত্যেক নামাযের পর ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ ৩৩ বার আল্লাহু আকবার এবং ১বার () পড়তে ভুলবে না।
এ তাসবীহগুলো পড়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে যে, প্রতিটি তাসবীহই তাওহীদের ঘোষণা । কুরাআনে সুবহানাল্লাহ তাসবীহটি শিরকের প্রতিবাদেই ব্যবহার করা হয়েছে । যেমন :
আলহামদুলিল্লাহ মানে সকল প্রশংসা শুধু আল্লাহর জন্য, আর কোন সত্তা এর অধিকারী নয়। আল্লাহু আকবার তো স্পষ্টভাবেই ঘোষণা করে যে, আর কোন সত্তা এর চেয়ে বড় নয়। এভাবে এ তাসবীহগুলো তাওহীদের ঘোষণা হিসেবেই উচ্চারণ করতে হবে।

এভাবে নামায আদায় করতে পারলেই নামাযে রূহ পয়দা হবে। নামাযের আসল অর্জনই হলো নামযের রূহ। মৃত দেহ যেমন কোন কাজের নয়, নিস্প্রাণ নামাযও আসল নামায নয়। প্রাণহীন নামাযে এর উদ্দেশ্য পূরণ হতে পারে না।
নামাযের জামায়াতে যত লোক শামিল হয় তারা সবাই একই নামায পড়ে, কেরায়াত ও তাসবীহ একই ভাষায় পড়ে, রুকু সিজাদা একইভাবে করে, কিন্তু আল্লাহ এর সওয়াব কি সবাইকে এক সমানই দেবেন? হাদীস অনুযায়ী প্রত্যেক নেক আমলের পুরস্কার ১০গুণ থেকে ৭০০ গুণ দেওয়া হবে। একই সাথে যারা নামায আদায় করে তাদের কেউ ১০ গুণ, কেউ ২০, কেউ ২০০ কেউ ৫০০ গুণ কেন পাবে? কিসের ভিত্তিতে এত পার্থক্য হবে?

নামাযের দেহ কতটুকু সুন্দর হলো, যা কিছু পড়া হয় তা কী পরিমাণ শুদ্ধ হলো, নামায আদায়ের সময় মনের অবস্থা কার কেমন ছিলো , নামাযে কার কতটা আবেগ ও আন্তরিকতা ছিলো ইত্যাদির পার্থক্যের কারণেই সওয়াব বেশ কম হবে। তাই এসব দিক দিয়ে নামাযের মানকে যাতে উন্নত করা যায় সে বিষয়ে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। উন্নতির কোন শেষ নেই। তাই প্রচেষ্টা ও চলতেই থাকা উচিত।

Permission taken from Source http://prothom-aloblog.com/users/base/lovelu1977/

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: