আসুন নিজের জন্য কিছু সঞ্চয় করি…….. পর্ব – ১০

জীবন্ত নামাযের নমুনা

রাসূল (স) এর নামায

১. অন্তরের প্রশান্তি, “নামাযকে আল্লাহ তাআলা আমার জন্য চোখের শান্তি বানিয়েছেন । ” (হাদীস )
২. পেরেশান অবস্থায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযের মাধ্যমে স্বস্তি বোধ করতেন, “নামায ও সবরের মাধ্যমে সাহায্য চাও ।” (সূরা আল বাকারা )
৩. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ প্রত্যেক নবীর জন্য আল্লাহ একটা করে খাহেশ পয়দা করেছেন, আমার খাহেশ রাতের নামায । আল্লাহ প্রত্যেক নবীর জন্য একটি মর্যাদার লুকমা বানিয়েছেন, ৫ ওয়াক্তের নামায আমার লুকমা।”
৪. দীর্ঘ সময় দাঁড়াবার দরুন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পা বা হাটুঁ অবশ হয়ে যেত।

সাহাবায়ে কেরামের নামায

১. হযরত আবূ বকর (রা) খুটির মত নিশ্চল হয়ে নামাযে দাঁড়াতেন।
২. বল্লমের আঘাতে বেহুশ থাকা অবস্থায় হযরত ওমর (রা) কে নামাযের কথা বললে তিনি হুঁশ ফিরে পান।
৩. হযরত উসমান (রা) এর হত্যাকারীদেরকে লক্ষ্য করে তাঁর বিবি বললেন “তোমরা এমন লোককে হত্যা করলে যে রাতের নামাযে কুরআন খতম করতেন।
৪. হযরত আলী (রা) এর পায়ে বিদ্ধ তীর সিজদারত অবস্থায় সহজে খোলা গেল।
৫. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা)অসুস্থ অবস্থায় চোখের চিকিৎসা ত্যাগ করলেন, কারণ চিকিৎসক সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত সিজদা দিতে নিষেধ করেছিলেন।
৬. হযরত আবদুল্লহ ইবনে যুবাইর (রা) নিশ্চল থমের মত দাঁড়াতেন এবং বলতেন এটাই খুশু ।
৭. হযরত আবূ তালহা আনসারী (রা) বাগানে নামাযের সময় পাখির দিকে খেয়াল করায় রাকাআতের সংখ্যা ভুলে যাওয়ার কাফফারা হিসেবে ঐ বাগানটাই আল্লাহর পথে খরচ করার জন্য রাসূল (স)কে দিয়ে দিলেন।
৮.এক ব্যক্তি রাসূল (সা) এর নিকট উপদেশ চাইলে তিনি বলনে “ যখন নামাযে দাঁড়াবে, জীবনের শেষ নামায মনে করে পড়বে।”

নামাযের শেষে দোয়া

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইমাম হিসেবে নামায পড়ালে নামাযের শেষ দিকে () বলে নামায শেষ করে মুসল্লীদের দিকে মুখ করে বসতেন যাতে যারা শেষ দিকে নামাযে শরীক হয়েছে তারা বুঝতে পারে যে জামায়াত শেষ হয়ে গেছে। ঘুরে বসার সময় তিনি আওয়ায দিয়ে আল্লাহু আকবার এবং তিনবার আসতাগফিরুল্লাহ বলতেন।

“আল্লাহর রাসূল (স) কিভাবে নামায পড়তেন” নামক বই থেকে বিস্তারিত জানা যায় যে, এ সময় তিনি কী কী দোয়া পড়তেন। এ সব দোয়ার কথাগুলোও আল্লাহর সাথে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করায় সহায়ক।

আসলে মুমিনের জীবনটা আল্লাহময় হোক, এটাই নামাযের উদ্দেশ্য । আল্লাহ সব সময় দেখছেন এবং মনে যা চিন্তা-ভাবনা আসে তা সবই তিনি জানেন, এ চেতনা সবময় মুমিনকে পরিচালিত করুক জীবন্ত নামাযের এটাই লক্ষ্য ।

কুরআন ও হাদীস থেকে অনেকগুলো দোয়া বাছাই করে আমি একটি ছোট সংকলন তৈরি করেছি। বই আকারে আল্লাহর দরবারে ধরনা নামে তা প্রকাশিত। নামাযের ভেতরে ও বাইরের জন্য অনেক আবেগময় দোয়া এ সংকলনে রয়েছে। আমি ৫ ওয়াক্ত নামাযের জন্য দোয়া বাছাই করে নামাযের শেষে আল্লাহর দরবারে পেশ করি। প্রত্যেকেই তার পছন্দমতো দোয়া বাছাই করে নিতে পারেন। একসাথে সব দোয়া মনে থাকে না। এভাবে নির্দিষ্ট করে নিলে মনে থাকে।

Permission taken from Source http://prothom-aloblog.com/users/base/lovelu1977/

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: