লাইলাতুল ক্বাদর

লাইলাতুল ক্বদর একটি মহান রাত্রি। এ রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। কোন রাতটি এই মহান রাত এ ব্যাপারে আলেমদের পঞ্চাশটিরও বেশী মত রয়েছে। ‘ফাতহুল বারী’ নামক বোখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থে ইবনে হাজার আসকালানী মতগুলো উল্লেখ করেছেন।

এটি এমন এক রাত্রি যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে, সওয়াব প্রাপ্তির আশায় এই রাতে কিয়ামুল লাইল (রাত্রিকালীন নামাজ) আদায় করে তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। কোন কোন রেওয়ায়েতে (বর্ণনাতে) পরবর্তী গুনাহর কথাও এসেছে। কুরআনে এই রাত্রিকে হাজার মাসের চেয়ে উত্তম বলে ঘোষণা করা হয়েছে। আর যে ব্যক্তি এ রাত্রি থেকে বঞ্চিত হলো সে প্রভূত কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো।

আলেমদের অগ্রগণ্য মতানুযায়ী, এটি রমজান মাসে এবং রমজানের শেষ দশদিনের কোন একদিন। আর রমজানের জোড় রাত্রিগুলোর চেয়ে বেজোড় রাত্রিতে এটি হওয়ার সম্ভবনা অধিক। যেহেতু এ ব্যাপারে বর্ণনা রয়েছে।

শবে ক্বদর হওয়ার দিক থেকে কোন রাত্রিটা বেশী অগ্রগন্যতা পাবে এ নিয়ে আলেমরা মত পার্থক্য করেছেন। প্রত্যেক মতের পক্ষেই সুন্নাহ থেকে প্রমাণ রয়েছে, উত্তম তিন প্রজন্মের বাণী রয়েছে। রমজানের ২১তম রাত্রি লাইলাতুল ক্বদর হওয়ার ব্যাপারে একটা সহীহ হাদীস আছে। ২৩তম রাত্রির ব্যাপারে বহুবিদ আলেম মত দিয়েছেন। ২৫ ও ২৭তম রাত্রি লাইলাতুল ক্বদর হওয়ার ব্যাপারে অধিকাংশ সাহাবী ও তাবেয়ীরা মত প্রকাশ করেছেন। এজন্য প্রাজ্ঞ আলেমদের অনেকে মনে করেন, লাইলাতুল ক্বদরটা প্রতি বছর বিশেষ একটা রাত্রিতে বা ২৭ শে রমজানে হয় না। বরঞ্চ এই রাত্রিটি রমজানের বেজোড় রাত্রিগুলোর মধ্যে আর্বতন করে। হতে পারে ২১ তারিখে। যার পক্ষে হাদীসে এসেছে- “উক্ত দিনের ভোররাতে আমি স্বপ্নে দেখি যে, আমি মাটি ও পানির মাঝে সিজদায় পড়ে আছি।” সেটি ছিল ২১ তম রাত্রি। আর নবীদের স্বপ্ন সত্য। ফাতহুল বারী নামক গ্রন্থে ইবনে হাজার এ মতের প্রবক্তাদের নাম ও তাদের প্রমাণাদি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু নবীকরিম (সাঃ) যখন সাহাবীদেরকে লাইতুল ক্বদর (ভাগ্য রজনী) নির্ধারণ করে দেয়ার জন্য বের হলেন তখন দুজন মুসলিম ঝগড়ায় লিপ্ত হন। যার ফলে লাইলাতুল ক্বদরকে নির্ধারণকরণ স্থগিত করে দেয়া হল। রাত্রিটি আছে বটে, কিন্তু কোন রাত্রি সেটি তা আর জানানো হয়নি। এটাই হলো ঝগড়ার অপকার। অবশ্য এটিকে অজ্ঞাত রাখার মধ্যে একটা রহস্য আছে। তা হলো মুসলিম যেন এ রাতকে পাওয়ার জন্য তার চেষ্টা অব্যাহত রাখে। শুধু এক দরজা দিয়ে কেন, সে যেন সকল দরজা দিয়ে কল্যাণ লাভের চেষ্টা করে। এ কারণে এ রাত্রিকে অনির্ধারিত রাখা হয়; যেন মুসলিমের আমল বেশী হয় এবং এ রাত্রিকে খুঁজতে গিয়ে তার নেকীর পাল্লা ভারী হয়। যেমন শুক্রবারে দোয়া কবুলের মোক্ষম সময়টিও গোপন রাখা হয়েছে। যেন সেটিকে পাওয়ার জন্য মুসলিম তার চেষ্টা অব্যাহত রাখে। আল্লাহ্‌র দরবারে ধর্ণা দেয় এবং তার কাছে ভেঙ্গে পড়ে। আশা করা যায় এর মাধ্যমে সে তা পাবে।

এমনকি হতে পারে, কেউ এ রাত্রি পেল কি, পেল না সে তা বুঝতেও পারবে না? শেষ দশরাত্রিতে ইবাদতে মশগুল থাকার পরও সে জানতে পারবে না কোন রাত্রিটি লাইলাতুল ক্বদর ছিল? অধিকাংশ আলেমদের মতে, ‘এ রকম হতে পারে। সে জানবেও না সে রাত্রিটি কোন রাত্রিটি ছিল। কিন্তু সে সওয়াবের অধিকারী হবে।‘ আর কোন কোন আলেমের মতে, যে এ রাত্রিটি পাবে সে অবশ্যই রাত্রিটিকে অনুভব করবে। অনুভব না করলে সে রাত্রিটি পেল না। তাদের প্রমাণ হচ্ছে আয়েশা (রাঃ) বর্ণিত হাদীছ-তিনি বলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল (সাঃ) যদি আমি ঐ রাত্রিটি পেয়ে যাই তাহলে আমি কী বলে দোয়া করব? এ হাদীছ প্রমাণ করে যে, এ রাত্রিটিকে অনুভব করা যাবে। বিশেষতঃ ইবাদত-সচেতন, নিষ্কলুষ আত্মাতো এটাকে পাবে। সেটি এমন একটি রাত্রি যেটি হবে সুশান্ত, আলোময়, নাতিশীতোষ্ণ। সে রাত্রিতে কোন উল্কা ছোড়া হবে না। এভাবে বিভিন্ন বর্ণনায় এ রাত্রির আলামতগুলো উল্লেখ এসেছে।

মূল: আব্দুল কারীম আল খুদাইর (সৌদি উচ্চ আলেম পরিষদের সদস্য)
অনুবাদ: মুহাম্মদ নূরুল্লাহ্‌ তারীফ

Permission taken from Source http://prothom-aloblog.com/users/base/tarif/

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: