বিশ্ব নবীর সার্বজনীন আদর্শ

Permission taken from Source   http://prothom-aloblog.com/users/base/sadi/

বিশ্ব নবীর সার্বজনীন আদর্শ
মাহমুদুল হাসান সাদী

ধরনীর জন্মলগ্ন হতে এ পর্যন- সকল সৃষ্টির সর্বোত্তম আদর্শ সর্বশেষ চরিত্র মাধুরী, সর্বকালের, সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ মহামানব, ইতিহাসের তালিকায় যে মহান ব্যক্তির নাম সর্বগ্রে বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত যার আগমনের জন্য আল্লাহ পাক নির্ধারিত করে রেখেছিলেন ইসলামের পরিপূর্ণতাকে যে মহাপুরুষ একটি প্রাগ উৎশৃঙ্খল জাতিকে এক আওয়াজে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। যে মহা মানব সমগ্র জাতির উপর সর্বপেক্ষা বেশী প্রভাব বিস-ার করেছিলেন। যিনি জাতি ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষ বিশ্ব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হিসেবে স্বীকৃত ছিলেন। যিনি সারা বিশ্ব নেতৃত্ব দেবার যোগ্যাতা সম্পন্ন ছিলেন। যে মহামানব অনাচার, ব্যভিচার ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন একটি জাতিকে অল্প সময়ের মধ্যে এ সুসংহত ও সুসভ্য জাতিতে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়ে ছিলেন। যে মহা মনীষীর নামের পরশ রয়েছে, আকাশে- বাতাসে, গ্রহে, ্‌উপগ্রহে, তিনিই হলেন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ মুস-ফা (সাঃ)।আজ থেকে প্রায় ১৫০০ বছর আগে বাতিল পন’ী, ভোগবাদী ইন্দ্রিয় পূজারী মানুষগুলো যখন, হত্যা খুন, হানাহানি, অ-নৈতিকতা, অশ্লীলতা,বেহায়াপনা, মদ্যপান, জুয়াখেলা, সংকীর্নতা, গোত্রপ্রীতি, গোত্রে গোত্রে সংঘাত, দেব-দেবীর পূজা, কন্যা সন-ানদের জীবন- কবর দেয়া, মানুষের প্রতি মানুষের প্রভুত্ব, দাস প্রথার নামে শোষন, নিপিড়ন বনিকদের প্রতি হামলা, লুটতরাজ, সন্ত্রাস নৈরাজ্য ইত্যাদি জঘন্য খেলায় নিমগ্ন ছিল ঠিক সেই দুঃসময়ে ঘনঘোর অন্ধকারে, আলোর মশাল হাতে নিয়ে আল্লাহ পাক যে মহা মানবকে প্রেরন করেছেন তিনিই ছিলেন বিশ্ব নবী হযরত মুহাম্মদ মোস-ফা (সাঃ)। তাঁকে প্রেরন করা হয়েছে সকল যুগের সর্বস-রের মানুষের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ রূপে। সর্বপ্রথমেই আমাদের দৃষ্টি পড়ে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর সার্বজনীন রূপের প্রতি। এমন সর্বগুনে গুনাম্বিত অসাধারন ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মহা বিশ্ব জগতে আর দ্বীতিয়টি নেই। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) যে কেবল মাত্র মানুষের জন্য পূর্ন আদর্শ ছিলেন তা নয় বরং সমগ্র সৃষ্টির জন্যই তিনি ছিলেন চিরন-ন আদর্শ। জড় জগত, উদ্ভিদ জগত, প্রাণী জগত,মানব জগত আধ্যন- জগত, সৌর জগত, ফেরেশ্‌তা জগত ইত্যাদি মিলিয়া যে বিশ্ব জগত সেই বিশ্ব জগতের তিনিই আদর্শ অন্য কথায় তিনি হচ্ছেন সমগ্র সৃষ্টির একমাত্র প্রতিনিধি তাঁর মধ্যে সকলেই নিজ নিজ আদর্শ ও প্রেরনা খুঁজে পেতে পারে। হযরতের জন্ম হতে মৃত্যু পর্যন- তাহাকে কেন্দ্র করে যত ঘটনা ঘটেছে সমস-ই মিলিয়ে দেখা যাবে নিখিল সৃষ্টি তাঁর মধ্যে প্রতিবিম্বিত হইয়েছে। এই জন্যই হযরতের জীবনের পরিসর ছিল এক মাত্র ব্যাপক। ধুলার ধরনী হতে আরম্ভ করে আল্লাহর আরশ পর্যন- সপ্ত আসমানের সর্বত্র ছিল তাঁর কর্মভূমি যেমন দেখতে পাই রাখাল বেশে তিনি মাঠে মেষ বকুরী চরাচ্ছেন। অন্য দিকে সম্রাট হয়ে রাজ্য পরিচালনা করেছেন, একদিকে তিনি মাটি কাটতেছেন, অন্য দিকে তিনি ব্যবসা বানিজ্য করছেন, দেশ- দেশান-রে যাচ্ছেন হিলফুল ফুজুল গঠন করে আর্তপিড়ীত, দরিদ্র, নির্যাতিতদের সেবা করিতেছেন। তিনি বিবাহ করেছেন। সংসার করেছেন, সংসার পরিচালনা করেছেন। পিতা ও প্রতিবেশীর কর্তব্য পালন করেছেন। হেরা গুহায় উপসনায় মগ্ন ছিলেন। রোজা রেখে পেটে পাথর বেধে দিনাতিপাতি করেছেন। তিনি হিযরত করে অত্যাচারীগণের নিকট থেকে দুরে সরে যাচ্ছেন, অথচ অন্য দিকে জালিম দিগকে বাধা দেবার জন্য প্রানপনে যুদ্ধ করে যাচ্ছেন। তিনি সেনাপতি বেশে বীরের মত যুদ্ধ করেছেন। যুদ্ধে জয়লাভ করেছেন। আবার অপর দিকে পরম শক্রকে কাছে পেয়ে ও প্রতিশোধ নেননি। বরং ক্ষমা করে বুকে টেনে নিয়েছেন। তিনি এক দিকে দুনিয়ার খবর, রেখেছেন অপর দিকে অসীম রহস্য লোকে প্রবেশ করে আল্লাহর সাথে কথা বলিতেছেন। বস-ত রাখাল, ভিখারী, দাস-দাসী পিতা পুত্র ভ্রাতা ভগীনি, স্বামী, স্ত্রী, বালক-বালিকা, যুবক-যুবতী, গৃহী প্রতিবেশী, নাগরিক, কর্মী জ্ঞানী সন্নাসী, স্বধর্মী, বিধর্মী, স্বদেশী-বিদেশী যোদ্ধা সেনাপতি রাজা প্রজা ধনী, গরীব, জ্বিন-ফেরেশ্‌তা, ফকির দরবেশ, নবী – রাসুল সকলের জন্যই তিনি ছিলেন সর্বোত্তম আদর্শ । কর্ম জগতের তিনি যেমন আদর্শ আধ্যানি-ক জগতে ও তিনি আদর্শ । মানব জীবনের এমন কোন অংগন নেই যেখানে তার মাধ্যমে সর্বোত্তম আদর্শ স’াপিত হয়নি।
মহাকাল স্বাক্ষী একমাত্র হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ব্যতীত এমন কোন সত্তাকে পৃথিবীতে দেখিনি সারা জীবন স্রোতের প্রতিটি বিন্দু সমগ্র জগতবাসীর জন্য বয়ে আনে রাশি-রাশি কল্যানের বারিধারা। এ প্রসঙ্গে প্রখ্যাত আলেম সাইয়্যেদ সুলায়মান নদবী বলেন, “যদি তুমি বিত্তবান হও তাহলে তোমার জন্য উত্তম আদর্শ মক্কার সওদাগর ও বাহরাইন ধনাগারের অধিপতি মুহাম্মদ (সাঃ) যদি তুমি হও রাষ্ট্র নায়ক তাহলে তোমার অনুসরনীয় আদর্শ সুলতানে আরবের অনাড়ম্বর জীবন। যদি তুমি একজন নাগরীক হও তাহলে কুরাইশদের অনুকরনের আদর্শ তোমাকে প্রেরনা যোগাবে। যদি তুমি যুদ্ধজয়ী সেনাপতি হও তাহলে ওহুদের ময়দানে রক্তাক্ত মোহাম্মদ (সাঃ) তোমার আদর্শ। যদি তুমি একজন শিক্ষক হও তাহলে মক্কার শ্রেণী কক্ষের থেকে সার্থক মুয়াল্লিম থেকে খুঁজে নাও তোমার আদর্শ। তুমি যদি একজন শিক্ষার্থী হও তাহলে হেরা গুহায় ধ্যানে মগ্ন ওহি প্রত্যাশি ব্যক্তিটির অবস’া থেকে আদর্শ খঁজে নেও। যদি তুমি বাধা হয়ে নিঃসঙ্গ অবস’ায় হকের বানী প্রচার করতে চাও তাহলে মক্কার অনাহার ক্লিষ্ট সাথী সম্বল হীন দাঈ নবী মুহাম্মদ তোমার আদর্শ। যদি তুমি শত্রুকে পরাজিত করে বিজয়ীর বেশে বিজিতা বলে প্রবেশকারী হও তাহলে মক্কা বিজয়ের অপূর্ব দৃশ্যই হবে তোমার আদর্শ তুমি যদি পিতৃহীন এতিম হও তাহলে আমিনার নয়নমনি বালক মুহাম্মদের সীরাত তোমাকে পথ দেখাবে। যদি তুমি স্বামী হও তাহলে খাদীজা ও আয়েশার আদর্শ স্বামী থেকে উদাহরণ খুঁজে নেবে। মোট কথা জীবন চলার পথে প্রতিটি বাঁকে পাবে তুমি নবী জীবনের উসওয়াতুন হাসানাই উত্তম আদর্শ।
মোট কথা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আল্লাইহি ও সাল্লাম সত্যিই একজন অপূর্ব সৃষ্টি আল্লাহ তাকে নিখিল বিশ্বের জন্য পরিপূর্ন আদর্শ রূপে দাঁড় করেছেন। অবশ্যই কোরআন শরীফে মানুষের প্রয়োজনীয় সমস- কিছুই পাওয়া যায়। কিন’ তা ভাবজগতে। বস-গতভাবে নয়। কিন’ হযরত মুহাম্মদ মোস-ফা (সাঃ) হয়েছেন তাঁর বাস-ব আদর্শ । রাসায়নিক যেমন শিক্ষার্থীদিগকে তাঁর কর্তব্য বলে অবশেষে হাতে কলমে ও দেখিয়েছেন। হযরত নবী মুহাম্মাদকে সঃ দিয়ে আল্লাহ ঠিক তাহা করিয়েছেন। আল্লাহ যাহা কোরানে বলিয়াছেন হযরতের জীবনের মধ্যে তাঁর বাস-ব রূপও দেখিয়েছেন। যাতে বিশ্ব বাসী তাঁর থেকে আদর্শ নিতে পারে। আল্লাহ পাকে আমাদেকে তাঁর আদর্শ গ্রহণ করার তৌফিক দান করুক এবং তাঁর পথে চলার জন্য আমরা যেন সদা চেষ্টা করি। আমীন।

 

2 responses to this post.

  1. Posted by মোহাম্মদ লোকমান on February 9, 2011 at 4:27 pm

    খুব ভাল লাগলো।

    Reply

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: