যাকাত: ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ

Permission taken from Source :  http://prothom-aloblog.com/users/base/muslima/

যেকোন বিচার বুদ্ধি সম্পন্ন সভ্য সমাজেই উদারতা এবং নিজ অবস্থার ব্যাপারে সন্তুষ্ট থাকাকে অত্যন্ত মহৎ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু একটা বিষয় লক্ষ্যনীয়, যদি সবাইকে সমান সম্পদ দেয়া হয়, তবে মানুষের মাঝে এ চারিত্রিক গুণগুলো গড়ে উঠতে পারে না। উদারতা কেবল তখনই গড়ে উঠতে পারে যখন অন্তরে প্রাচু্য্যের বাসনা থাকা সত্ত্বেও একজন মানুষ দরিদ্রকে সাহায্য করার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে; তার অন্তরে সম্পদ আহরোণ করার যে কামনা রয়েছে, তার সাথে যুদ্ধ করে। পাশাপাশি, নিজের যতটুকু রয়েছে, তাতে সন্তুষ্টি আসতে পারে তখনই যখন মানুষ হিংসা ও লোভকে পরাভূত করে। স্রষ্টা পৃথিবীতে মানুষের জন্য এই আত্মিক সংগ্রামের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছেন সম্পদের অসম বন্টনের মাধ্যমে। কুরআনে আল্লাহ তা’আলা বলেন: “আল্লাহ তোমাদের মাঝে কতককে রিযিকের ব্যাপারে কতকের ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন।” (সূরা আন নাহল, ১৬:৭১)

একজনের উপরে আরেকজনের এই যে আর্থিক প্রাধান্য এর পিছনে রয়েছে মহান আল্লাহর এক বিজ্ঞ পরিকল্পনা। সরল ভাষায় ব্যাপারটা অনেকটা এরকম, আল্লাহ ওহীর মাধ্যমে মুমিনদেরকে জানিয়ে দিচ্ছেন যে সম্পদ হচ্ছে মানুষকে দেয়া একপ্রকার আমানত। মানুষ পৃথিবীতে আগমনের পূর্বে এবং পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ার পর সম্পদ এই পৃথিবীতেই থেকে যায়। এই মধ্যবর্তী সময়টুকুকে যারা তাদের সম্পদ আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী ব্যয় করে তারা ইহজীবন ও পরজীবনে উপকৃত হয়। কিন্তু এই সম্পদ ব্যয় করতে যদি কার্পণ্য করা হয়, তবে তা মানুষের পার্থিব জীবনকে অভিশপ্ত করে তোলে, এবং পরকালে কঠিন শাস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সূরা আনফালে আল্লাহ মুমিনদেরকে সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি সম্পর্কে সতর্ক করছেন: “আর জেনে রাখ, তোমাদের সম্পদ এবং সন্তান-সন্ততি তোমাদের জন্য পরীক্ষা বৈ নয়, আর নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট রয়েছে মহা পুরস্কার (যারা এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে তাদের জন্য)।” (সূরা আল আনফাল, ৮ : ২৮)

এ পৃথিবীতে মানুষের সম্পদের আহরণের বাসনা কখনই পুর্ণ হওয়া সম্ভব নয়, মানুষ যতই অর্জন করে, ততই সে কামনা করে। এ প্রসঙ্গে রাসূল (সাঃ) বলেছেন: “যদি আদম সন্তানকে স্বর্ণের একটি উপত্যকা দেয়া হয়, সে আরেকটি চাইবে। শুধুমাত্র যে জিনিসটি তার মুখ পূর্ণ করতে পারবে, তা হল তার কবরের মাটি।” এই ধ্বংসাত্মক কামনাকে নিয়ন্ত্রণ করার একমাত্র উপায় হচ্ছে সম্পদ থেকে সাদকা করা। তাই আল্লাহ নবীদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন সমাজের ধনীদের থেকে সম্পদ গ্রহণ করে তা দরিদ্রদেরকে দেয়ার জন্য: “তাদের সম্পদ থেকে সাদকা গ্রহণ করুন যেন তারা পবিত্র হয় এবং আত্মিক সমৃদ্ধি লাভ করে।” (সূরা আত তাওবা, ৯ : ১০৩)

ইসলাম প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই সম্পদশালীদের ওপর সম্পদের একাংশ দান করে দেয়ার বিধান বাধ্যতামূলক করা হয়, যা যাকাত হিসেবে পরিচিত। বাড়তি সম্পদের অধিকারী প্রত্যেক মুমিন বাৎসরিক একটা নির্দিষ্ট হারে এটা আদায় করতে বাধ্য। ইসলামে যাকাত না দেয়া একটি বড় পাপ। যাকাত দেয়ার মধ্য দিয়ে একজন মুমিনের এই উপলব্ধি আসে যে তার সম্পদ তার ইচ্ছামত ব্যবহারের জন্য নয়, বরং তারা কেবল এর সাময়িক জিম্মাদার এবং এর মধ্যে দরিদ্রেরও অংশ আছে। এজন্য প্রকৃত মুমিন আল্লাহ তাদেরকেই বলেছেন যারা তাদের সম্পদের একাংশে অভাবীর অধিকারকে স্বীকার করে। “এবং তাদের সম্পদে রয়েছে প্রার্থী ও বঞ্চিতদের অধিকার।” (সূরা আয যারিয়াত, ৫১ : ১৯) কিন্তু এই দান হতে হবে একান্তভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, লোক দেখানো কিংবা অন্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য নয়। জাগতিক স্বার্থে দান করা হলে আল্লাহর নিকট এর কোন প্রতিদান পাওয়া যাবে না। আল্লাহ বলেন: “হে ঈমানদারগণ, তোমরা অনুগ্রহের কথা প্রকাশ করে এবং কষ্ট দিয়ে নিজেদের দান খয়রাত বরবাদ করো না সে ব্যক্তির মত যে নিজের ধন-সম্পদ লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে ব্যয় করে এবং আল্লাহ্ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে না।” (সূরা আল বাক্বারাহ, ২ : ২৬৪)

যাকাতের প্রাথমিক শিক্ষা হচ্ছে উদারতা। যদিও তা বছরে মাত্র একবার দিতে হয়, তা সত্ত্বেও এর লক্ষ্য হচ্ছে মানব চরিত্রে উদারতার জন্ম দেয়া, যেন তার ব্যয় করার প্রবণতা বাধ্যতামূলক দান থেকে স্বেচ্ছমূলক দানে পরিব্যপ্ত হয়। তাই যাকাতের মাধ্যমে অর্জিত চেতনা সারা বছরই একজনের মুসলিমের চরিত্রে পরিলক্ষিত হওয়া উচিৎ।

 

One response to this post.

  1. Posted by হাসান মাহমুদ রিয়াদ on August 31, 2010 at 12:14 pm

    আলহামদুলিল্লাহ,
    আল্লাহ তায়ালা আমদের সবাই কে যাকাত দেওয়ার তৌফিক দান করুন।
    আমিন

    Reply

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: