মাহে রমজান উপলক্ষ্যে .. .. পাঁচ

Permission taken from Source  http://prothom-aloblog.com/users/base/tasnima/

And whatsoever the messenger giveth you, take it. And whatsoever he forbiddeth, abstain (from it). And keep your duty to Allah. Lo! Allah is stern in reprisal. – Al Hashr : 7

সুরা হাশরের ৭ নম্বর আয়াতের মত আরো অনেক আয়াতে আল্লাহসুবহানাহুতাআলা মানবজাতি ও জ্বীনকে সত্য ও ন্যায়ের পথ যা আল্লাহ তাঁর প্রিয় নবী (সা) এর দ্বারা আমাদের প্রর্দশন করেছেন, তার উপর থাকতে আদেশ করেছেন, নিষেধ করেছেন এরূপ পথ থেকে বিচ্যুত হতে। এর কারণও আল্লাহসুবহানাহুতাআলা র্বণনা করেছেন আলোচ্য আয়াতে- তিনি কঠোর হিসাবগ্রহণকারী। ইহজীবনে আমরা যে যা কাজ করব, তার জন্য আল্লাহতাআলার নিকট জবাবদিহি করতে হবে মৃত্যুপরর্বতী জীবনে হাশরের মাঠে উপস্থিত হয়ে।

কেন এই জবাবদিহিতা? কারণ আল্লাহতাআলা আসমান জমিন ও এতদুভয়ের মধ্যকার সমস্ত কিছুর মালিক, একক ও অদ্বিতীয় সৃষ্টির্কতা। শুধু তা-ই নয়, তিনি এসমস্তকিছুর পালনর্কতাও।

সামনে ঈদের ছুটি। ঈদ উপলক্ষে বাড়ি খালি করে গ্রামে যাবার সময় অনেকেই পরিচিত কাউকে বাড়ির দেখাশোনার দায়িত্বে রেখে যাবেন। ফিরে এসে সামান্য হেরফের দেখলেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠবেন। দুনিয়াতে আমরা কারো কাছে আমানত রাখলে আশা করি যে, আমানতদার ব্যক্তি উক্ত আমানতের যথাসম্ভব যত্ন নেবে, খেয়াল রাখবে। এতটুকু গাফিলতি হলে আমরা আমানতদার ব্যক্তির উপর রাগান্বিত হই। অথচ দুনিয়ার সম্পত্তি আমাদের নিজস্ব নয়। সবই আল্লাহর দান যা তিনি কৃপাভরে আমাদের দিয়েছেন – আমাদের ইহজীবনকে সহজ আরামদায়ক করে দেয়ার জন্য। বিনিময়ে আল্লাহসুবহানাহুতাআলা চান – তাঁর বান্দা তাঁর প্রদত্ত অসংখ্য নেয়ামতের শোকরানা আদায় করবে, একমাত্র তাঁরই ইবাদত করবে। যখন তাঁর বান্দা তাঁর এ আদেশ পালনে অস্বীকার করে তখনই আল্লাহসুবহানাহুতাআলা নারাজ হন। দুনিয়াতে হয়তবা বান্দাকে আরামে থাকার সুযোগ দেন যাতে সে যে কোন সময় নিজের অকৃতজ্ঞতার জন্য মাফ চেয়ে একাগ্রচিত্তে ইবাদতে মশগুল হতে পারে। আর যারা এ সুযোগও কাজে লাগাতে র্ব্যথ হয়, ইহজীবনে তাঁর নেয়ামতের শোকরানা আদায় করে না, তাদের জন্য তিনি র্নিধারণ করে রেখেছেন পরকালের কঠোর শাস্তি। এর উল্লেখ রয়েছে নিম্মর্বণিত আয়াতসমূহে-
সুরা মুলক-৬ : যারা তাদের পালনর্কতাকে অস্বীকার করেছে তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি।
সুরা নিসা-৫৬ : এতে সন্দেহ নেই যে, আমার র্নিদশনসমূহের প্রতি যেসব লোক অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করবে, আমি তাদেরকে আগুনে নিক্ষেপ করব। তাদের চামড়া জ্বলে-পুড়ে যাবে, তখন আবার আমি তা পাল্টে দেব অন্য চামড়া দিয়ে, যাতে তারা আযাব আস্বাদন করতে থাকে।
সুরা কাহফ্ -২৯ : বলুন : ‘সত্য তোমাদের পালনর্কতার পক্ষ থেকে আগত। অতএব, যার ইচ্ছা, বিশ্বাস স্থাপন করুক এবং যার ইচ্ছা অমান্য করুক।’ আমি জালেমদের জন্য অগ্নি প্রস্তুত করে রেখেছি, যার বেষ্টনী তাদেরকে পরিবেষ্টন করে থাকবে। যদি তারা পানীয় র্প্রাথনা করে, তবে পুঁজের ন্যায় পানীয় দেয়া হবে যা তাদে মুখমন্ডল দগ্ধ করবে। কত নিকৃষ্ট পানীয় এবং খুবই মন্দ আশ্রয়।

উক্ত আয়াতে আল্লাহতাআলা স্বয়ং পুঁজমিশ্রিত পানীয় আর জাহান্নামকে নিকৃষ্ট আর মন্দ বলে আখ্যায়িত করেছেন। অর্থাৎ তিনি নিজেও নিজের বান্দার জন্য এরূপ পানীয় আর বাসস্থান পছন্দ করেন না। এমতাবস্থায় তা আমাদের নিকট কিভাবে পছন্দনীয় হতে পারে? অথচ আমরা জেনে-না জেনে নিজেদের জন্য তা-ই পছন্দ করছি। পরকালের জন্য – যেখানে সময়ের কোন হিসাব থাকবে না, সে জীবনের জন্য মন্দটাই জমা করছি। আল্লাহ আমাদের মন্দটা পরিত্যাগ করে উত্তমটা গ্রহণের তৌফিক দিন। আমিন।

এছাড়াও আরো আয়াতে জাহান্নামের উল্লেখ রয়েছে। যেমন সুরা বাক্কারাহ্ এর আয়াত ২৪, সুরা আল-ইমরান-এর আয়াত ১২, ১৫১, ১৮৮, ১৯১, ১৯৭, সুরা আল-আনাম এর আয়াত ১২৯, সুরা আস-সাফফাতের আয়াত ৫৭-৬৮, সুরা ত্বা-হা-এর আয়াত ৭৪, সুরা হাশরের আয়াত ৩, ৪, সুরা আল-লায়লের আয়াত ১৪, ১৫, ১৬, ও আরো অনেক আয়াত। কোরআনে জাহান্নাম সর্ম্পকে র্সতক করে দিয়ে আল্লাহসুবহানাহুতাআলা ১৫০টিরও বেশি আয়াত নাযিল করেছেন। কেন এত র্সতকবাণী? তার কারণ জানা যায় জাহান্নামবাসীদের আবাসস্থল, পোশাক, তাদের আর্হায, পানীয়, তাদের অবস্থানকাল – সমস্তকিছুর র্বণনা দিয়ে আল্লাহপাক পবিত্র কোরআনের যে আয়াতসমূহ নাযিল করেছেন তা থেকে।

সুরা হিজর-৪৪ : এর সাতটি দরজা আছে। প্রত্যেক দরজার জন্য এক-একটি পৃথক দল আছে।
সুরা মুলক-৭ : যখন তারা তথায় নিক্ষিপ্ত হবে, তখন তার উৎক্ষিপ্ত গর্জন শুনতে পাবে।
সুরা ইবরাহিম-১৬ : তার পেছনে দোযখ রয়েছে । তাতে পুঁজ মিশানো পানি পান করানো হবে।
সুরা ইবরাহিম-১৭ : ঢোক গিলে তা পান করবে এবং গলার ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে না। প্রতি দিক থেকে তার কাছে মৃত্যু আগমন করবে এবং সে মরবে না। তার পশ্চাতেও রয়েছে কঠোর আযাব।
সুরা যুখরুফ-৭৭ : তারা ডেকে বলবে, হে মালেক, পালনর্কতা , আমাদের কিসসাই শেষ করে দিন। সে বলবে, নিশ্চয় তোমরা চিরকাল থাকবে।
সুরা হাজ্জ-১৯ : অতএব যারা কাফের তাদের জন্য আগুনের পোশাক তৈরি করা হয়েছে। তাদের মাথার উপর ফুটন্ত পানি ঢেলে দেয়া হবে।
সুরা হাজ্জ-২০ : ফলে তাদের পেটে যা আছে, তা এবং র্চম গলে বের হয়ে যাবে।
সুরা হাজ্জ-২১ : তাদের জন্য আছে লোহার হাতুড়ি।
সুরা হাজ্জ-২২ : তারা যখনই যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে, তখনই তাদেরকে তাতে ফিরিয়ে দেয়া হবে। বলা হবে: দহনশাস্তি আস্বাদন কর।

আল্লাহসুবহানাহুতাআলা তাঁর বান্দাকে কখনোই নিরাশ করতে চাননি। প্রায় সকল আয়াত যেখানে আল্লাহসুবহানাহুতাআলা মানবজাতি ও জ্জ্বিনজাতিকে জাহান্নামের আগুনের ভীতি প্রর্দশন করেছেন, তার আগে অথবা পরপরই তিনি জান্নাতের আরাম-আয়েশের র্বণনা দিয়ে, তাদের সৎর্কমের জন্য উত্তম প্রতিদানের সুসংবাদ দিয়ে আয়াত উল্লেখ করেছেন যা র্নিধারিত রয়েছে আল্লাহর নেক পরহেযগার বান্দাদের জন্য। সুরা বাক্কারাহ্ এর আয়াত ২৫, সুরা আল-ইমরান-এর আয়াত ১৫, ১৪৮, ১৯৮, সুরা আল-আনাম এর আয়াত ১২৭, ১২৮, সুরা আস-সাফফাতের আয়াত ৭৪, ৮০, সুরা ত্বা-হা এর আয়াত ৭৫, ৭৬, সুরা হাশরের আয়াত ২০, সুরা হিজরের আয়াত ৪৫, সুরা হিজরের আয়াত ৪৫, সুরা ইবরাহিম এর আয়াত ২৩, সুরা হাজ্জ এর আয়াত ২৩, ২৪ ইত্যাদি। এতে মানুষ যেমন জাহান্নামের প্রতি ঘৃণাবোধ করবে, তেমনি জান্নাতে প্রবেশের প্রতি উৎসাহিত বোধ করবে, আগ্রহী হয়ে উঠবে সেসকল কাজের প্রতি যা মানুষকে জান্নাতের পথে পরিচালিত করে আর জাহান্নামের আঁচ হতে দূরে রাখে।

পবিত্র রমজান মাস আল্লাহর নিকট মাফ চাওয়ার, দোযখের শাস্তি থেকে পরিত্রাণ লাভের, তাঁর বরকত রহমত দু’হাত ভরে গ্রহণ করার জন্য আর্দশ সময়। আজ সম্ভাব্য শবে-ক্কদরের রাতে আমরা যাতে কোরআনের ভীতি প্রর্দশনমূলক আয়াতগুলি স্মরণ করে আল্লাহসুবহানাহুতাআলার নিকট মাফ চাওয়ার, দোয়া কবুল করানোর এমন সুর্বণ সুযোগ হেলায় না হারাই। কারণ আল্লাহতাআলা স্বয়ং বলেছেন সুরা ক্কদরে –
৩) শবে ক্কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।
৪) এতে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেশতাগণ ও রূহ অবর্তীণ হয় তাদের পালনর্কতার র্নিদেশক্রমে।
৫) এটা নিরাপত্তা যা ফজরের উদয় র্পযন্ত অব্যাহত থাকে।

তাই আমরা যেন এ বরকতময় রাতটি হেলায় নষ্ট না করি আর আখেরাতের জন্য পাথেয় সংগ্রহ করি।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: