মাহে রমজান উপলক্ষ্যে .. .. চার

পবিত্র মাহে রমজান শেষের পথে। উত্তম বাসস্থান জান্নাতের দ্বার খুলে দেয়ার আর নিকৃষ্ট বাসস্থান জাহান্নামের দরজা বন্ধ রাখার এ মাস – আল্লাহকে বেশি বেশি করে করজ দিয়ে আল্লাহর নিকট থেকে উত্তম হতে উত্তমতর প্রতিদান গ্রহণ করার শ্রেষ্ঠ সময়। কারণ এ মাসে যে কোন ইবাদতের সওয়াব ৭০ থেকে ৭০০ গুণ র্পযন্ত বৃদ্ধি করে দেয়া হয়।

এর উল্লেখ রয়েছে সুরা বাক্কারাহ , আয়াত ২৪৫ -এ : “এমন কে আছে যে আল্লাহকে করজ দেবে উত্তম করজ; অত:পর আল্লাহ তাকে দ্বিগুণ-বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেবেন। আল্লাহই সংকোচিত করেন এবং তিনিই প্রশস্ততা দান করেন এবং তাঁরই নিকট তোমরা সবাই ফিরে যাবে।”

এ আয়াতে করজ বা ঋণ অর্থ নেক আমল ও আল্লাহর পথে ব্যয় করা। এখানে করজ বা ঋণ রূপক অর্থে বলা হয়েছে। অন্যথায় সবকিছুর মালিকই ত আল্লাহসুবহানাহুতাআলা। এর উদ্দেশ্য এই যে, যেভাবে ঋণ পরিশোধ করা ওয়াজিব, এমনিভাবে ওমাদের সদ্ব্যয়ের প্রতিদান অবশ্যই দেয়া হবে।

বৃদ্ধি করা প্রসঙ্গে একটি হাদীস এসেছে যে, আল্লাহর পথে একটি খেজুর দানা ব্যয় করলে, আল্লাহ তাআলা একে এমনভাবে বৃদ্ধি করে দেবেন যে, তা পরিমাণে ওহুদ পাহাড়ের চেয়েও বেশী হবে।

আল্লাহকে ঋণ দেয়ার এ অর্থও বলা হয়েছে যে, তাঁর বান্দাদেরকে ঋণ দেয়া ও তাদের অভাব পূরণ করা। তাই হাদীসে অভাবীদেরকে ঋণ দেয়ার অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। রসূল (সা) এরশাদ করেছেন , “ কোন একজন মুসলমান অন্য মুসলমানকে একবার ঋণ দিলে এ বৃণদান আল্লাহর পথে সে পরিমাণ সম্পদ দু’বার সদকা করার সমতুল্য।”

ইবনে আরাবী (রহ) বলেন, এ আয়াত শুনে মানুষের মধ্যে তিন ধরনের প্রতিক্রিয়া হয়েছিল। তনম্ধ্যে একদল র্দুভাগা বলাবলি করত যে, মুহাম্মদের রব বড়ই অভাবী এবং আমাদের মুখাপেক্ষী হয়ে পড়েছে আর আমরা অভাবমুক্ত।
নাআউযুবিল্লাহ। হে আল্লাহ, আমাদের এমন র্দুভাগাদের অর্ন্তভুক্ত করেন না। আমিন।

দ্বিতীয় দল হচ্ছে সে সকল লোকের যারা এ আয়াত শুনে এর বিরুদ্ধাচরণ ও র্কাপণ্য অবলম্বন করেছে। ধন-সম্পদের লোভ তাদেরকে এমনভাবে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে যে, আল্লাহর পথে ব্যয় করার তৌফিক তাদের হয়নি।
আল্লাহ আমাদের দ্বিতীয় দলভুক্তও না করুন।

তৃতীয় দল হচ্ছে সেসব নিষ্ঠাবান মুসলমানদের, য়াঁরা এ ঘোষণা শোনার সাথেসাথেই সাড়া দিয়েছিলেন এবং নিজেদের পছন্দ করা সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করেছিলেন। যেমন আবুদ দারদাহ্ রাসূল (স্) এর খেদমতে উপস্থিত হলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল (সা) ! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎর্সগ হোক! আল্লাহতাআলা কি আমাদের নিকট ঋণ চাচ্ছেন? তাঁর ত ঋণের প্রয়োজন নেই। আল্লাহর রাসূল (সা) উত্তর দিলেন যে, আল্লাহতাআলা এর বদলে তোমাদিগকে বেহেশতে প্রবেশ করাতে চাচ্ছেন। আবুদ দারদাহ্ একথা শুনে বললেন – হে আল্লাহর রাসূল (সা), হাত বাড়ান। তিনি হাত বাড়ালেন। আবুদ দারদাহ বলতে লাগলেন- ‘আমি আমার দু’টি বাগানই আল্লাহকে ঋণ দিলাম।’ রাসূল (সা) বললেন, একটি আল্লাহর রাস্তায় ওয়াকফ্ করে দাও এবং অন্যটি নিজের পরিবারের ভরণ-পোষণের জন্য রেখে দাও। আবুদ্ দারদাহ বললেন যে, আপনি সাক্ষী থাকুন- এ দু’টি বাগানের মধ্যে যেটি উত্তম- যাতে খেজুরের ছয়শ ফলন্ত বৃক্ষ রয়েছে, সেটা আমি আল্লাহর রাস্তায় ওয়াকফ্ করলাম। আল্লাহর রাসূল (সা) বললেন,এর বদলে আল্লাহ তোমাকে বেহেশত দান করবেন।

আবুদ্ দারদাহ বাড়ী ফিরে বিষয়টি স্ত্রীকে জানালেন। স্ত্রীও তাঁর এ সৎর্কমের কথা শুনে অত্যন্ত খুশি হলেন। রাসূল (সা) এরশাদ করেছেন, ‘ খেজুরে পরির্পূণ অসংখ্য বৃক্ষ এবং প্রশস্ত অট্টালিকা আবুদ্ দারদাহর জন্য তৈরি হয়েছে।’
ঋণ দেয়ার বেলায় তা ফেরত দেয়ার সময় যদি কিছু অতিরিক্ত দেয়ার র্শত করা না থাকে এবং নিজের পক্ষ থেকে কিছু বেশি দিয়ে দেয়া হয়, তবে তা গ্রহণযোগ্য। রাসূল (সা) এরশাদ করেছেন, ‘ তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তিই উত্তম, যে তার (ঋণের) হককে উত্তমরূপে পরিশোধ করে।’
তবে যদি অতিরিক্ত দেয়ার র্শত করা হয়, তাহলে তা সুদ ও হারাম হিসেবে গণ্য হবে।

আবু হোরায়রা (রা) র্কতৃক র্বণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (সা) বলেছেন, বান্দা বলে, আমার সম্পত্তি, আমার সম্পত্তি, অথচ তার সম্পত্তির মধ্যে থেকে কেবলমাত্র তিনটি জিনিস তার নিজের : যা কিছু সে খায় এবং ব্যবহার করে অথবা যা কিছু সে পরিধান করে এবং সেটা ক্ষয়প্রাপ্ত হয় অথবা যা কিছু সে দান হিসেবে দেয় আর এটাই হচ্ছে তা যা সে নিজের জন্য সঞ্চয় করে (পরকালের জন্য পুরস্কার হিসেবে) আর এছাড়া যত কিছূ আছে ( তার কোনকিছুই তোমাদের কাজে লাগবে না ) কারণ তোমাদের প্রস্থান করতে হবে আর বাকি সবকিছু অন্যদের জন্য রেখে যেতে হবে। এ হাদিসটি আল-আলাব আবদ আল-রাহমান র্কতৃক একই সূত্র হতে র্বণিত হয়েছে। (সহীহ মুসলিম- ৭০৬৩)

আল্লাহ আমাদের সকলকে নবীজী এবং সাহাবায়ে কেরামের মত করে দুনিয়ার ধন-সম্পত্তির লোভ অতিক্রম করে পরকালে আল্লাহর আরশের ছায়া আর তাঁর রাসূল (সা) এর সুপারিশ পাবার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের তৌফিক দিন। আমিন।

Permission taken from Source http://prothom-aloblog.com/users/base/tasnima/

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: