ধৈর্যশীলতা হচ্ছে সফলতার সোপান

Permission taken from Source     http://islamicbanglabd.blogspot.com/

আরবি ’সবর’ শব্দটি বাংলায় ধৈর্য ও সহনশীলতা অর্থে ব্যবহৃত হয়। আভিধানিক অর্থে ’সবর’ হলো-বিরত রাখা বা সংযত রাখা। অর্থাৎ স্বীয় নফসকে অধীরতা ও ভীতিপ্রদ অবস্থা থেকে বিরত রেখে স্বস্থানে বহাল রাখা এবং সুদৃঢ় রাখা।আল-কোরআনে বহু স্থানে এ শব্দটি এসেছে এবং মুমিনদেরকে এ গুণটি সঞ্চয় করে জীবনের সমস্যা-সংকুল সুবিশাল পথ পাড়ি দিতে বলা হয়েছে।

নামাজ পড়তে গেলে সময় দিয়ে ধৈর্য ধরতে হবে। রোজার ক্ষেত্রেও তাই। সেখানে ক্ষুধার যন্ত্রণা এবং নিষিদ্ধ কামনা-বাসনা থেকে বিরত থাকতে হবে। হজ্জ করতে গেলেও ধৈর্য আবশ্যক। সেখানে সময় এবং অর্থ দুটোই দিতে হবে। যাকাত দিতে গেলেও ধৈর্যের পরীক্ষা রয়েছে। সেখানে সম্পদ ব্যয় করতে হবে। অনুরূপভাবে প্রতিটি ইবাদতেই ধৈর্যের প্রয়োজন রয়েছে। জাগতিক ক্ষেত্রেও যদি হালাল রিযিক উপার্জন করতে হয় তাতেও ধৈর্য আবশ্যক। সৎভাবে চলাটা কঠিন কাজ। কিন্তু যারা সহনশীলতাকে জীবনের সঙ্গী করে নিয়েছেন তারাই সফলকাম হয়েছেন।

আল্লাহ বলেন ”যারা এমন যে, যখন আল্লাহর বিধান উল্লেখ করা হয়, তখন তাদের অন্তর ভীতিপূর্ণ হয় আর যারা নিজেদের উপর আপতিত মুসিবতে ধৈর্যধারণ করে এবং যারা নামাজের পাবন্দী করে এবং যা কিছু আমি দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে।” (সূরা হজ্জ, আয়াতঃ ৩৫এৈর পূর্বের আয়াতে এই সমস্ত গুণসম্পন্ন ব্যক্তিদের সাফল্যের শুভ সংবাদ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া আল্লাহপাক পবিত্র কোরআনে সূরা যুমারের ১০ নং আয়াতে বলেছেন “দৃঢ়পদ ধৈর্যশীল লোকগণ অগণিত পুরস্কার লাভ করবে।”

হাদীস শরীফে উলেস্নখ করা হয়েছে ”সহনশীলতা উত্তম মর্যাদার অধিকারী; আর সহিংসতা অপেক্ষা সহনশীলতা শ্রেষ্ঠ।”

মহানবী সা সারাজীবন ধৈর্যধারণ করেছেন। ৬৩ বছরের জীবনে কখনো তাঁর ধৈর্যচ্যুতি ঘটেনি। এজন্যই তিনি বিশ্বময় ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে সড়্গম হয়েছিলেন।

সবরের প্রথম তাৎপর্য হলো- যথার্থ সময়ের প্রতীক্ষা করা। সকল দুঃখ, কষ্ট, বেদনা ও প্রতিকূল অবস্থায় ধৈর্যের সাথে লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সাধনে সুদৃঢ় থাকা। যত বাধা-বিপত্তি আসুক না কেন আস্থার সাথে কাজ করে যাওয়া। যথা সময়ে সাফল্য আসবেই। আল্লাহ বলেন- ”আর তুমি দৃঢ়পদে প্রতীক্ষf করতে থাক এ পর্যন্ত যে, আল্লাহপাক ফায়সালা করে দেবেন। কেননা তিনিই উত্তম ফায়সালাকারী।” (সূরা ইউনুস, আয়াতঃ ১০৯)

সবরের দ্বিতীয় তাৎপর্য হলো- বিপদের সময় অস্থির না হওয়া; বরং এর মধ্যে কোনো কল্যাণ আছে বলে সানন্দে বরণ করে নেয়া। একই সাথে এই বিশ্বাসও করা যে, যখন সময় আসবে তখন আল্লাহ তা স্বীয় রহমতে বিদূরিত করবেন। বিপদের সময় ধৈর্যহারা না হয়ে বরং দোয়া করাই উচিত। কেননা ধৈর্য এবং দোয়া এ দুটোই পারে বান্দাকে বিপদ থেকে মুক্তি দিতে। আল্লাহপাক বলেন “আর অবশ্যই আমি তোমাদেরকে ভয়, ক্ষুধা, সম্পদহানি, স্বাস্থ্যহানি, ফল ও ফসলহানির মাধ্যমে পরীক্ষা করব। তবে সুসংবাদ রয়েছে ধৈর্যশীলদের জন্য- যারা মুসিবতে নিপতিত হবে বলে অবশ্যই আমরা আল্লাহর জন্য এবং অবশ্যই আমরা তাঁরই কাছে ফিরে যাবো। তাদের জন্য রয়েছে তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অফুরন্ত অনুগ্রহ ও শান্তি এবং তারাই সঠিক পথপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত।”(সূরা বাকারা, আয়াতঃ ১৫৫-১৫৭)

 

সবরের তৃতীয় বিশেষত্ব হলো কাংক্ষিত লক্ষে পৌঁছার জন্য যে সকল বিপদ ও সংকট আপতিত হবে বা যে সকল প্রতিবন্ধকতা আসবে তার দ্বারা যেন অন্তরে দুর্বলতা ও ভয়-ভীতির সঞ্চার না হয়ঃ বরং এর মধ্যে যেন দৃঢ়তা ও অবিচল থাকার ভাব ফুটে ওঠে। আল্লাহপাক বলেন- ”নামাজ কায়েম কর, সৎকাজের আদেশ দাও, মন্দকাজের নিষেধ কর এবং বিপদাপদে সবর কর। নিশ্চয় এটা সাহসিকতার কাজ।” (সূরা লুকমান, আয়াতঃ ১৭)

 

সবরের চতুর্থ বিশেষত্ব হলো- শত্রুর কষ্টদায়ক পদচারণার প্রতি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে তাকানো।

তার দুর্ব্যবহারের প্রতিশোধ না নিয়ে বরং তাকে ক্ষমা করলে সে পরবর্তীতে ভালো আচরণ করার সুযোগ পাবে। আল্লাহপাক রাসুলুল্লাহ সা  কে উদ্দেশ্য করে বলেন- “যদি আপনি শাস্তির পথ গ্রহণ করেন তাহলে তদনুরূপ শাস্তির পথ তারাও গ্রহণ করবে, আর যদি আপনি ধৈর্যধারণ করেন তাহলে তা ধৈর্যশীলদের উপকারে লাগবে। তাই আপনার উচিত তাদের কথিত বাক্যাবলী ও আচরণের উপর ধৈর্যধারণ করা, আপনার ধৈর্য আল্লাহর সাহায্যেই বাস্তবায়িত হবে। তাদের কাজে চিন্তান্বিত হবেন না, এমনকি তাদের ষড়যন্ত্রের জন্য বিষন্নও হবেন না।” (সূরা নাহল, আয়াতঃ ১২৬-১২৭)

পৃথিবীতে সুখ ও দুঃখ হচ্ছে আপেক্ষিক বিষয়। বৃহৎ কিছু পাবার পর মানুষ আনন্দে আত্মহারা হতে পারে আবার কিছু হারানোর বেদনায় সে অস্থিরও হতে পারে। এই উভয় অবস্থায় ধৈর্য ও সহনশীলতার সাথে কাজ করা খুবই কঠিন। কিন্তু আত্মসংযমের এটাই আসল সময়। তাই আনন্দ ও বেদনা জীবনে যা-ই আসুক না কেন নিজেকে স্থির রেখে সকলের সাথে শান্তিপূর্ণ ব্যবহার করতে হবে। সহনশীলতার মহৎ গুণ অর্জন করে সর্বড়্গেত্রে নিজেকে বিজয়ী করাই মুমিনের মূল লক্ষ্য।

মীযানুর রহমান রায়হান

মুল লেখা থেকে কিছুটা সংক্ষিপ্তকারে

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: