মাহে রমজান উপলক্ষ্যে .. .. তিন

Permission taken from Source  http://prothom-aloblog.com/users/base/tasnima/

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা) র্কতৃক র্বণিত, হযরত নবী করীম (সা) বলেছেন, এক মুসলমান অপর মুসলমানের ভাই। সে নিজে কারো উপর জুলুম করবে না এবং জুলুমের জন্য কাউকে অপরের হাতে সোর্পদও করবে না। যে কেউ তার ভাইয়ের অভাব পূরণ করবে, আল্লাহ তার অভাব পূরণে থাকবেন। যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোন মুসলমানের বিপদ দূর করবে, আল্লাহতাআলাও কিয়ামতের দিন তার বিপদসমূহের মধ্যে বড় কোন বিপদ দূর করবেন। যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের দোষ গোপন করবে, আল্লাহ কেয়ামতের দিন তার দোষ গোপন করবেন। (সহীহ বোখারী ১২৫১)

হযরত হাম্মাদ (রা) র্কতৃক র্বণিত, তিনি বরেন, একদিন আমরা হযরত হোযায়ফা (রা) এর সাথে ছিলাম। তাঁকে বলা হল, এক লোক মানুষের কথা ওসমান (রা) এর নিকট বলে থাকে। তখন হযরত হোযায়ফা (রা) বললেন, আমি হযরত নবী করীম (সা) কে বলতে শুনেছি, চোগলখোর বেহেশতে যাবে না। (সহীহ বোখারী ৩০৯৪)

সুতরাং অন্যের দোষ বলে বেড়ানো বা অন্যের সর্ম্পকে এমন কথা বলা যা শুনলে সে কষ্ট পায় তা বলা উচিত নয়। তবে দোষী ব্যক্তির দ্বারা কারো ক্ষতি হবার আশংকা থাকলে সাবধান করার জন্য ঐ ব্যক্তিকে দোষী ব্যক্তির দোষের কথা জানানো যায়।

সুরা মুমিন-এর আয়াত ৬৭-এ আল্লাহসুবহানাহুতাআলা বলেন, “তিনিই ত তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মাটির দ্বারা, অত:পর শুক্রবিন্দু দ্বারা, অত:পর তোমাদেরকে বের করেন শিশুরূপে, অত:পর তোমরা যৌবনে পর্দাপণ কর, অত:পর র্বাধক্যে উপনীত হও। তোমাদের কারও কারও এর র্পূবেই মৃত্যু ঘটে এবং তোমরা র্নিধারিত কালে পৌছ এবং তোমরা যাতে অনুধাবন কর।”

সুরা মুমিন-এর আয়াত ৬৮-এ আল্লাহসুবহানাহুতাআলা বলেন, “তিনিই জীবিত করেন এবং মৃত্যু দেন।”
আমরা অনেকসময় বিপদ-আপদে র্ধৈয্যহারা হয়ে বলে ফেলি- আমার মরণ আসে না কেন? অথবা হে আল্লাহ! আমাকে তুলে নাও! এভাবে মৃত্যু কামনা করা উচিত নয়। কারণ মৃত্যুদানের অধিকারী তিনিই যিনি জীবনের মালিক অর্থাৎ আল্লাহসুবহানাহুতাআলা।

হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা) র্কতৃক র্বণিত, তিনি বলেন, হযরত নবী করীম (সা) বলেছেন, তোমাদের কেউ কষ্ট যাতনায় পড়ে কখনো মৃত্যু কামনা করবে না। আর যদি একান্তই মৃত্যু কামনা করতে হয়, তবে সে যেন বলে- হে আল্লাহ! যতদিন বেঁচে থাকা আমার জন্য মঙ্গলজনক হয়, ততদিন আমাকে জীবিত রাখ। আর যখন মৃত্যু আমার জন্য মঙ্গলজনক হয় তখন আমাকে মৃত্যু দাও। (সহীহ বোখারী ৩২৪৪)

রোযা রেখে মুখের অর্থাৎ জিহ্বার উপর নিয়ন্ত্রণ রাখাও আবশ্যক। আমরা যদি রোযাবস্থায়, এমনকি অন্যান্য সময়েও মৃত্যু কামনা থেকে নিজেদের বিরত রাখি আর উপরোক্ত দোয়া পাঠ করি, তবেই সুন্নাহর অনুসরণ সম্ভব হবে।
হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা) র্কতৃক র্বণিত, তিনি বলেন, হযরত নবী করীম (সা) প্রায়ই এ বলে দোয়া করতেন-
আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিনাল আজযি ওয়াল কাসালি, ওয়াল জুবনি ওয়াল হারামি ওয়া আউযু বিকা মিন আযাবিল কাবরি ওয়া আউযু বিকা ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাতি।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট অক্ষমতা, অলসতা, ভীরুতা, অতি র্বাধক্য, কবর আযাব এবং জীবন মৃত্যুর ফেতনা থেকে পানাহ চাই। (সহীহ বোখারী ৩২৪৬)
আল্লাহ আমাদের সকলের প্রতি তাঁর অনুগ্রহের হাত বাড়িয়ে দিন। আমিন।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: