হাদীসের পাতা থেকে

Permission taken from Source  http://prothom-aloblog.com/users/base/durjoy/

ওমর (রাঃ) বিন খাত্তাব হতে বর্ণিত, তিনি একদা মসজিদে নববীর মিম্বরে দাঁড়িয়ে বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)- কে ইরশাদ করতে শুনেছি; তিনি বলেছেন,”মানুষের সমুদয় কাজ নিশ্চিতভাবে তার নিয়ত অনুসারেই হয়ে থাকে। আর মানুষ যা নিয়ত করে তার তাই হাসিল হয়। সুতরাং যার হিজরত দুনিয়ার কোন উদ্দেশ্য সাধনের জন্য হয়,তা সে পেয়ে থাকে।আর যদি কোন মহিলাকে বিবাহ করার উদ্দেশে হিজরত করা হয়,তা হলেও তার হিজরত সে অনুসারেই হয়ে থাকে।”

রাসূলুল্লাহ (সঃ) রমজান মাসে চারটি কাজ বেশি বেশি করার নির্দেশ দিয়েছেন-
প্রথম কাজ- কালিমা তাইয়্যিবা বেশি বেশি পাঠ করা।
দ্বিতীয় কাজ- বেশি বেশি ইস্তিগফার পাঠ করা।
তৃতীয় কাজ- বেহেশতের জন্য আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করা।
চতুর্থ কাজ- দোযখ থেকে নাজাতের জন্য প্রার্থনা করা।

হযরত নবী করীম (সাঃ) ছিলেন দানশীল।
ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন,রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সর্বকালের সর্বযুগের সমস্ত লোকের থেকে বেশি দানশীল ছিলেন। বিশেষত তাঁর দানশীলতা অন্যান্য সময় হতে পবিত্র রমযান মাসে বেশি বেশি পরিলক্ষিত হত,যখন হযরত জিব্রাঈল (আঃ) তাঁর সাক্ষাতে আসতেন।পবিত্র রমযানের প্রতি রাতেই তিনি হুযুর (সাঃ)-এর সাক্ষাতে উপস্থিত হতেন এবং তাঁকে পবিত্র কোরআন পাঠ করে শুনাতেন। এ কারণেই রাসুল (সাঃ) মাহে রমযানে দানশীলতায় প্রবাহিত বায়ূর চেয়েও বেশি বেশি গতিশীল হতেন (অর্থাত বেশি বেশি দান করতেন)।
(ছহীহ্ বোখারী শরীফ)।

হাদীস : রাসূলুল্লাহ (সঃ) এরশাদ করেন,ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠত,আর তা হল – (১) আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই এবং মুহাম্মদ (সঃ) আল্লাহর রাসূল, এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করা। (২) নামায প্রতিষ্ঠা করা। (৩) যাকাত প্রদান করা। (৪) হজ্ব আদায় করা। এবং (৫) রমযানে রোযা রাখা।

*ঈমানের শাখা-প্রশাখাসমূহ
হাদীস : নবী করীম (সঃ) এরশাদ করেছেন,ঈমানের শাখা-প্রশাখাসমূহ ষাটের চেয়েও বেশি এবং লজ্জা ঈমানের একটি শাখা ।
প্রকৃত মুসলিমকে

হাদীস : আব্দুল্লাহ ইবনে অমর (রাঃ) নবী করীম (সঃ) থেকে রেওয়াত করেন,প্রকৃত মুসলমান সেই ব্যক্তি,যিনি অপর মুসলমানকে স্বীয় জবান এবং হাতের অন্যায় থেকে রক্ষা করেন। অর্থাৎ কথা ও কাজে অন্যকে কষ্ট দেন না। প্রকৃত মুহাজির ঐ ব্যক্তি,যিনি আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয় সমূহ পরিহার করেন। অর্থাৎ গুণাহের কাজ থেকে বিরত থাকেন।
(ছহীহ বোখারী,প্রথম খন্ড,পৃষ্ঠা-৯১)

হাদীস : আবু মুসা আশআরী (রাঃ) বলেন,সাহাবায়ে কেরাম একদা হুযুর (সঃ)-কে প্রশ্ন করলেন,ইয়া রাসুলুল্লাহ (সঃ)! ইসলামের কোন্ চরিত্র সর্বাপেক্ষা উত্তম? উত্তরে তিনি বললেন,’অন্য মুসলমানকে স্বীয় কথা ও কাজ দ্বারা কষ্ট না দেয়া।’
*লোকদের মধ্যে খাদ্য খাওয়ানো ইসলামের উত্তম চরিত্র
হাদীস : একদা এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, ইসলামের কোন্ চরিত্র উত্তম? উত্তরে রাসুল (সঃ) বললেন,’পরিচিত অপরিচিত নির্বিশেষে সকলকে খানা খাওয়ানো এবং সালাম প্রদান করা।’
* নিজের জন্য যা পছন্দ করবে অন্যের জন্যও তা পছন্দ করবে
হাদীস : আনাস বিন মালেক (রাঃ) নবী করীম (সঃ) হতে রেওয়ায়ত করেন,তিনি ইশরাদ করেছেন,তোমাদের মধ্যে কেউ পূর্ণাঙ্গ ঈমানদার হবে না যতক্ষন না সে নিজের জন্য যা পছন্দ করে,অপর মুসলিম ভাইয়ের জন্যও তা পছন্দ করে।
(ছহীহ বোখারী,প্রথম খন্ড,পৃষ্ঠা-৯

হাদীস : রাসূলুল্লাহ (সঃ) ইরশাদ করেন, তোমাদের মধ্যে কেউ পূর্ণাঙ্গ ঈমানদার হবে না,যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তার নিকট তার পিতা-মাতা,সন্তান-সন্ততি এবং সকল মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় না হই (অর্থাৎ দুনিয়ার সবকিছু হতে রাসুল (সঃ)-কে বেশি মহব্বত করাই প্রকৃত ঈমানদারের আলামত)।
* ঈমানের স্বাদ
আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) নবী করীম (সঃ)- থেকে রেওয়ায়াত করেন, তিনি বলেছেন ,’ঐ ব্যক্তি ঈমানের স্বাদ উপভোগ করতে সক্ষম, যার মধ্যে এ তিনটি চরিত্র বিদ্যমান,(১) যার কাছে অপরাপর সমুদয় বস্তূ হতে স্বয়ং আল্লাহ ও তাঁর রাসুল(সঃ) বেশি প্রিয়, (২) যে কাউকে ভালবাসে তো আল্লাহর ওয়াস্তে ভালবাসে, (৩) ঈমান গ্রহণের পর পুনরায় কুফরীর দিকে ফিরে যাওয়া এমনভাবে অপছন্দ করে, যেমন সে অগ্নিতে নিক্ষিপ্ত হওয়া অপছন্দ করে।’
(ছহীহ বোখারী,প্রথম খন্ড,পৃষ্টা ৯২)

হাদীস : হযরত ওবাদা বিন সামেত (রাঃ)- যিনি বদরী সাহাবী, তিনি আকাবার রাতের একজন নকীবও ছিলেন, তিনি বলেন, ঐ রাতে হুযুর (সঃ) সাহাবীদেরকে (যাঁরা তাঁর আশেপাশে বসা ছিলেন) লক্ষ্য করে বলেছেন, তোমরা আমার কাছে এ কথার উপর বায়াআত (অঙ্গীকার) গ্রহণ কর যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদতে তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না, যেনা করবে না, তোমাদের সন্তান-সন্ততিদেরকে হত্যা করবে না, চুরি করবে না, মিথ্যা অপবাদ রটাবে না, যা তোমরা কারো উপস্থিতি বা অনুপস্থিতিতে করে থাক।
কোন ভাল কাজে নাফরমানী করবে না, তোমাদের মধ্যে যারা এ ওয়াদাগুলো পূরণ করবে তাদের প্রতিদান আল্লাহর কাছে পাবে। কেউ যদি ভূলবশত এরূপ কোন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে আর এ জন্য দুনিয়াতে তাকে কোন প্রকার শাস্তি প্রদান করা হয়, তাহলে উক্ত শাস্তি তার জন্য কাফ্ফারা হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি কেউ এরূপ কোন অপরাধ করার পর দুনিয়াতে আল্লাহ পাক গোপন রাখেন,তবে তা আল্লাহর উপর ন্যাস্ত। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাকে ক্ষমা করতে পারেন,অন্যথায় শাস্তিও দিতে পারেন। হযরত ওবাদা (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমরা উপরোক্ত কথার উপর তাঁর নিকট বায়াআত গ্রহণ করলাম। (ছহীহ বোখারী,প্রথম খন্ড,পৃষ্ঠা-৯২-৯৩)

হাদিস: আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন,রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ইশরাদ করেছেন,এক সময় আমি নিদ্রামগ্ন ছিলাম। স্বপ্নযোগে দেখতে পেলাম, লোকদেরকে আমার সম্মুখে বিভিন্ন রকম জামা পরিধান করিয়ে উপস্থিত করা হচ্ছে। কারো জামা সিনা পর্যন্ত,কারো জামা আরো একটু নীচ পর্যন্ত বিস্তৃত।হযরত ওমর বিন খাত্তাবকে আমার সম্মুখে উপস্থাপন করা হয়েছে, তাঁর জামা এত লম্বা যে,তিনি তা নিচ থেকে উপরের দিকে উঠিয়ে রাখছেন। এতদশ্রবণে সাহাবীগণ আরজ করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ)! আপনি এ স্বপ্নের তাবীর কি করেছেন। উত্তরে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, এ দ্বারা দ্বীন বুঝানো হয়েছে (এতে বুঝা যায়,হযরত ওমর (রাঃ)-এর দ্বীনী মর্যাদা অনেক বেশি।
(ছহীহ বোখারী,প্রথম খন্ড, পৃষ্টা ৯৪)

হাদীস : আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) নবী করীম (সঃ) হতে বর্ণনা করেন,তিনি ইশরাদ করেছেন,হিসাব নিকাশের পর বেহেশতীগণ বেহেশতে এবং দোযখীগণ দোযখে প্রবেশ করবে। কিছুক্ষণ পর আল্লাহ বলবেন,যাদের অন্তরে সরিষা পরিমান ঈমান বিদ্যমান ছিল,তাদেরকে দোযখ থেকে বের কর। অতঃপর গুণাহগার বান্দাগণ দোযখের শাস্তি ভোগ করে একেবারে কালো বর্ণ হয়ে বের হয়ে আসবে। তার পর তাদেরকে বেহেশতে প্রবেশের উপযুক্ত করার জন্য বৃষ্টির পানিতে অথবা মালেকের বর্ণনা মতে,”হায়াতের নদীতে” ঢেলে দেওয়া হবে। অতঃপর তারা এমনভাবে পরিপুষ্ট ও সৌন্দর্যমন্ডিত হয়ে উঠবে,যেমনিভাবে ঢলে পার্শ্বস্থিত জমিতে তরতাজা সতেজ বীজ থেকে অঙ্কুরোদগম হয়ে থাকে। তোমরা কি দেখেছ না সে চারা গাছগুলো কেমন সতেজ ও সৌন্দর্যমন্ডিত হয়ে থাকে।
(ছহীহ বোখারী,প্রথম খন্ড,পৃষ্টা ৯৩)

হাদীস : আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) যখন সাহাবীদেরকে কোন কাজের আদেশ করতেন, তখন তাদেরকে এমন কাজের আদেশ করতেন যা তাদের সাধ্যাধীন হয়। সাহাবীগণ বলতেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা আপনার মত নই,যেহেতু মহান আল্লাহ আপনার (আউয়াল আখের) সব গুণাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন (তাই আপনার তো কোন আমলের প্রয়োজন নেই)। এ কথায় হুযুর (সঃ) খুবই রাগান্বিত হতেন। এমনকি তাঁর চেহারা মোবারকে সে চিহ্ন প্রতিভাত হত। তার পর তিনি বলতেন,আমি তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা আল্লাহভীরু এবং ‘আল্লাহ’ সম্পর্কে বেশি পরিজ্ঞাত।
(ছহীহ বোখারী,প্রথম খন্ড,পৃষ্টা ৯৩)

হাদীস : আল্লাহর রাসূল (সঃ) এরশাদ করেন, সে সময় অতি নিকটে,যে সময় মুসলমানগণ ফেতনা ফাসাদ থেকে বাঁচার জন্যে নিজের উত্তম সম্পদ বকরীগুলো নিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় অথবা আরো উর্ধ্বে গিয়ে আত্মগোপন করবে। অর্থাৎ নিজেকে ফেতনা ফাসাদ থেকে দূরে রাখা ঈমানের আলামত।
(ছহীহ বোখারী,প্রথম খন্ড, পৃষ্টা ৯৩)

হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত , রাসূলুল্লাহ (সঃ) ইরশাদ করেছেন, “তোমাদের মধ্যে থেকে যে ব্যক্তি (অপর কোনো মুসলমানের মধ্যে ) কোনো শরীয়ত বিরোধী কাজ দেখে (বা জানে ), তাহলে তার কর্তব্য হল- নিজের হাত দ্বারা তাকে সংশোধন করবে। (যেমন -বাদ্য হলে তা বিনষ্টের ব্যস্থতা করবে।নেশাদার শরাব হলে ,তা ধ্বংস করে পানাহার প্রতিরোধ করবে, ছিনতাকৃত বস্তু হলে মালিককে প্রত্যাবর্তন করবে, প্রভূতির মাধ্যমে অন্যায় ও পাপাচার প্রতিরোধ করবে।)আর যদি হাত দ্বারা সংশোধনের ক্ষমতা না থাকে ,তাহলে করণীয় হল – নিজের যবান দ্বারা তা শুধরানোর ব্যবস্থা করবে। (যেমন -তাকে ঐ কাজের কঠোর পরিণতির কথা শুনাবে,আখিরাতের ভয় দেখাবে এবং নসীহত করবে।) আর যদি যবান দ্বারাও সংশোধন করার শক্তি না থাকে , তখন,অন্তত পক্ষে অন্তর দ্বারা তাকে ঘৃনা করে তা নস্যাৎ করার ফিকির ও দু’আ করবে।আর এটা ঈমানের সবচেয়ে দুর্বলতম পর্যায়।”
(মুসলিম শরীফ,১:৫১)

হুযুর পাক (সঃ) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি শবে ক্বদরে আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখিয়া পূর্ণের আশায় ইবাদত করে তাহার পূর্বকৃত সমস্ত পাপ মা’ফ করিয়া দেওয়া হয়। (বোখারী ও মুসলিম শরীফ)
ফায়দাঃ এখানে নামায , কোরআন তেলোয়াত , যিকির সব রকম ইবাদত বুঝানো হয়েছে। পূর্ণের আশায় অর্থাৎ রিয়া ও বদ নিয়ত যেন না হয়। ঈমাম খাত্তাবী (রহঃ) বলেন, সওয়াবের এক্বীন করিয়া অন্তরের সন্তুষ্টি সহকারে দণ্ডায়মান হইবে। তবেই তো কষ্ট ক্লেশ আছান হইয়া যাইবে।
উল্লেখিত, হাদীসে ছগীরা গোনাহকে বুঝানো হইয়াছে। কবীরা গোনাহের জন্য কোরআন এর ভাষায় তওবার প্রয়োজন।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেদায়ত নছীব করুন। আমিন।

মুনাফিকের চার আলামত।
রাসূলুল্লাহ (সঃ) ইরশাদ করেন,-“যে ব্যক্তির মধ্যে চারটি বদঅভ্যাসের সমন্বয় ঘটে, সে পাক্কা মুনাফিক। আর এসব বদঅভ্যাস গুলোর মধ্যে যদি দু’-একটি পাওয়া যায় , তাহলে সে ব্যক্তিকে পাক্কা মুনাফিক বলা না গেলেও মুনাফিকের আলামতগ্রস্ত বলা হবে।উক্ত আলামত চারটি হচ্ছে- (১) তার কাছে কোন আমানত রাখা হলে, সে তাতে খিয়ানত করে। (২) কথায় কথায় মিথ্যা বলে। (৩) অনবরত ওয়াদার খেলাপ করে থাকে। (৪) কারো সাথে ঝগড়া লাগলে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করে।” (বোখারী ও মুসলিম শরীফ)
হে হেফাজত কারী ! অনুগ্রহ করো আমাদের।আমরা তোমারই সাহায্য প্রার্থনা কামনা করি। উপরোক্ত বদঅভ্যাস থেকে আমাদের কে হেফাজত করো। আমিন।

সকল তারীফ আর প্রশংসা মহান আল্লাহ তা’আলার, যিনি আমাদেরকে মাটি হতে সৃষ্টি করেছেন।
কোরআন শরীফ তেলোওয়াতে বিনিময় গ্রহনের নিষেধাজ্ঞা ও এর ভয়াবহতা সম্পর্কে তিনটি হাদীস-
১. হযরত আবদুর রহমান ইবনে শিব্‌ল(রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)কে বলতে শুনেছি , “তিনি বলেন,তোমরা কোরআন পড়ো, তবে তাতে বাড়াবাড়ি করো না। কোরআনের প্রতি বিরূপ হয়ো না। কোরআন পড়ার বিনিময় গ্রহণ করো না। কোরআন পাঠের দ্বারা সম্পদ কামনা করো না।” (মুসনাদে আহমাদ ,তয় খন্ড, ৪২৮পৃষ্ঠা।)
২. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফ্‌ফাল (রাঃ) বর্ণনা করেন, তিনি এক রমযান মাসে লোকদের খতম তারাবীহ পড়ান।অতঃপর ঈদের দিন হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ (রাঃ) তার নিকট এক জোড়া জামা ও পাঁচশত দিরহাম হাদিয়া পাঠান। তিনি সেই হাদিয়া ও বলে প্রত্যাখান করেন যে, ‘আমরা পবিত্র কোরআনের বিনিময় গ্রহণ করি না।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হয় খণ্ড, ২৯২ পৃষ্ঠা।)
৩. হযরত সুলাইমান ইবনে বুরাইদা (রাঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোরআন পড়ে মানুষের নিকট থেকে বিনিময় নিয়ে খাবে ,সে যখন হাশরের মাঠে উঠবে, তখন তার চেহারায় কোনো গোশত থাকবে না।” (বাইহাকী-শু’আবুল ঈমান, হয় খণ্ড, ৫৩২ পৃষ্ঠা।)
আল্লাহ পাক আমাদের কে ইসলামের পথে চালিত করুন। আমিন।

শবে কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।
একদা রমযান উপস্থিত হইলে হুযুর (সঃ) ইরশাদ করেন, তোমরা এমন মাস প্রাপ্ত হইয়াছে, যাহাতে এমন একটি রজনী রহিয়াছে যাহা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। যে এই পূণ্যময়ী রাত্রিতে বঞ্চিত রহিল, সে সমস্ত মঙ্গল হইতেই বঞ্চিত রহিল। যে অতি হতভাগা সে -ই উহার মঙ্গল হইতে বঞ্চিত থাকে।(বোখারী)
হে আল্লাহ! তুমি আমাদের কে ঐ পূণ্যময়ী রাত্রির রহমত থেকে বঞ্চিত করো না। আমরা যে তোমারই সৃষ্টি আর তোমারই আনুগত্য স্বীকার করছি।

হাদীস : আবদুল্লাহ বি আমর (রাঃ) বলেন, কোন এক সফরে হুযুর (সঃ) আমাদের থেকে পেছনে পড়ে গেলেন। অতঃপর তিনি আমাদের নিকট এসে পৌছলেন। ঐ সফরে আমরা নামাযে দেরী করে ফেলেছিলাম। নামাযের জন্য তাড়াতাড়ি অযু করতে গিয়ে আমাদের পাগুলো হালকাভাবে ধৌত করতে লাগলাম। হুযুর (সঃ) এ অবস্থা দেখে উচ্চ স্বরে বলতে লাগলেন, যে সকল পায়ের গোড়ালি হালকাভাবে ধৌত করা হচ্ছে , সে গুলোর জন্য দোযখের শাস্তি ও ধ্বংস অবধারিত। এ বাক্য তিনি দু’বার অথবা তিন বার বলেন। (বোখারী শরীফ,১ম/১০৪)

হাদীস : একদা নবী করীম (সঃ)এক মজলিসে সাহাবাদের সাথে কথাবার্তায় রত ছিলেন। এমন সময় হঠাৎ এক গ্রাম্য ব্যক্তি তথায় আগমন করে হুযুর (সঃ) -কে প্রশ্ন করলেন, কেয়ামত কখন সংঘটিত হবে। হুযুর (সঃ) তাকে কিছু না বলে লোকদের সাথে কথাবার্তায় রতই রইলেন। তা দেখে কেউ কেউ বললেন, হুযুর তার প্রশ্ন শুনেছেন, কিন্তু তাঁর তা পছন্দনীয় হয়নি। আবার কেউ কেউ বললেন,হুযুর তিনি তার কথা অবশ্যই শুনেছেন। ইতব্যসরে হুযুর (সঃ)সাহাবীদের সাথে কথা সমাপ্ত করে বললেন,কেয়ামত সম্পর্কে প্রশ্নকারী কোথায়? প্রশ্নকারী বললেন, হুযুর ! আমি এখানে আছি। তখন হুযুর (সঃ) বললেন, যখন আমানতের খেয়ানত করা হবে,তখন কেয়ামতের অপেক্ষা কর। অতঃপর প্রশ্নকারী বললেন, খেয়ানত কিভাবে হবে? হুযুর (সঃ) বললেন, যখন অনুপযুক্ত ব্যক্তিদের হাতে নেতৃত্ব প্রদান করা হবে, তখনই কেয়ামতের অপেক্ষা করো। (বোখারী শরীফ, ১ম/১০৪)

হাদীস : রাসূলুল্লাহ (সঃ) ইরশাদ করেন, মানুষের আমল বা কর্ম নিয়ত অনুসারে হয়ে থাকে। প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য রয়েছে তা , যা সে নিয়ত করে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য হয়ে থাকে। তার হিজরত আল্লাহ ও রাসুল (সঃ)এর জন্যই হয়। আর যার হিজরত দুনিয়ার কোন বস্তু পাওয়ার উদ্দেশে অথবা কোন মহিলাকে বিবাহ করার উদ্দেশে হয়,তার হিজরত ঐ রুপই হয়ে থাকে।
আবু মাসউদ আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত,নবী করীম (সঃ) ইরশাদ করেন,কেউ সন্তান সন্ততির জন্য কিছু খরচ করলে তা তার জন্য সদ্‌কা হিসেবে গণ্য হয়।
আবী ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সঃ) ইরশাদ করেন, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশে যদি তোমার সন্তান সন্ততির জন্য কিছু খরচ কর, তবে অবশ্যই তোমাকে তার প্রতিদান দেয়া হবে। এমন কি স্ত্রী’র মুখেও যদি তুমি খাদ্যদ্রব্য ঊঠিয়ে দাও .তবে তার প্রতিদানও তুমি অবশ্যই পাবে। (বোখারী শরীফ, প্রথম খন্ড,পৃষ্ঠা ১০৩)

হাদীস : আবু হামযা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এক সময় আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ)- এর নিকট বসা ছিলাম, তিনি আমাকে তাঁর চৌখাটের উপর বসিয়েছিলেন। তিনি আমাকে বললেন, আপনি আমার কাছে কিছুদিন অপেক্ষা করুন,তা হলে আমি মালের কিছু অংশ আপনার জন্য নির্দিষ্ট করে দেব। সুতরাং আমি তাঁর কাছে দু’মাস পর্যন্ত অবস্থান করলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন, – আবদুল কায়েস গোত্রের দূতগণ যখন রাসূলুল্লাহ (সঃ)- এর দরবারে আগমন করে, তখন তিনি তাদেরকে প্রশ্ন করলেন, তোমরা কোন্‌ গোত্র থেকে এসেছ।অথবা তোমরা কোন্‌ গোত্রের দূত ? তারা বলল, আমরা রাবিয়া গোত্রের। হুযুর (সঃ) বললেন, তোমাদের জন্য শুভ সংবাদ। এখানে তোমাদের লজ্জা শরমের কিছু নেই। অতঃপর দূতগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসুল ! আমরা আশহুরে হারাম ছাড়া আপনার কাছে আসার কোন শক্তি নেই। যেহেতু আমাদের এবং আপনার মধ্যে রয়েছে মুযার গোত্রের কাফেরগণ। তো আপনি
আমাদেরকে এমন কিছু কাজের নির্দেশ প্রদান করুন যা হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্য করে দেবে। আমাদের পেছনে যারা রয়ে গেছে আমরা তাদেরকে সে সম্পর্কে অবহিত করব এবং সে কাজের দ্বারা আমরা বেহেশতে প্রবেশ করতে সক্ষম হব। তারা হুযুর (সঃ)-এর কাছে কিছু পানীয় বস্তু সম্পর্কে জানতে চাইলেন। অতঃপর হুযুর (সঃ) তাদেরকে চারটি কাজের আদেশ এবং চারটি কাজের নিষেধ করেন। তিনি তাদের কে এক আল্লাহর উপর ঈমান আনার নির্দেশ দিয়ে বলেন, তোমরা কি জান এক আল্লাহর উপর ঈমান আনা কি? তারা বলল, আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসুল (সঃ)-ই এ সম্পর্কে ভাল জানেন।তখন হুযুর (সঃ) বললেন, আল্লাহর উপর ঈমান আনা হল, – আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নাই। এবং মুহাম্মদ (সঃ) আল্লাহর রাসুল – একথার সাক্ষ্য দেয়া এবং নামায কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা ও রমযানের রোযা রাখা।আর তোমরা গনীমতের মালের এক-পঞ্চামাংশ প্রদান করবে। হুযুর (সঃ) তাদেরকে যে চারটি কাজ নিষেধ করেন। তাহল- সবুজ রংয়ের ঘড়া, কদুর বাউস,কাঠের নির্মিত বউল এবং আলকতরা মিশ্রিত পাত্র (এ সকল পাত্রে ‘নবীয’ ইত্যাদি পান করা নিষেধ)।
আর তিনি বললেন, তোমরা এ সকল আদেশ নিষেধ রক্ষা করবে এবং যারা দেশে রয়েছে তাদেরকে অবহিত করবে। (বোখারী শরীফ, প্রথম খন্ড, ১০৩ পৃষ্ঠা)

হাদীস : নোমান বিন বশীর (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ) কে বলেত শুনেছি , হালাল ও হারাম প্রকাশ্য। তবে এ দুয়ের মধ্যে রয়েছে সন্দেহজনক কিছু বস্তু,যা অনেক লোকই জানে না। সুতরাং যে ব্যক্তি এসব সন্দেহযুক্ত বস্তু থেকে নিজেকে রক্ষা করবে, সে যেন স্বীয় দ্বীন ও ইজ্জত রক্ষা করল। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি ঐ সব সন্দেহজনক বস্তুতে জড়িয়ে পড়বে,তার উদাহরণ ঐ রাখালের ন্যায়, যে কোন সরকারী চারণভূমির আশ পাশে স্বীয় জানোয়ার গুলো চরায়। হতে পারে হঠাৎ করে তার জানোয়ারগুলো সরকারী চারণভূমিতে ঢুকেও পড়তে পারে। খবরদার! প্রত্যেক বাদশাহরই একটি চারণভূমি থাকে। তাই হে সাহাবীগণ,হুশিয়ার ! সাবধান! এ দুনিয়াতে আল্লাহর চারণভূমি হল তাঁর হারামকৃত বস্তুসমূহ। খবরদার! মানুষের শরীরে এমন একটি গোশতের টুকরা রয়েছে,যা ভাল থাকলে পূর্ণ শরীরটাই ভাল থাকবে। আর যখন তা বিনষ্ট হবে তখন পূর্ণ শরীরটাই বিনষ্ট হয়ে যাবে।মনে রাখবে, তা মানুষের ক্বল্‌ব। (অর্থাৎ অন্যায়ে জড়িয়ে পড়া থেকে সর্বদা অন্তরকে দূরে রাখতে হবে)।
(বোখারী, ১/১০১-১০২)

হাদীস : একদা নবী করীম (সঃ) সাহাবীদের উদ্দেশে মসজিদে নববীতে তাশরীফ রাখলেন। এমন সময় এক অপরিচিত ব্যক্তি হুযুর (সঃ) – এর সম্মুখে আগমন করে তাঁকে প্রশ্ন করলেন, ঈমান কি? হুযুর (সঃ) বললেন, ঈমান হল,তুমি আল্লাহ , তাঁর ফেরেশতা, আখেরাতে তাঁর সাক্ষাত এবং তাঁর রাসুলের উপর এবং পুনরুত্থানের উপর ঈমান আনবে। তার পর তিনি প্রশ্ন করলেন,ইসলাম কি? হুযুর (সঃ) বললেন, ইসলাম হল, তুমি এক আল্লাহর ইবাদত করবে,তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না।নামায কায়েম করবে,ফরয যাকাত প্রদান করবে এবং রমযানের রোযা রাখবে। তার পর আগন্তুক জিজ্ঞাসা করলেন, ইহ্‌সান কি? হুযুর (সঃ) বললেন, তুমি এ খেয়ালে আল্লাহর ইবাদত করবে যেন তুমি মহান আল্লাহকে দেখতে পাচ্ছ। যদি তুমি আল্লাহকে দেখতে না পাও ,তবে মনে রাখবে, স্বয়ং আল্লাহ তোমাকে দেখতে পাচ্ছেন।
তারপর আগন্তুক প্রশ্ন করলেন, কেয়ামত কবে হবে? হুযুর (সঃ) বললেন, প্রশ্নকৃত প্রশ্নকারী অপেক্ষা এ বিষয়ে বেশি জ্ঞাত নয়। তবে আমি তোমাকে কেয়ামতের আলামত সম্পর্কে খবর দিচ্ছি্। তা হল, বান্দী যখন তার মালিককে জন্ম দিবে,যখন নিকৃষ্ট উষ্ট্রের মালিকগণ বড় বড় অট্টালিকা বানিয়ে গৌরব করবে। পাঁচটি বস্তু এমন রয়েছে যার সম্পর্কে আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ জ্ঞাত নয়। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সঃ) নিম্নোক্ত আয়াত তেলোয়াত করেন-(বাংলা অর্থ)’মহান আল্লাহর কাছেই রয়েছে কেয়ামতের এলেম, বৃষ্টি কখন অবতীর্ণ হবে, মায়েদের রেহেমে কি রয়েছে,তুমি আগামীকাল কি করবে,কোন্‌ স্থানে তোমার মৃত্যু হবে,নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ সব কিছু ভাল জানেন ও শুনেন।’
তার পর আগন্তুক পেছনের দিকে চলে গেলেন। অতঃপর হুযুর (সঃ) সাহাবীদেরকে বললেন, তাঁকে ডেকে আন। কিন্তু সাহাবীগণ তাঁকে পেলেন না। অবশেষে হুযুর (সঃ) বললেন, ইনি হযরত জিব্রাঈল (আঃ)। তিনি এসেছিলেন মানুষদেরকে তাদের দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান দেয়ার জন্য।
বিঃ দ্রঃ আবু আবদুল্লাহ (ঈমাম বোখারী (রহঃ) বলেন, এ হাদীসে যে সব বিষয় বর্ণনা কর হয়েছে, সে সব বিষয়কে রাসুলুল্লাহ (সঃ) ঈমান বলে গণ্য করেছেন।
(বোখারী শরীফ,১/১০১)

হাদীস : নবী করীম (সঃ) ইরশাদ করেন, মুসলমানকে গালিগালাজ ফেসক এবং পরস্পরকে হত্যার চেষ্টা কুফরীর মধ্যে গণ্য। (বোখারী, ১/১০০)

হাদীস : রাসুলুল্লাহ (সঃ) ইরশাদ করেন,যে ব্যক্তি ঈমানের খাতিরে সওয়াবের আশায় কোন মুসলমানের জানাযার পেছনে পেছনে চলে, তার পর জানাযার নামায আদায় ও দাফন করা পর্যন্ত সাথে থাকে , সে দু’ক্বীরাত সওয়াব অর্জন করে বাড়ী ফিরবে। প্রত্যেক ক্বীরাত ওহুদ পাহাড় পরিমান হবে। যে ব্যক্তি কেবল জানাযার নামায আদায় শেষে চলে আসবে , সে এক ক্বীরাতের সওয়াব নিয়ে বাড়ী ফিরবে।
(বোখারী,১/১০০)

হাদীস : তালহা বিন ওবায়দুল্লাহ (রাঃ) বলেন, একদা নজদের অধিবাসী ‘যেমাম ইবনে সা’লাবা’ হুযুর (সঃ)-এর দরবারে এমন অবস্থায় হাজির হলেন,তাঁর মাথার চুল ছিল এলোমেলো। আমরা তাঁর মুখের ভাষা শুনতে পাচ্ছি,কিন্তু কি বলছেন তা বুঝতে পারছি না। এমনকি তিনি হুযুর (সঃ)-এর একেবারে নিকটে এসে বসলেন,অতঃপর তিনি হুযুর (সঃ) -কে ‘ইসলাম’ সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন। উত্তরে হুযুর (সঃ) বললেন, ইসলাম হল প্রতি দিন-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা। তারপর তিনি বললেন, এর অতিরিক্ত আমাদের উপর আর কোন নামায আছে? তখন হুযুর (সঃ) বললেন, না।তবে যদি তুমি নফল নামায আদায় কর (করতে পার)। তারপর রাসুল (সঃ) আরো বললেন,এবং রমযানের রোযা রাখা। তিনি বললেন, হুযুর! এর অতিরিক্ত আর কোন প্রকার রোযা আছে কি? হুযুর (সঃ) বললেন, অতিরিক্ত কোন রোযা নেই। তবে যদি তুমি নফল হিসেবে আদায় কর (করতে পার)। রাবী তালহা বলেন, অতঃপর হুযুর (সঃ) যাকাতের কথাও আলোচনা করেন।তারপর তিনি বললেন, এর অতিরিক্ত আর কিছু আছে কি? হুযুর (সঃ) বললেন, না। তবে যদি তুমি অতিরিক্ত দান সদকা করতে চাও করতে পার। অতঃপর লোকটি পেছনের দিকে যেতে লাগল আর বলতে লাগল,আমি যা শুনেছি এর চাইতে কিছু বাড়াব না ,কমাবো না। তার কথা শুনে হুযুর (সঃ) বললেন, লোকটি যদি সত্য বলে থাকে , তা হলে সে অবশ্যই কামিয়াব হবে। অর্থাৎ তার কথিত আমল করলে সে অবশ্যই নাজাত লাভ করবে। (বোখারী, ১/৯৯-১০০)

হাদীস : একদা হযরত ওমর (রাঃ)-কে এক ইহুদী বলল, হে আমীরুল মো’মেনীন! আপনাদের কোরআনে এমন একটি আয়াত রয়েছে,যা আপনারা সর্বদা তেলোয়াত করছেন। যদি আমাদের ইহুদীদের সম্পর্কে এ ধরনের কোন আয়াত অবর্তীন হত,তা হলে আমরা ঐ দিনটিকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করতাম। তখন ওমর (রাঃ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, সে কোন্ আয়াত? ইহুদী বলল, তা হল- (অর্থ ” আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপুর্ণতা প্রদান করেছি এবং আমার নেয়ামত তোমাদের উপর পূর্ণ পুর্ণ করেছি এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন মনোনীত করেছি” ) ।
এতচ্ছ্রবণে হযরত ওমর (রাঃ) বললেন, ঐ আয়াতটি কোন্‌ সময় কোথায় রাসুল (সঃ)-এর উপর অবতীর্ণ হয়েছিল তা আমরা জানি। সে দিনটি হল, রাসুল (সঃ) যখন আরাফাতের ময়দানে দণ্ডায়মান ছিলেন। আর তা ছিল জুমআর দিন (হযরত ওমর (রাঃ) এ বাক্য দ্বারা বুঝাতে চেয়েছেন,অবশ্যই এদিনটি ঈদ থেকে বেশি উৎসব হিসেবে গণ্য করা হয়।)
(বোখারী,১/৯৯)

হাদীস : নবী করীম (সঃ)ইরশাদ করেন, জাহান্নাম থেকে সব লোককে বের করে নিয়ে আসা হবে, যে কালেমা”লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” স্বীকার করবে এবং তার অন্তরে এক যব পরিমান নেকী বা ঈমান থাকবে। ঐ ব্যক্তিকেও জাহান্নাম থেকে বের করে নিয়ে আসা হবে। যে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ স্বীকার এবং তার অন্তরে এক গম পরিমান ঈমান থাকবে। অনূরূপ ভাবে ঐ সকল লোককেও জাহান্নাম থেকে বের করে নিয়ে আসা হবে,যারা কালেমা “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” স্বীকার করবে এবং অন্তরে এক বিন্দু পরিমান ঈমান থাকবে। (বোখারী,১/৯৯)

 

হাদীস : নবী করীম (সঃ)ইরশাদ করেন, জাহান্নাম থেকে সব লোককে বের করে নিয়ে আসা হবে, যে কালেমা”লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” স্বীকার করবে এবং তার অন্তরে এক যব পরিমান নেকী বা ঈমান থাকবে। ঐ ব্যক্তিকেও জাহান্নাম থেকে বের করে নিয়ে আসা হবে। যে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ স্বীকার এবং তার অন্তরে এক গম পরিমান ঈমান থাকবে। অনূরূপ ভাবে ঐ সকল লোককেও জাহান্নাম থেকে বের করে নিয়ে আসা হবে,যারা কালেমা “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” স্বীকার করবে এবং অন্তরে এক বিন্দু পরিমান ঈমান থাকবে। (বোখারী,১/৯৯)

 

 

 

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: