খোশ আমদেদ মাহে রমজান

Permission taken from Source  http://prothom-aloblog.com/users/base/durjoy/

হুযুর (সঃ) বলেন,আল্লাহ পাক রমজানের রোজা ফরজ করিয়াছেন এবং উহার রাত্রি জাগরণ অর্থাৎ তারাবীহ নামায কে সুন্নত করিয়াছেন। ইহা দ্বারা প্রমানিত হয় যে,তারাবীহ আল্লাহর তরফ হইতে আসিয়াছে।
হজরত মাওলানা শাহ্ আব্দুল হক মোহাদ্দেছে দেহলবী,মা ছাবাত বিছু ছুন্নাত গ্রন্থে উল্লেখ করেন যে, কোন শহরবাসী যদি তারাবীহ নামাজ ছাড়িয়া দেয়,তবে তাহাদের বিরুদ্দে সংগ্রাম করা বাদশাহের কর্তব্য। এখানে বিশেষ একটি জিনিসের প্রতি লক্ষ্য রাখিতে হইবে উহা এই যে, অনেকেরই ধারনা যে, কোন মসজিদে ৮/১০ দিন খতম তারাবিহ শুনিয়া লওয়া যথেষ্ট,কিন্তু এই রূপ ধারনা ঠিক নহে। প্রকৃত পক্ষে তারাবীহ নামাযে পুরা কোরআন শরীফ পড়া এবং শুনা একটি সুন্নত আর সম্পর্ণ রমজান মাসে তারাবীহ পড়া দ্বিতীয় সুন্নত। ৮/১০ দিন খতম তারাবীহ শুনিলে একটি সুন্নত আদায় হয় বটে,কিন্তু অপর সুন্নত আদায় হইল না । তবে যাহারা ছফর ইত্যাদির দরুন একই স্থানে খতম তারাবীহ পড়িতে অপারগ, তাহাদের উচিত কয়েকদিন কোরআন শুনিয়া লইবে এবং যেখানেই সম্ভব তারাবীহ পড়িতে থাকিবে। ইহাতে কোরআন খতমের ছওয়াবও পাওয়া গেল অপর দিকে কাজেরও কোন ক্ষতি হইল না। হুযুর (সঃ) রোজা এবং তারাবীহ ব্যতীত বিভিন্ন সৎকাজের প্রতি নির্দেশ করিয়া বলেন যে,উক্ত মাসে নফলের ছোওয়াব অন্য মাসের ফরজের সমতুল্য।(বোখারী শরীফ)

হজরত আবু হোরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে, হুজুরে আকরাম (সঃ) বলেন, পবিত্র রমজান উপলক্ষে আমার উম্মতকে পাচঁটি পুরস্কার দেওয়া হইয়াছে যাহা পূর্ববর্তী উম্মতগণকে দেওয়া হয় নাই। ১নং রোজাদারের মুখের ঘ্রাণ আল্লাহর নিকট মৃগনাভী হইতেও বেশি পছন্দনীয়। ২নং সমুদ্রের মৎস্যও রোজাদারের জন্য ইফতার পর্যন্ত দোয়া করিতে থাকে। ৩নং বেহেশত প্রতিদিন রোজাদারের জন্য সজ্জিত করা হয় এবং আল্লাহ পাক বলেন, বান্দাগণ দুনিয়ার ক্লেশ যাতনা দূরে নিক্ষেপ করিয়া অতি শীঘ্রই তোমাদের নিকট আসিতেছে। ৪নং রমজান মাসে দুর্বৃত্ত শয়তানকে শৃংখলাবদ্ধ করা হয়। যাহার দরুন সে ঐ সব পাপ করাইতে পারে না, যাহা অন্য মাসে করানো সম্ভব। ৫নং রমজানের শেষ রাতে রোজাদারের গোনাহ মা’ফ হইয়া যায়। সাহাবারা আরজ করিলেন, ইয়া আল্লাহর রাসুল! এই ক্ষমা কি শবে কদরে হইয়া থাকে? হুজুর (সঃ) বললেন, না,বরং নিয়ম হইল, মজদুর কাজ শেষ করিবার পরপরই মজদুরী পাইয়া থাকে। (বায়হাকী)

* তিন ব্যক্তির জন্য হুযুর (সঃ)-এর বদ-দোয়া।
কায়াব বিন্ উজরা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, একদা নবী করীম (সঃ) ইরশাদ করিলেন, তোমরা মিম্বরের নিকটবর্তী হও। আমরা হাজির হইলাম। অতঃপর হুযুর (সঃ) যখন মিম্বরের প্রথম সিঁড়িতে পা মোবারক রাখিলেন বলিলেন,আমিন। অর্থাৎ আল্লাহ তুমি কবুল কর। আবার যখন দ্বিতীয় সিঁড়িতে পা মোবারক রাখিলেন বলিলেন,আমিন। অর্থাৎ আল্লাহ তুমি কবুল কর।পুনরায় তৃতীয় সিঁড়িতে উঠিয়া বলিলেন, আমিন। অর্থাৎ আল্লাহ তুমি কবুল কর।
খোৎবা শেষে হুযুর (সঃ) যখন মিম্বার হইতে অবতরণ করেন, আমরা জিজ্ঞাসা করিলাম, ইয়া রাসুল(সঃ) ! অদ্য মিম্বরে উঠিবার সময় যাহা কিছু শুনিলাম, ইতিপূর্বে তাহা কখনো শুনি নাই। হুযুর (সঃ) বললেন, এইমাত্র হযরত জিব্রাঈল (আঃ) আসিয়া বলিলেন, ধ্বংস হোক ঐ ব্যক্তি, যে রমজান পাইল অথচ তাহার গোনাহ মাফ হইল না, আমি বলিলাম ‘আমিন’। অর্থাৎ তাহাই হোক। দ্বিতীয় সিঁড়িতে পা রাখিবার সময় হযরত জিব্রাঈল (আঃ) বলিলেন, ধ্বংস হোক ঐ ব্যক্তি, যাহার সামনে আপনার নাম লওয়া সত্বেও সে আপনার উপর দরুদ পড়িল না। আমি বলিলাম ‘আমিন’। অর্থাৎ তাহাই হোক। আবার তৃতীয় সিঁড়িতে পা রাখিলেই জিব্রাঈল (আঃ) বলিলেন, ধ্বংস হোক ঐ ব্যক্তি, যাহার সম্মুখে তাহার মাতা-পিতা অথবা উভয়ের একজন বার্দ্ধ্যকে পৌছিয়াছে অথচ তাহারা তাহাকে জান্নাতে পৌছাইতে পারিল না।তদুত্তরে আমি বলিলাম, আমিন। অর্থাৎ আল্লাহ তুমি কবুল কর।

* তিন ব্যক্তির দোয়া বৃথা যায় না।
আবু হোরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, হুযুর (সঃ) ইরাশাদ করেন,তিন ব্যক্তির দোয়া ব্যর্থ হইয়া যায় না। ১নং ইফতারের সময় সময় রোজাদারের দোয়া। ২নং ন্যায় বিচারক বাদশাহের দোয়া । ৩নং মজলুম বা দুস্তের দোয়া, আল্লাহ পাক তাহার দোয়া মেঘের উপর উঠাইয়া লন। আসমানের সকল দরজা তাহার জন্য খুলিয়া যায় এবং বলা হয় আমি নিশ্চয় তোমার সাহায্য করিব। তবে প্রয়োজনে তা বিলম্বও হইতে পারে।
(আহমদ)

গীবত করা ও হারাম মাল খাওয়ার কুফল।
হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, হুযুর (সঃ) বলেন, অনেক রোজাদার এমন রহিয়াছে রোজার বিনিময়ে যাহাদের অনাহারে থাকা ব্যতীত আর কিছুই লাভ হয় না। আবার অনেক রাত্রি জাগরণ কারী এমন আছে, যাহারা নিশি জাগরণের কষ্ট ছাড়া আর কিছুই পাইবে না। -(ইবনে মাজা)
আলেমগণ উক্ত হাদীসের কয়েকটি ব্যখ্যা দিয়েছেন, ১নং ঐ ব্যক্তিকে বুঝায়, যে দিন ভর রোজা রাখিয়া হারাম মাল দ্বারা ইফতার করে। আর তাই রোজা রাখার ছওয়াবের চেয়েও হারাম ভক্ষণে অধিক পাপ হইয়া গেল।যার ফলে ঐ রোজা অনাহার ছাড়া আর কিছুই লাভ হল না। ২নং ঐ ব্যক্তি যে রোজা রাখিয়া শেকায়াত গীবতে লিপ্ত হয়। ৩নং রোজা রাখিয়াও যে পাপ কার্য ত্যাগ করে না। এই ভাবে রাত্রি জাগরণের অবস্থাও শোচনীয় যদি হাসি ঠাট্টা করিয়া একটু গীবত করিয়া বসিল বা ফজরের নামাজ ক্বাজা করিয়া বসিল অথবা ছুফী আখ্যায়িত হওয়ার জন্য লোক দেখানো নিশি জাগরণ করিল এই সব সাধনা অনর্থ ও নিষ্ফল। আল্লাহ আমাদের তাঁর নির্দেশিত পথে চলার সুযোগ দান করুন,আমিন।
তথ্য-সংগৃহীত।

* রোযা ঢাল স্বরূপ।
হুযুর (সঃ) বলেন, রোযা মানুষের জন্য ঢাল স্বরূপ। যতক্ষণ পর্যন্ত উহাকে ফাড়িয়া না ফেলা হয়। -(নাছায়ী)
ফায়েদা – ঢাল হওয়ার অর্থ এই যে, মানুষ ঢাল দ্বারা যেরূপ আত্মরক্ষা করে ঠিক তদ্রূপ রোযা রাখিয়াও শয়তানের চক্রান্ত হইতে রক্ষা পায়। অন্য রেওয়ায়েতে আছে, রোযা জাহান্নামের অগ্নি হইতে মুক্তি দেয়। জনৈক সাহাবী জিজ্ঞাসা করিলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (সঃ)! রোযা কিভাবে ফাটিয়া যায় ?
উত্তরে রাসুল (সঃ) বললেন, মিথ্যা এবং গীবতের দ্বারা।
م

2 responses to this post.

  1. Posted by sadik on August 30, 2010 at 1:30 am

    alhamdulillah brother for your effort. Internet has become a good way to spread islam.

    Reply

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: