ঈমান আনা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? শেষ পর্ব

কুরআনের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে একজন মুমিন নিজেকে এমন এক অবস্থায় নিয়ে যায় যে, সে তখন অন্যের জন্য তাই ভালবাসে যা সে নিজের জন্য ভালবাসে। নিচের ঘটনাটা খেয়াল করি।

ঘটনা: এক সাহাবী তার সঙ্গীসহ বাজারে গিয়েছেন। সে এক দোকানের সামনে গিয়ে একটা জিনিসের দাম জিজ্ঞাসা করল। দোকানদার তাকে বলল যে, জিনিসটার দাম ৫ দিরহাম। সাহাবী তখন কিছুক্ষণ চিন্তা করে বলল যে, আমাকে এটি ৭ দিরহামে দিবেন? দোকানদার বলল যে, অবশ্যই দিব, আমি তো এটাকে ৫ দিরহাম দিয়েই দিতে চাই। তখন সাহাবী আরো কিছুক্ষণ চিন্তা করে বলল যে, এটা আমাকে ৮ দিরহামে দিবেন? দোকানদার তাকে একি উত্তর দিলেন। এভাবে সাহাবী শেষপর্যন্ত ১২ দিরহাম দিয়ে জিনিসটা কিনলেন। তার সঙ্গী তাকে জিজ্ঞাসা করলেন যে, যে জিনিসটা ৫ দিরহামে কেনা যেত সেটা কেন আপনি ১২ দিরহাম দিয়ে কিনলেন? সাহাবী তাকে উত্তর দিলেন, আমি চিন্তা করে দেখলাম যে, আমি যদি জিনিসটার মালিক হতাম তাহলে ১২ দিরহাম দিয়ে বিক্রী করতে পারলে আমি খুশি হতাম, তাই আমি ১২ দিরহাম দিয়ে জিনিসটা কিনেছি।

একজন মুমিন হবে এরকম।

আমরা সবাই বেহেশতে যেতে চাই। অনেকে বেহেশতে যাবার জন্য এতই পাগল থাকে যে, যদি কারো কারনে তার নামাযের ব্যাঘাত ঘটে, তাহলে তাকে মারধোর করতে পর্যন্ত দ্বিধা করে না( বাংলাদেশের পত্রিকায় পেয়েছি)। আমি এখানে বলে রাখি, ততক্ষণ পর্যন্ত কারো ঈমান পরিপূর্ণ হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে চাবে যে, তার ভাই তার আগে বেহেশতে যাক। ঈমানের স্বাদ যে পেয়েছে তার কাছে পৃথিবীর সবকিছু অর্থহীন হয়ে পড়ে। এই পৃথিবীর লোভ-লালসা, অর্থ-সম্পদ, গাড়ি, বাড়ি দ্বারা সে আর আকৃষ্ট হয় না। নতুন কোন পণ্য বাজারে বের হলেই সে সেটাকে কেনার জন্য পাগল হয় না। লোক দেখানোর জন্য সে কোন কাজ করে না। অন্যেরা তাকে সম্মান করুক, তার প্রশংসা করুক, তার সিজদা করুক সেটাও সে চায় না। কে তার উপকারে আসবে আর কে তার উপকারে আসবে না এইসব আর তার মাথাব্যথার কারন না। তার ধ্যান-জ্ঞান থাকে শুধু আল্লাহ। একজন মুমিন ব্যক্তির চরিত্র হল অসাধারন যা আমরা বেশিরভাগ সময়ই চিন্তা করতে পারি না। আর মুমিন হবার জন্য দরকার কুরআনের জ্ঞান। তবে এ কথা বলছি না যে, কুরআন না পড়লে মুমিন হওয়া যাবে না। আমি এমন মানুষ দেখেছি যারা তাদের মত করে স্রষ্টাকে পাবার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে যারা কুরআনের সন্ধান পেয়েছে, তারা যদি কুরআন থেকে জ্ঞান লাভ করতে না পারে, তাহলে সেটা হবে খুবি আফসোসের বিষয়। কুরআন তোতা পাখির মত আবৃতি করার জন্য না, এটা জ্ঞান লাভের জন্য। আসুন আমরা কুরআন পড়ি, নিজেদেরকে আল্লাহর পথে প্রতিষ্ঠিত করি।

Permission taken from Source   Mahfuz

http://share-thinking.blogspot.com/

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: